পুলিশ বলছে চেহারা বিকৃত করতে প্রথমে শরীরের চামড়া ছিলে পরে টুকরো টুকরো করা হয়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ডাস্টবিন থেকে মাথার অংশ উদ্ধার করা হয়।
সিটিভি নিউজ।। এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি/================
১৪ পলিব্যাগে মিলল বাড়ির মালিকের অর্ধশত টুকরা; মাথার অংশ পাওয়া গেলেও পাওয়া যায়নি পা’, হাত ও ওড়োর অংশ।
ওই ঘটনায় শনিবার দিবাগত রাতে নিহতার স্বামী মো. মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া(৭২) বাদী হয়ে হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে আটক লাইলী বেগম(৩৫)’র স্বীকারোক্তিতে লাইলীসহ ৪ জনকে অভিযুক্ত করে দেবীদ্বার থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলায় অভিযুক্ত ৪ আসামী হলেন, দেবীদ্বার পৌর এলাকার চাপানগর গ্রামের আবুল কালামের স্ত্রী আটক মোসাঃ লাইলী বেগম (৩৫), একই বাড়ির জহিরুল ইসলামের ছেলে মো. আমির হোসেন(২৮), মৃত ফারুক মিয়ার ছেলে মো. সোহেল(৩৫), মৃত লিলু মিয়ার ছেলে মো. রবিউল ইসলাম(২৪)।
প্রতিবেশী আমেনা বেগম জানান, গত শুক্রবার ফরিদা বেগম গহনা পড়ে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। ওই গহনা লুট করতেই ঘাতকরা এ হত্যাকান্ড চালাতে পারে বলে তিনি জানান।
মামলার বাদী মো. মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, আমি ঘটনার সময় চট্রগ্রামে কর্মস্থলে ছিলাম, গত ২২ জুলাই ঘাতক লাইলী বেগম আমার বাসার একটি কক্ষ মাসিক ১৬ শত টাকায় ভাড়া নেন। আমি বাসা মেরামত এবং স্ত্রীসহ ওমরাহ হজ পালনে ৭ লক্ষ টাকা পাঠাই, আমার ২ মেয়ে ও স্ত্রীর প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ছিল। সেগুলো ঘরে নেই। তবে একটি আলমারির চাবি পাচ্ছিনা। আলমারি খুলতে পারলেই জানা যাবে আর কি নেই।
রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত পুলিশ লাইলী বেগম ছাড়া কাউকে আটক করতে পারেনি। আটক লাইলী বেগমকে রবিবার দুপুরে কুমিল্লা কোর্ট হাজতে চালান করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বর্ণনাদিতে যেয়ে লাইলী বেগম বলেন, হত্যার সাথে সে জড়িত নয়, তবে সে লাশের মাংস ও হাড় খন্ড খন্ড করে কেটে প্যাকেটজাত করেছে। আর বাকী লোকজন ওই গৃহবধূকে বালিশ চাপায় শ্বাসরোধ করে হত্যাশেষে বাতরোমে নিয়ে শরীরের অঙ্গপতঙ্গ কেটে আলাদা করে। পরে সেগুলো পলিথিনে পুড়িয়ে বস্তাবন্দি করে ঘরের পেছনে একবস্তা রেখে বাকীগুলো কোথায় ফেলেছে আমি জানিনা। তবে কি কারনে হত্যা করা হয়েছে, খুনীদের কে ডেকে এনেছে এবং ঘাতক দলের সংখ্যা আরো বেশী ছিল কিনা ? এ বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ মুখ খুলছেন না।
বিকেলে এ রিপোর্ট লিখার সময় ঘটনাস্থলে ওসি তদন্ত মো. ইমাম হোসেনের নেতৃত্বে ৫ জন এসআই ও বেশ কিছু পুলিশ সদস্য নিহতার শরীরের অংশ বিশেষ উদ্ধার এবং বিভিন্ন স্পটে লাগানো সিসি ক্যামেরার ফুটেজ উদ্ধার ও পর্যবেক্ষণে কাজ করছেন বলে পুলিশ জানান।
কুমিল্লার দেবীদ্বারে পুলিশ রোববার (৯ আগস্ট) দিনভর অভিযানে নিহত গৃহবধূ ফরিদা বেগম(৫৫)’র বাসার পাশের ময়লার ভাগার থেকে এবং ঝোপঝার ও একটি পরিত্যাক্ত ঘরের ড্রাম থেকে দেহের খন্ডিত অংশের দুই পলিব্যাগ ভর্তি মাংস এবং নিহতার পরিধেয় কাপড় উদ্ধার করেন। এসময় ভিডিও ফুটেজ দেখে একটি ড্রেন থেকে নিহতার মাথার অংশ উদ্ধার করে পুলিশ।
গত শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোটআলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকার দেবীদ্বার দক্ষিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার মালিকানাধীন বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
হত্যার পর ঘটনা আড়াল করতে লাশ টুকরো টুকরো করে ১৪ টি পলিথিনে প্যাকেট করে বস্বাবন্দী অবস্থায় ঘরের পেছনে ও অন্যত্র ফেলে রাখে ঘাতকরা। পা’সহ কিছু অংশ এখনো উদ্ধারের বাকী রয়েছে।
ওই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনার দিন নিহতার নিজ বাসার ভাড়াটিয়া লাইলী বেগম (৩৫)কে বিক্ষুব্দ জনতা আটক করে গণধোলাই দিয়ে পার্শ্ববর্তী বালুরমাঠে একটি বৈদ্যুতিক পিলারের সাথে বেঁধে মারধর করে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা দিয়ে থানায় নিয়ে যায়।
নিহত গৃহবধূ ফরিদা বেগম (৫৫) দেবীদ্বার পৌর এলাকার ফতেহাবাদ ভূঁইয়া বাড়ির মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া(৭২)’র স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানান, নিহত গৃহবধূ ফরিদা বেগম নিজ বাসায় একা থাকতেন। প্রায় ৩০ বছর পূর্বে তারা মোহনা আবাসিক এলাকায় বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিলেন। স্বামী মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া চট্রগ্রামে জাহাজে চাকরি করেন এবং দুই মেয়ে রাবেয়া বসরী ও মরিয়ম আক্তারের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় বাড়িতে একাই বসবাস করতেন ফরিদা আক্তার। বাড়ির অন্য একটি ঘর ভাড়া দেওয়া হয় লাইলী আক্তরের নিকট। শনিবার সকালে ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার বাবার বাড়িতে এসে মাকে না পেয়ে খোজাখুজি শুরু করেন। খোজাখুজির এক পর্যায়ে শনিবার সন্ধ্যায় ফরিদা বেগমের লাশ বস্তাবন্দি অবস্থায় ঘরের পেছনে খুঁজে পান। তাদের একমাত্র ছেলে ইব্রাহীম খলিল ২০১০ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।
গত ২২ জুলাই পৌর এলাকার চাপানগর গ্রামের ট্রাক্টর চালক আবুল কালামের স্ত্রী তার স্বামীর সাথে পারিবারিক কলহের জের ধরে ওই বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন।
শনিবার সকাল থেকেই গৃহবধূ ফরিদা বেগমকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলনা। ফরিদাবেগম ডায়াবেটিসের কারনে প্রতিদিন মর্নিং ওয়ার্কে বেরুতেন। তাই তার স্বজনেরা আত্মীয় স্বজনের বাড়ি খুঁজে না পেয়ে মাইকিং করেন। থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করতে গেলে পুলিশ জিডি নেয়নি বলেও তার স্বজনেরা জানিয়েছেন। পরে বিকেলে ফরিদা বেগমের বোনের ছেলে মামুন বাসার পেছনে পলিথিনের কয়েকটি প্যাকেটে তার খন্ডিত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। ঘটনাটি জানা জানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
লাইলী বেগমকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ফরিদা বেগমকে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং তার সাথে সহযোগী কয়েকজনের নাম বলেন।
উল্লেখ্য লাইলি বেগম ২০২১ সালে ৭ নভেম্বর ভাসুর আমির হোসেনের সাথে পরকীয়ায় আপত্তিকর অবস্থায় আমির হোসেনের ৭ বছরের মেয়ে শিশু ফাহিমা দেখে ফেললে, তার পিতা আমির হোসেন তার নিজ কণ্যাকে হত্যা করে। সাথে প্রেমিকা লাইলি বেগমসহ ৫ জন ছিলেন। তারা ফাহিমাকে হত্যা করে বস্তাবন্দি করে কাচিসাইর পুলের নিচে ফেলে আসে। ওই বছরের ১৪ নভেম্ব তার বস্তাবন্দি গলিত লাশ পায়। ওই মামলায় লাইলী বেগমসহ ৫ জন আসামী গ্রেফতার হলেও ৬ বছর পর জামিনে আসে। লাইলীর স্বামী আবুল কালাম বিয়ে করে ফেললে। লাইলি ওই ভাড়া বাসায় থাকতেন।
এ ব্যাপারে দেবীদ্বার থানার ওসি মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, আসামিরা পলাতক থাকায় হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা, জড়িত এবং লাশের অংশ বিশেষ গোপন করার তথ্য সংগ্রহে সমস্যা হচ্ছে। আটক লাইলী বেগমকে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি রেকর্ড করতে কোর্টে পাঠিয়েছি। তিনি আরো বলেন, চেহারা বিকৃত করতে ঘাতকরা প্রথমে শরীরের চামড়া ছিলে পরে টুকরু টুকরু করা হয়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ডাস্টবিন থেকে মাথার অংশ উদ্ধার করা হয়। তবে পা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে। হত্যাকান্ডের রহস্য উৎঘাটনে আমাদের একাধিক টিম নানামুখী অভিযানে নেমেছে। খুব শীঘ্রই সফল হব বলে আশা করছি।
ছবির ক্যাপশনঃ হত্যাকান্ডে জড়িত আটক লাইলী বেগম(৩৫) পুলিশ থেকে সংগৃহীত ও নিহত ফরিদা বেগম(৫৫)’র ফাইল ছবি। সংবাদ প্রকাশঃ ০৯-০৮-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ওমর ফারুকী তাপস
মোবাইল: 01711335013
www.ctvnews24.com