সিটিভি নিউজ।। স্টাফ রিপোর্টার: ====================
একসময় সামান্য বৃষ্টিতেই কাদাময় ও চলাচল-অনুপযোগী হয়ে পড়ত কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বহু গ্রামীণ সড়ক। কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত, রোগীদের স্বাস্থ্যসেবায় পৌঁছানো এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে ছিল দীর্ঘদিনের ভোগান্তি। তবে সেই চিত্র এখন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের (ডিডিএম) বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভায় সড়ক, কালভার্ট, ড্রেনেজ ও অন্যান্য গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কারের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থায় এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং নিয়মিত মনিটরিং অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে প্রকল্পের কার্যকারিতা যেমন বেড়েছে, তেমনি দুর্যোগজনিত ক্ষয়ক্ষতি প্রশমনে এসব অবকাঠামো কার্যকর ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগর, উজিরপুর, কালিকাপুর, ঘোলপাশা, মুন্সীরহাট, শুভপুর, বাতিসা, গুণবতী, শ্রীপুর, চিওড়া, জগন্নাথদিঘী, আলকরা ইউনিয়ন এবং চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা-সহ বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে সড়ক ও কালভার্ট নির্মাণ, হেরিংবোন (HBB) সড়ক, গ্রামীণ কংক্রিট সড়ক এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। কোথাও কাজ শেষ হয়ে স্থানীয়দের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে, আবার কোথাও দ্রুতগতিতে নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে বর্ষাকালে গ্রামের অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে যেত কিংবা কাদামাটিতে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ত। বর্তমানে নতুন সড়ক ও কালভার্ট নির্মাণের ফলে বর্ষাকালেও যোগাযোগ অনেক সহজ হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ ও রোগীদের দুর্ভোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
কৃষকদের মতে, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণকে সহজ করেছে। এখন উৎপাদিত ফসল দ্রুত স্থানীয় ও আঞ্চলিক বাজারে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় কমছে, সময় বাঁচছে এবং কৃষক ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ বাড়ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও বলছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বাজারকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রম এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানের সুযোগও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এদিকে, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অতীতের তুলনায় অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কাজের মান নিয়ন্ত্রণ, প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরিদর্শন এবং প্রশাসনিক মনিটরিংয়ে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা, উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা নিয়মিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে কাজের অগ্রগতি ও গুণগত মান যাচাই করছেন।
জনপ্রতিনিধিরা জানান, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়নে নির্ধারিত নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের মতামত গ্রহণ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তবে স্থানীয়দের মতে, শুধু সড়ক নির্মাণই নয়, দীর্ঘমেয়াদে সড়ক টেকসই রাখতে কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক এলাকায় এখনও বর্ষাকালে পানি জমে সড়কের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ভবিষ্যতের প্রকল্প পরিকল্পনায় ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে আরও অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের এসব প্রকল্প কেবল অবকাঠামো উন্নয়ন নয়; বরং জলাবদ্ধতা হ্রাস, নিরাপদ যোগাযোগ, দ্রুত জরুরি সেবা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধার সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি দুর্যোগ সহনশীল (Disaster Resilient) গ্রামীণ জনপদ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আয়তনে বড় হওয়ায় এখনও কিছু প্রত্যন্ত এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকলে পর্যায়ক্রমে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা আধুনিক, নিরাপদ ও টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় আসবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, স্বচ্ছ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং কঠোর মনিটরিং অব্যাহত থাকলে চৌদ্দগ্রাম শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থায় নয়, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, কৃষি উৎপাদন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও স্থানীয় অর্থনীতির ক্ষেত্রেও আরও বড় পরিবর্তনের সাক্ষী হবে।
স্থানীয়দের বিশ্বাস, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের এ ধরনের জনবান্ধব উন্নয়ন প্রকল্প ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকলে চৌদ্দগ্রামের জনপদ আরও নিরাপদ, দুর্যোগ-সহনশীল এবং টেকসই উন্নয়নের একটি সফল মডেলে পরিণত হবে। সংবাদ প্রকাশঃ ০৪-০৮-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ওমর ফারুকী তাপস
মোবাইল: 01711335013
www.ctvnews24.com