ভেতরে দুর্গন্ধ, বাইরে খানাখন্দ—কুমিল্লা মেডিকেলে অব্যবস্থাপনার মহাজংশন মন্ত্রীর ক্ষোভের পরও প্রশ্ন—হাসপাতালের ভেতর-বাইরের দুরবস্থা দেখবে কে?

সিটিভি নিউজ।। তৌহিদ হোসেন সরকার সংবাদদাতা জানান ============“বা!বা! কত আরামে বইয়া মিটিং করতে আছি আর মানুষ ইহানে পায়খানা করতে পারেনা। এইডার ভিতরে মানুষ ডুকলে বেহুশ হইয়া পইরা মারা যাইবো দুর্গন্ধে।”

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অভ্যন্তরের নোংরা পরিবেশ ও দুর্গন্ধ দেখে এমন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন টেকনোক্র্যাট কোটায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষিমন্ত্রী গণমানুষের নেতা মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াসিন । তিনি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন।কৃষিমন্ত্রী মহোদয় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ‘হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি’-র সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় তাকে এই পদে মনোনয়ন দিয়েছে। সম্প্রতি এই হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সভায় তিনি হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়ন, রোগীদের চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং হাসপাতালকে দালালমুক্ত করার লক্ষ্যে এক বৈঠকে এমন বক্তব্য সোসালমিডিয় ভাইরাল,
মন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর হাসপাতালের ভেতরের চিত্র নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও প্রধান ফটকের বাইরের বেহাল সড়ক, ফুটপাত দখল ও পরিবহন সংকট যেন সেই অব্যবস্থাপনার আরেকটি চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভেতরে দুর্গন্ধ, বাইরে খানাখন্দ—মাঝখানে অসুস্থ মানুষ। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের প্রতিদিনই এমন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনের সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। কোথাও উঁচু-নিচু সড়ক, কোথাও ভাঙা অংশ। ফলে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। রোগী বহনকারী রিকশা ও অটোরিকশায় প্রচণ্ড ঝাঁকুনির কারণে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের নিয়ে স্বজনদের আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে।

হাসপাতালমুখী এক পথচারীর ক্ষোভ, “নেতাগুনের সময় নাই, বুড়া মানু লইয়া কেমনে হসপিটালে যামু?”
তার এই কথার মধ্যেই যেন প্রতিদিনের দুর্ভোগের পুরো চিত্র ফুটে ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের সামনে ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা জুপড়ি দোকানগুলো কিছুদিন আগে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আবার সেখানে দোকান বসতে শুরু করেছে। স্থানীয় পর্যায়ে কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, মোটা অঙ্কের চাঁদার বিনিময়ে এসব দোকান পুনরায় বসার সুযোগ পেয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
বারবার সংবাদ, প্রতিশ্রুতিও বহুবার—কাজ কোথায়?
হাসপাতালের সামনের সড়কের দুরবস্থা নিয়ে এর আগেও একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকেও রাস্তা সংস্কার ও সিসি ঢালাইয়ের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিশ্রুতির পর প্রতিশ্রুতি এলেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের স্থায়ী অবসান হয়নি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, সংবাদ প্রকাশের পর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য আসে, সংস্কারের প্রতিশ্রুতিও আসে; কিন্তু মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসে না কেন?
এখন নির্বাচিত সরকার দায়িত্বে। সেই সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষিমন্ত্রী হাসপাতালের ভেতরের পরিবেশ নিয়ে যখন নিজেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, তখন হাসপাতালের বাইরের চিত্রও সামনে চলে এসেছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—হাসপাতালের ভেতর-বাইরের এই অব্যবস্থাপনার দায় নেবে কে?
‘এটা কোনো মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রাস্তা হতে পারে না’
একজন কলেজছাত্র বলেন, “এটা কোনো শহরের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রাস্তা হতে পারে না। কর্তৃপক্ষের কাজ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতির শেষ নাই, শুধু শেষ হচ্ছে সাধারণ মানুষের চাওয়া।”
তার ভাষায়, একজন মানুষ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসবেন, অথচ হাসপাতালের প্রবেশপথেই যদি ভোগান্তির শিকার হন, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।
টমছমব্রিজ-বাখরাবাদে বাড়তি ভাড়া
সড়কের বেহাল দশার প্রভাব পড়েছে গণপরিবহনেও। স্থানীয়দের অভিযোগ, টমছমব্রিজ থেকে বাখরাবাদ পর্যন্ত রিকশা ও অটোরিকশা যেতে চায় না। রাস্তার দুরবস্থার কারণে চালকদের যেমন গাড়ি চালাতে সমস্যা হচ্ছে, তেমনি যাত্রীদেরও গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।
একাধিক যাত্রীর অভিযোগ, রাস্তার কারণে অনেক ক্ষেত্রে ভাড়া দ্বিগুণ পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে হাসপাতালগামী রোগী ও বয়স্ক মানুষের জন্য এটি বাড়তি দুর্ভোগ তৈরি করছে।
লাখো মানুষের যাতায়াত, নজর নেই স্থায়ী সমাধানে
প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী-স্বজন, পথচারী, পরিবহন শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থী এই সড়ক ব্যবহার করেন। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগপথটির এমন বেহাল দশা দীর্ঘদিন ধরে থাকলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে নগরবাসীর মধ্যে।
নগরবাসীর দাবি, শুধু খানাখন্দে মাটি বা ইট ফেলে সাময়িক সংস্কার নয়—প্রধান ফটকের সামনের সড়কটি টেকসইভাবে সংস্কার করতে হবে। একই সঙ্গে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, অবৈধ দোকান পুনঃস্থাপন বন্ধ এবং রোগী বহনকারী যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।
কুমিল্লাবাসীর প্রশ্ন একটাই—চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসে যদি দুর্গন্ধ, নোংরা পরিবেশ, ভাঙা রাস্তা আর অতিরিক্ত ভাড়ার সঙ্গে লড়াই করতে হয়, তাহলে এই দুর্ভোগের শেষ কোথায়?
চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি একটি হাসপাতালের পরিবেশ ও যোগাযোগব্যবস্থাও রোগীর অধিকারের অংশ। তাই কুমিল্লাবাসীর প্রত্যাশা—কথা নয়, এবার দৃশ্যমান সমাধান চাই। সংবাদ প্রকাশঃ ০৬-০৯-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=

(সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like)
আরো পড়ুন