কুমিল্লার দেবীদ্বারঃ মা’-ভাতিজিকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ঘাতক ইমনের জবানবন্দী

সিটিভি নিউজ।। এবিএম আকিকুর রহমান বাশার, দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি/=====================“পায়ের ব্যাথার অসহ্য যন্ত্রনা থেকে রক্ষা পেতে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল। তার মা আত্মহত্যা করতে দেয়নি বলে ইমন তার মাকে দা দিয়ে কুপিয়ে গলাকেটে এবং ভাতিজিকে আছরে হত্যা করেছে বলে আদালতে দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। একই সাথে এ ঘটনার জন্য অঝোরে কান্না করে বলেন- আমি সর্বনাশ করেছি, তখন আমার মাথা ঠিক ছিলনা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে দেবীদ্বার থানা পুলিশ ঘাতক ইমন মিয়া(২৯)কে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারার বিধান অনুযায়ী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-৪ এর বিচারক সায়মা শরীফ নিশাতের আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জবানবন্দিতে ইমন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী রাতেই পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
ডবল মার্ডারের ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় উপজেলার ১নং বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণপাড়া মোস্তফা মাস্টারের বাড়িতে।
ঘাতক ইমন মিয়া (২৯) বড়শালঘর গ্রামের মৃত ফরিদ মিয়ার ছেলে।
নিহতরা হলেন ঘাতক ইমন মিয়ার মা’ ও মৃত ফরিদ মিয়ার স্ত্রী পিয়ারা বেগম(৬৫)। অপর নিহত ৮ মাস বয়সী ইসরাত জাহান ঘাতক ইমনের বড় ভাই সুজন মিয়ার মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ইমন মিয়া পায়ের ব্যাথার যন্ত্রণা থেকে নিস্ক্রিয় পেতে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে, মা বাঁধা দিলে, মা’কে দা’দিয়ে কুপিয় গলা কেটে এবং ভাতিজিকে আছরে হত্যা করা হয়।
তারা আরো জানান, ৪/৫ বছর পূর্বে ইমন ফুটবল খেলতে গিয়ে পায়ে ব্যাথা পায়। ২/৩ বছর পূর্বে প্রথমবার অপারেশন করার পরেও পায়ের ব্যাথা বন্ধ হয়নি। গত এক সপ্তাহে এলাকাবাসী মাধ্যমে সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে প্রায় ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে পায়ের অপারেশন করানো হয়। গতকাল বিকেলে হসপিটাল থেকে রিলিজ নিয়ে বাড়িতে ফিরে। কিন্তু পায়ের ব্যাথা বন্ধ হয়নি। পায়ের ব্যাথা নিয়ে সকালে আত্নহত্যার চেষ্টাকালে তার মা বাঁধা দেয়। মায়ের হাতে দা’ তুলে দিয়ে বলে মা’ তুমি আমাকে হত্যা করো। মা’ বলেন,- বাবা তুই সুস্থ্য হয়ে যাবি বলে ছেলেকে শান্তনা দেয়ার চেষ্টা করলে ছেলে মায়ের হাত থেকে দা’ ছিনিয়ে নিয়ে কুপিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। এ সময় ইমনের বড় ভাই সুজন মিয়ার স্ত্রী রাবেয়া বেগম তার ৮ মাস বয়সের মেয়ে ইসরাত জাহানকে কোলে নিয়ে দৌড়ে আসলে তাকেও কাঠের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে। কোলের শিশুর মাথায়ও আঘাত লেগে কোল থেকে ছিটকে পড়লে তাকে তুলে এনে আছরে হত্যা করে।
তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা বিষয়টি জানার পর আহত রাবেয়াকে কুমেক হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঘাতক ইমনকে ঘরবন্দী করে।
সংবাদ পেয়ে দেবীদ্বার সার্কেল’র সিনিয়র এএসপি মো. শাহীন, দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ইমনকে উদ্ধার করেন।
ওই ঘটনায় ঘাতক ইমনের বড় ভাই সুজন মিয়া বাদী হয়ে
ইমন মিয়া(২৯)কে একমাত্র আসামি করে দেবীদ্বার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দেবীদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো মনিরুজ্জামান জানান, আদালতে ইমন হত্যার দায় স্বীকার করেছে। নিহত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সংবাদ প্রকাশঃ ২২-০৯-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=