দেবীদ্বারে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আটক

সিটিভি নিউজ।। এবিএম আতিকুর রহমান বাশারঃ দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি/ ==============শ্রেণী কক্ষে তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রীর স্পর্শ কাতর স্থানে হাত দিয়ে উত্তক্ত করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে কোর্ট হাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে উপজেলার ব্রাহ্মণখাড়া বটতলা বাজার থেকে আটক করে পুলিশ।
যৌন হয়রানীর অভিযোগে আটক শিক্ষক মো. খোরশেদ আলম(৫০) উপজেলার ব্রাহ্মণখাড়া গ্রামের মৃত শব্দর আলীর ছেলে এবং ব্রাহ্মণখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।
গত ২৬ জুলাই দুপুরে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার বরকামতা ইউনিয়নের ১১৫ নং ব্রাহ্মনখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর পাঠদানকালে এক শিক্ষার্থী (১০)’র স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে উত্ত্যক্ত করার ঘটনা ঘটে। ওই শিক্ষার্থী ঘটনাটি তার মায়ের কাছে খুলে বলে।
ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে ওই দিন বিকেলে শিক্ষক খোরশেদ আলমকে স্কুল থেকে তুলে নিয়ে বেধরক মারধর করে। সন্ধ্যার পর দ্বিতীয় দফায় আবারও বাক্ষমনখাড়া বটতলা বাজারে বেধরক মারধর করে হাত বেঁধে ফনিন্দ্র চক্রবর্তীর চা দোকানে আটকে রাখে। বিক্ষুব্ধ জনতা শিক্ষক খোরশেদ আলমের অনৈতিক কাজের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে।
সংবাদ পেয়ে ওইদিন রাত ১১টায় দেবীদ্বার থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিক্ষককে উদ্ধার করে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
ওই ঘটনায় অভিযুক্ত খোরশেদ আলমের ছেলে আরিফ বাদী হয়ে ১০ জনকে নামে সহ অজ্ঞাত ২০/২৫ জনকে আসামী করে থানায় অভিযোগ পত্র জমা দিয়েছে। শিক্ষক খোরশেদ আলমের উপর হামলার প্রতিবাদে উপজেলা শিক্ষক সমিতির নেতাদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়।
অপরদিকে ভিক্টিমের দাদা বাদী হয়ে একই দিন খোরশেদ আলমকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতনের দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট ভিকটিমের ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয় ।
অপর দিকে হামলা, মারধর ও টাকা লুটের ঘটনায় অভিযুক্ত খোরশেদ আলমের ছেলে আরিফ কর্তৃক দায়ের করা মামলার সকল আসামি গত ৯ আগস্ট আদালত থেকে জামিনে আসেন।
উলিলেখ্য ঘটনার দিন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর ধারন করা স্বাক্ষাৎকারের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় তীব্র সমালোচনার ও নিন্দার ঝর উঠে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে শিক্ষককে বলতে শোনা যায়, আমাকে ক্ষমা করে দিন, আমি আর কখনো এমনটা করবনা। এমনকি জুয়া খেলবো না। অপর দিকে ওই ভিক্টিম শিক্ষার্থী বলতে শোনা যায়, স্যার একাধিকবার আমার বুকে হাত দিয়েছে, আমি বার বার হাত সড়িয়ে দিলেও স্যার একই কাজ করেন। স্যার প্রাইভেট পড়তে বলেন, আমি রাজী হই নাই। স্যার বলেছেন আমি তোমাকে আদর করেছি, এ কথা কাউকে বলবেনা, তাহলে আমার সম্মান থাকবেনা।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ভিক্টিম শিক্ষার্থীর দাদ কর্তৃক দায়ের করা মামলার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক খোরশেদ আলম পলাতক ছিল। গত ৩/৪ দিন ধরে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করার সংবাদে একাধিক অভিযানে তাকে পাওয়া যায়নি। আজ(২০ আগস্ট) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিদ্যালয় ছুটির পর ব্রাহ্মণখাড়া বটতলা বাজার থেকে তাকে আটক করা হয়। সংবাদ প্রকাশঃ ২১-০৮-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=