বাবার মোবাইলে অনৈতিক ভিডিও: মায়ের সাথে কথা বলে ভিডিও ভাইরাল করল ছেলে; মাদ্রাসা সুপারকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দিল স্থানীয়রা

সিটিভি নিউজ।। এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি//==================
বাবার মোবাইলে অনৈতিক ভিডিও দেখে ছেলে তার মায়ের সাথে কথা বলার পর, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালে সহযোগিতা করল ছেলে।

ওই ঘটনায় মাদ্রাসা সুপার ও স্থানীয় মসজিদের ইমামকে গনধোলাই দিয়ে পুলিশে তুলে দিল স্থানীয়রা।

ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লা দেবীদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের হোসেনপুর ভূঁইয়া বাড়ির “হোসেনপুর পশ্চিম ও উত্তরপাড়া নূরে মদিনা মাদ্রাসা ও এতিমখানা কমপ্লেক্সে।তিনি ওই মাদ্রাসার সুপার ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম।

আটক হাফেজ মাওলানা মো. মিজানুর রহমান(৫০), বরুড়া উপজেলার ২ নং দক্ষিণ ভবানিপুর ইউনিয়নের পোমতলা গ্রামের মৃত: আব্দুল মান্নানের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, হাফেজ মাওলানা মো. মিজানুর রহমান ১০ ম শ্রেণীর এক ছাত্রীর সাথে অনৈতিক কাজের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকাবাসী হাফেজ মিজানুর রহমান বেধরক মারধর করে কমপ্লেক্সে আটক করে রাখে। এ সময কয়েকজন লোক তাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে ধাওয়া করে চরবাকর- হোসেনপুর সীমান্ত এলাকা থেকে ধরে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

স্থানীয় ইমরান ভূঁইয়া জানান, হাফেজ মাওলানা মিজানুর রহমান এ এলাকায় প্রায় ৩০ বছর ফতেহাবাদ মোকামবাড়ি মাদ্রাসা, হোসেনপুর ভূঁইয়াবাড়ি মাদ্রাসা এবং বর্তমান মাদ্রাসায় ৩ বছর ধরে আছেন। এরই মধ‍্যে ১৭ বছর প্রবাসে ছিলেন। প্রতিটা এলাকায় নারীগঠিত অনৈতিক কাজের অপরাধে বিতাড়িত হয়েছেন। বর্তমান ঘটনায় গত দেড়বছরে অনৈতিক কাজে যুক্ত হওয়ার অপরাধে অন্তত: ৩টি সালিস হয়েছে।

কমপ্লেক্সের বাবুর্চি মো. ইব্রাহিম জানান, মাদ্রাসার হুজুরের ছেলে সিয়াম(১২) এ মাদ্রাসায় পড়ে। সে তার বাবার মোবাইলে অনৈতিক ভিডিও দেখে তার মাকে জানায়, পরে তার বন্ধুদের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করে ভিডিওগুলো আমাকে দেয়, আমার কাছ থেকে স্থানীয় কয়েকজন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।

স্থানীয় মো. আমিন মিয়া জানান, তিনি ভিক্টোরিয়া কলেজে পড়েন। হুজুর প্রতি শুক্রবারে জামাতের মিটিং করেন। নারীদের নিয়েও কমপ্লেক্সে মিটিং করেন। বাঁধা দিলে স্থানীয় কিছু নেতা- কর্মী আমাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়্ উঠতেন।হুজুরের উপর হামলা চলাকালে এতিমখানার সকল শিক্ষার্থী চলে যায়।

চরবাকর উচ্চ বিদ‍্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী (১৫)ভিক্টিম কিশোরী জানান, প্রায় দেড়বছর ধরে হুজুর আমাকে বিরক্ত করে আসছে। আমি হুজুরের কাছে প্রাইভেট পড়া বন্ধ করে দেই। হুজুর কুফুরী কালামে আমাকে বস করে নগ্নছবি ভিডিও করে, তখন আমি অচেতন থাকতাম।

এ ব‍্যাপারে অভিযুক্ত হাফেজ মাওলানা মো. মিজানুর রহমান বলেন, প্রকাশিত ভিডিওগুলো আমার না, সেগুলো অন‍্যদের সাথে অনৈতিক কাজের ভিডিও। প্রায় দেড়বছর আগে যখন ওই ছাত্রীর পেরিওড শুরু হয়েছে তখন থেকে তাকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেই। পাশের বাড়ির সাগরদের বাড়িতে একটি বিয়ে বলে, ওই বাড়ির লোকজন রোজা নামাজ না পড়ার কারনে আমি বিয়ে পড়াইনি, তাই আমার বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তিনি আরো জানান, আমার উপর হামলার সময় আমার ছেলে সিয়াম আহমেদ(১২) নিখোঁজ রয়েছে।

এব‍্যাপারে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, কোন এক ছাত্রীর সাথে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয়রা মাদ্রাসা সুপারকে মারধর করে আটক করে রাখার অভিযোগ পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি। এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা হাফেজ মাওলানাকে নিয়ে নানাধরনের শ্লোগান দিয়ে ঘেড়াউ করে রাখার চেষ্টা করেছিল। এ ব‍্যাপারে ভিকিটিমের বাবা মামলা করলে ব‍্যবস্থা নেব।
ছবির ক‍্যাপশনঃ দেবীদ্বারে ১০ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর সাথে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয়রা “হোসেনপুর পশ্চিম ও উত্তরপাড়া নূরে মদিনা মাদ্রাসা ও এতিমখানা কমপ্লেক্স’র সুপার ও মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মো. মিজানুর রহমানের ছবি। সংবাদ প্রকাশঃ ১৫-০৮-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=

(সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like)
আরো পড়ুন