অস্ত্রসহ নূরুল আমিন গ্রেপ্তারের তথ্য, রোহিঙ্গাদের অবৈধ আশ্রয়ের অভিযোগ; কঠোর অভিযানের দাবি
সিটিভি নিউজ।। ফরহাদ রহমান রিপোর্টার কক্সবাজার ================কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালীতে অস্ত্র, মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের তৎপরতায় সন্ধ্যার পর বালুখালী খেলার মাঠ, কালভার্ট ও কবরস্থানসংলগ্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণ ও মাদক পরিবহনের মতো অপরাধের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বালুখালীর আলোচিত আজিজুল হক ওরফে জুলু ডাকাতের পরিবারের কয়েকজন সদস্য এবং তাদের ঘনিষ্ঠদের ঘিরে এই চক্রটি সক্রিয়। তাদের মধ্যে নূরুল আমিন, বাবুল, জানে আলম, রাসেল ও নূরুল সওদাগরের নাম স্থানীয়ভাবে আলোচিত। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অস্ত্রের ঘটনায় গ্রেপ্তার নূরুল আমিন
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের সময় বালুখালীতে নূরুল আমিনকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছিল।
অভিযানসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। পরে তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আরও একটি বিদেশি পিস্তল, একটি একে-২২ রাইফেল, একটি দেশীয় পিস্তল, দুটি একনলা বন্দুক, দুটি ধারালো অস্ত্র, একটি পিস্তলের ম্যাগাজিন, দুটি রাইফেলের ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ৮৯ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, দুটি কার্তুজ, দুটি ওয়াকিটকি এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধারের কথা জানানো হয়।
অভিযানের সময় সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত রাসেল নামের এক ব্যক্তি বাড়ির ছাদ থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যায় বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরে নূরুল আমিনসহ দুই সহযোগীকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, নূরুল আমিনের বিরুদ্ধে এর আগেও মাদকসংক্রান্ত ঘটনায় গ্রেপ্তারের নজির রয়েছে। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি পুনরায় এলাকায় সক্রিয় হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা
নূরুল আমিনের পরিবারের সদস্যদের নিয়েও বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান হয়েছে বলে জানা গেছে।
চলতি বছরের ৩ মার্চ উখিয়ার একটি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের সি/১৮ ব্লকসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায় র্যাব-১৫-এর সিপিসি-২। অভিযানকালে একটি দেশীয় তৈরি এলজি, একটি বিদেশি পিস্তল ও নয় রাউন্ড গুলিসহ পাঁচ রোহিঙ্গাকে আটকের তথ্য পাওয়া যায়। ওই অভিযানে বাবুল নামের এক ব্যক্তি পালিয়ে যান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গাকে মারধরের অভিযোগ
২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর বালুখালী এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের অর্থ লেনদেনকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির একটি ঘটনা ঘটেছিল বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। ওই ঘটনায় জুবায়ের নামে এক রোহিঙ্গা যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।
পরবর্তীতে তিনি ন্যায়বিচারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করার উদ্যোগ নিলে তাকে নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মারধর এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠে নূরুল আমিনের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই ঘটনায় প্রায় দুই লাখ টাকা আদায় করা হয়। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাত নামলেই বাড়ে আতঙ্ক
বালুখালী খেলার মাঠ ও আশপাশের এলাকায় রাতের বেলায় অস্ত্রধারীদের অবস্থানের অভিযোগ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, কালভার্ট ও কবরস্থানসংলগ্ন নির্জন স্থানে অবস্থান নিয়ে পথচারী ও ব্যবসায়ীদের গতিরোধ করে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে গিয়ে প্রতিশোধের আশঙ্কায় অনেকেই মুখ খুলতে চান না। ফলে অনেক ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পৌঁছায় না।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কোনো মামলায় সাক্ষী হওয়ার পর তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি ও ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনাও ঘটে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মামলার নথি ও প্রত্যক্ষ সাক্ষীদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।
রোহিঙ্গাদের অবৈধ আশ্রয়ের অভিযোগ
বালুখালী সেনা ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় রোহিঙ্গা নাগরিকদের অবৈধভাবে বসবাসের বিষয়টিও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। নূরুল সওদাগর নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিজ বাড়ির আশপাশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি খাস জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ এবং বাড়ির আঙিনায় বাঁশ, কাঠ ও ত্রিপল দিয়ে প্রায় ৩৫টি অস্থায়ী ঘর তৈরি করে সেখানে রোহিঙ্গাদের বসবাসের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের কয়েকজন মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।
যৌথ বাহিনীর উচ্ছেদ অভিযান
সেনা ক্যাম্প ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা বিবেচনায় শরণার্থী শিবিরের বাইরে অবস্থান নেওয়া রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি বালুখালী সেনা ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে শরণার্থী শিবিরের বাইরে বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আটক করে নিবন্ধিত ক্যাম্পে ফেরত পাঠানোর তথ্য পাওয়া যায়।
অভিযানের সময় অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া, সরকারি নির্দেশ অমান্য এবং অভিযানে বাধা দেওয়ার অভিযোগে কয়েকজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ড দেওয়া হয়। ওই সময় নূরুল সওদাগরকে অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
উচ্ছেদের পরও আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযান ও দণ্ডের পরও নূরুল সওদাগর তার বাড়িতে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। এতে সেনা ক্যাম্পের নিরাপত্তা, মাদক পাচার ও অবৈধ বসতি বিস্তারের ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
স্থানীয়দের ভাষ্য, বালুখালী সেনা ক্যাম্পের আশপাশে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বসতি গড়ে ওঠা এবং অপরাধীদের সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ীদের যোগাযোগ থাকলে তা সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে মাদক পাচার, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
সচেতন নাগরিকদের দাবি, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে নিরপরাধ কাউকে হয়রানি না করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বালুখালী এলাকায় অবৈধ অস্ত্র, মাদক, ছিনতাই ও অপরাধীচক্রের তৎপরতা বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও কার্যকর অভিযান পরিচালনা করবে। পাশাপাশি সেনা ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় অবৈধ বসতি ও রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংবাদ প্রকাশঃ ১৭-০৮-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ওমর ফারুকী তাপস
মোবাইল: 01711335013
www.ctvnews24.com