নারায়ণগঞ্জ সরকারী ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে চিকিৎসার অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগ স্ত্রী ও স্বজনদের

সিটিভি নিইজ, এম আর কামাল, নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ ===================
স্বামী নূর আলমের মৃত্যুর খবর কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্ত্রী রীতা বেগম। নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের সামনে স্বামীকে হারিয়ে তার আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। সকালে স্বামীর জন্য নাস্তা তৈরি করে দেওয়ার স্মৃতি মনে পড়তেই বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি।
বিলাপ করতে করতে রীতা বেগম বলেন, সুস্থ মানুষটা বাসা থেকে বের হইছে?। ও আল্লাহ, আমি এহন কী করমু, আমি তো আর সহ্য করতে পারতেছিনা।
স্বজন ও সহকর্মীদের জানায়, নূর আলম পেশায় একজন মেশিন অপারেটর। গত দুই মাস ধরে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে বাসা থেকে নাস্তা করে শহরের উকিলপাড়ায় নিজ কর্মস্থলে যান তিনি। সেখানে ওয়াশরুমে যাওয়ার পর হঠাৎ অচেতন হয়ে মেঝেতে পড়ে যান।
পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। স্বজনদের দাবি, জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
তবে আইসিইউতে নেওয়ার পর নূর আলমকে প্রায় ২০ মিনিট ট্রলিতে রেখে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের। তাদের দাবি, শরীর নোংরা থাকায় স্বজনদের তা পরিষ্কার করে দেওয়ার কথা বলা হয়। এর কিছুক্ষণ পরই তারা নূর আলমের মৃত্যুর খবর পান।
স্বজনদের অভিযোগ, গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আনার পরও আইসিইউতে নেওয়ার ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে। এতে চিকিৎসকদের কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
তবে স্বজনদের অভিযোগ অস্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আইসিইউ বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও নার্সরা এ বিষয়ে সরাসরি কথা বলতে রাজি হননি। তারা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. নাজমুল হুদার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
ডা. নাজমুল হুদা বলেন, প্রাথমিকভাবে রোগীর অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ায় তার শরীরের ত্বক, ঠোঁট, জিহ্বা বা নখের গোড়া নীলচে বা ধূসর বর্ণ ধারণ করেছিল। এটি সায়ানোসিসের লক্ষণ। রোগীর অবস্থা খারাপ দেখে আমিই তাকে আইসিইউতে পাঠিয়ে দিই। তাকে বাথরুম করা অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল।
তবে আইসিইউ বিভাগের সামনে নূর আলমকে ঠিক কতক্ষণ রাখা হয়েছিল কিংবা ওই সময়ে কী ঘটেছিল, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি আরএমও। চিকিৎসকদের কোনো ধরনের অবহেলা ছিল না বলেও দাবি করেন।
নূর আলমের মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনদের অভিযোগের সত্যতা এবং চিকিৎসাসেবায় কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংবাদ প্রকাশঃ ০১-০৯-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=

(সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like)
আরো পড়ুন