ডান হাতে ভাত, বাম হাতে টাকা—ঠাকুরগাঁও জেলা রেজিস্ট্রার অফিসে ঘুষ অনিয়মের অভিযোগ!

সিটিভি নিউজ।। খন্দকার দেলোয়ার হোসেন বিশেষ প্রতিনিধি ঃ ==========
সরকারি অফিসে মানুষ যায় সেবা নিতে, হয়রানি কিংবা অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার জন্য নয়। অথচ ঠাকুরগাঁও জেলা রেজিস্ট্রার অফিসকে ঘিরে উঠেছে ঘুষ ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ। সেবাপ্রার্থীদের দাবি, সরকারি নির্ধারিত ফি পরিশোধ করার পরও অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টাকা না দিলে কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক কর্মচারী এক হাতে খাবার খাওয়ার সময় অন্য হাতে টাকা গ্রহণ করছেন এবং সেই টাকা টেবিলের ড্রয়ারে রাখছেন।
দৃশ্যটি দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—একজন সরকারি কর্মচারী যদি সেবাপ্রার্থীর কাছ থেকে প্রকাশ্যেই টাকা গ্রহণ করেন, তাহলে অফিসের ভেতরে অনিয়মের পরিবেশ কতটা স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে?
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা, সময়, স্থান ও সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা না করে বিষয়টি যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।
অভিযোগ রয়েছে, জমির দলিলের নকল, রেকর্ড সংশোধনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। কেউ অতিরিক্ত অর্থ দিলে কাজ দ্রুত হয়, আর দিতে না চাইলে নানা অজুহাতে ফাইল আটকে রাখার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন সেবাপ্রার্থী।
অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা রেকর্ড কিপার আঞ্জুমান আরা সম্পর্কে সেবাপ্রার্থীরা অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগ সত্য নাকি মিথ্যা—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া উচিত।
ঘুষ কোনো সরকারি সেবার মূল্য নয়। সরকারি নির্ধারিত ফি দেওয়ার পর অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হলে তার জবাবদিহি থাকা প্রয়োজন।
সেবাপ্রার্থীকে হয়রানি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সাধারণ মানুষের কষ্টের টাকা নিয়ে যদি কেউ সরকারি সেবাকে ব্যক্তিগত আয়ের উৎসে পরিণত করে থাকেন, তাহলে তদন্তের মাধ্যমে তা বেরিয়ে আসা দরকার। আবার অভিযোগ যদি ভিত্তিহীন হয়, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া উচিত। কারণ একজন সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ যেমন গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন, তেমনি প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করাও উচিত নয়।
জেলা রেজিস্ট্রারের বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে কেউ অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করে থাকলে এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা একটাই—অভিযোগগুলো যেন ফাইলবন্দি হয়ে না থাকে। প্রয়োজন হলে নিরপেক্ষ তদন্ত হোক, সেবাপ্রার্থীদের বক্তব্য নেওয়া হোক, ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা হোক এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
সরকারি অফিস জনগণের সেবা দেওয়ার জায়গা। সেখানে ঘুষ, অনিয়ম ও হয়রানির সংস্কৃতি নয়—স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নাগরিকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। সংবাদ প্রকাশঃ ১৬-০৮-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=