৫৪ বছরে দেশের মানুষ পেয়েছে বঞ্চনা, জুলুম আর বেদনার ইতিহাস — অধ্যাপক মুজিবুর রহমান

সিটিভি নিউজ।। তৌহিদ হোসেন সরকার সংবাদদাতা জানান ================ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি বলেছেন, ৫৪ বছরে দেশের মানুষ পেয়েছে বঞ্চনা, জুলুম আর বেদনার ইতিহাস। এ অবস্থা থেকে মুক্তির আন্দোলন অব্যাহত রাখতে হবে।
রবিবার (২৮ জুন) রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের দুই দিনব্যাপী ‘লিডারশিপ ট্রেনিং ক্যাম্প-২০২৬’-এর সমাপনী অধিবেশনে বিশেষ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, একজন মুমিনের জীবনের প্রকৃত সফলতা দুনিয়ার সম্পদে নয়,বরং জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করে জান্নাত অর্জনের মধ্যেই নিহিত। মানুষ দুনিয়ায় যা ভোগ করে, তা এখানেই থেকে যায়; আর আল্লাহর পথে যা ব্যয় করা হয়, সেটিই আখেরাতের জন্য সঞ্চিত থাকে।
সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইসলামী রীতি অনুযায়ী আল্লাহর প্রশংসা এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠের মাধ্যমে বক্তব্য শুরু করা উচিত, কোনো ব্যক্তি বা নেতার প্রশংসা দিয়ে নয়।
তিনি বলেন, ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে কুরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। চিন্তা, চেতনা ও কর্মে কুরআনের প্রতিফলন ঘটাতে না পারলে প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়। মহান আল্লাহ মানুষকে কুরআন নিয়ে চিন্তা ও গবেষণার আহ্বান জানিয়েছেন। যারা কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে এবং তা জীবনে বাস্তবায়ন করে, তারাই প্রকৃত সফলকাম।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, শ্রম ও কর্মই মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি করে। যারা নিজের পরিশ্রমে জীবিকা নির্বাহ করেন, তাদের উপার্জনই সর্বোত্তম। রাসূলুল্লাহ (সা.) একজন শ্রমজীবী মানুষের পরিশ্রমে রুক্ষ হয়ে যাওয়া হাতে চুম্বন দিয়ে শ্রমের সর্বোচ্চ মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাই প্রতিটি পেশাভিত্তিক শ্রমিককে সংগঠিত করে কার্যকর কমিটি গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, সম্পদশালী ব্যক্তিদের আখেরাতে কঠিন হিসাবের মুখোমুখি হতে হবে। পক্ষান্তরে দরিদ্র মুমিনরা তুলনামূলকভাবে দ্রুত জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। তবে ঈমান, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, সৎকর্ম ও তাকওয়ার জীবন ছাড়া কেউ সফল হতে পারবে না। জান্নাত কষ্ট ও ত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত হয়, আর জাহান্নাম পরিবেষ্টিত রয়েছে প্রবৃত্তি ও কামনা-বাসনায়।
তিনি আরও বলেন, অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। হাদিসে এসেছে, কোনো মুসলমান রোগীকে দেখতে গেলে আল্লাহ তাআলা তার জন্য সত্তর হাজার ফেরেশতাকে দোয়া করার দায়িত্ব দেন।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ অন্যায়, জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আল্লাহর সাহায্যে গত জুলাই বিপ্লবে ৫ই আগস্ট দেশের তরুণরা আবাবিল পাখির মতো অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এবং গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটেছিল।
তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। নির্বাচন ছাড়া প্রশাসক নিয়োগ গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী এবং দেশের জন্য ক্ষতিকর। জনগণ একটি জবাবদিহিমূলক ও নির্বাচিত সরকার দেখতে চায়।
তিনি আরও বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন ছিল সংগ্রাম, ত্যাগ ও দায়িত্ব পালনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং দ্বীনের পথে অবিচল থাকা মৃত্যু পর্যন্ত একজন মুমিনের দায়িত্ব।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শেষ রাতে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে হবে। বেশি বেশি দোয়া ও ইবাদত করতে হবে। আল্লাহ তাআলাই মানুষের অন্তর পরিবর্তন করে দেন। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত দেশের মানুষ পরিবর্তনের প্রত্যাশায় কাজ করছে। ইনশাআল্লাহ, সত্য, ন্যায় ও কুরআনের আদর্শ একদিন বিজয়ী হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আ ন ম শামসুল ইসলাম বলেন, শ্রমিক কল্যাণের বার্তা দেশের প্রতিটি শ্রমিকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায্য দাবি আদায় এবং তাদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী ও কার্যকর ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের সুখ-দুঃখ, সমস্যা ও দুর্ভোগকে নিজেদের দায়িত্ব মনে করে কাজ করতে হবে। তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন-সংগ্রাম পরিচালনা করতে হবে। সংগঠনের প্রতিটি নেতাকর্মীকে শ্রমিকদের পাশে থেকে তাদের আস্থা অর্জন এবং কল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা শাহজাহান বিশেষ অতিথি বক্তব্যে বলেন , শিরক ও বিকৃত ইসলামের বিরুদ্ধে আদর্শিক লড়াই জোরদারের করতে হবে, প্রকৃত ইসলামের আদর্শ থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে রাখতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। মাজারকেন্দ্রিক শিরকের প্রচলন এবং বিকৃত ইসলামের প্রসার সেই ষড়যন্ত্রেরই অংশ। ইসলামের লেবাসধারী কিছু ব্যক্তিকে ব্যবহার করে ইসলাম সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা সমাজকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করছে।
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। পবিত্র কুরআনে তাঁকে উত্তম চরিত্রের অধিকারী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। নেতৃত্ব, বিনয়, আত্মসমর্পণ, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন।
মাওলানা শাহজাহান বলেন, আল্লাহর কাছে পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণের অন্যতম শর্ত হলো সর্বক্ষণ আল্লাহভীতি, আন্তরিক ইবাদত এবং অহংকারমুক্ত জীবন। নেতৃত্বের দায়িত্ব পালনকারীদের নিজেদের জীবনকে রাসূল (সা.)-এর আদর্শে গড়ে তুলতে হবে এবং সমাজের জন্য আলোকবর্তিকায় পরিণত হতে হবে।
তিনি বলেন, মানুষের প্রতি কল্যাণের আহ্বান জানানো, ভালো কাজের উপদেশ দেওয়া এবং নিজ জীবনে কুরআনের শিক্ষা বাস্তবায়ন করা প্রত্যেক দায়িত্বশীলের কর্তব্য। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব শতভাগ পালন করে গেছেন এবং প্রস্তুতি, ত্যাগ ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে দ্বীনের বিজয় প্রতিষ্ঠা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, কুরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। শুধু তিলাওয়াত নয়, ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে কুরআনের শিক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে। রাসূল (সা.) রাতের ইবাদতকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন এবং বাস্তব জীবনে আদর্শ মানুষ গড়ে তুলেছিলেন। তাই কর্মীদেরও মজবুত আকিদা ও নৈতিক ভিত্তির ওপর গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় নেতৃত্বে নৈতিক বিচ্যুতি দেখা দিলে সংগঠন বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
তিনি বলেন, ইসলাম মধ্যপন্থার শিক্ষা দেয়। বাড়াবাড়ি, একদেশদর্শিতা, সংকীর্ণতা ও চরমপন্থা পরিহার করে ভারসাম্যপূর্ণ জীবনই ইসলামের সৌন্দর্য। মধ্যপন্থাই নিরাপদ দর্শন এবং মুসলিম উম্মাহর বৈশিষ্ট্য।
মাওলানা শাহজাহান বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) পারিবারিক জীবনেও ছিলেন আদর্শ। তিনি স্ত্রীদের গৃহকর্মে সহযোগিতা করতেন এবং বিনয়, নম্রতা ও উত্তম আচরণের মাধ্যমে মানুষের হৃদয় জয় করেছেন। নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখতে কেবল কর্তৃত্ব নয়, বরং যোগ্যতা, দক্ষতা, সুন্দর ব্যবহার ও ক্ষমাশীলতা অপরিহার্য।
তিনি বলেন, ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং মানুষের সঙ্গে কোমল আচরণ করতে হবে। পবিত্র কুরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষমাশীল হতে হবে, মানুষের জন্য দোয়া করতে হবে এবং জাহেলদের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে না জড়িয়ে সৌজন্যের সঙ্গে সরে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) মানুষের কষ্ট ও প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতেন। এমনকি শিশুর কান্না শুনে তিনি নামাজ সংক্ষিপ্ত করার নজির স্থাপন করেছেন। কর্মীদের প্রতিও কখনো কঠোর বা বিরূপ আচরণ করা যাবে না; বরং বিনয়, নম্রতা, সালাম ও মুসাফাহার মাধ্যমে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, জীবনের ছোট ছোট আমল ও কাজকে গুরুত্ব দিতে হবে। অনর্থক কথা ও কাজ পরিহার করতে হবে। নিয়মিত কিয়ামুল লাইলের অভ্যাস গড়ে তুলে আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট সময় ব্যয় করতে হবে। রজনীর নির্জনতায় আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি ও দোয়ার মাধ্যমেই প্রকৃত সফলতা অর্জন সম্ভব।
সবশেষে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড—সর্বত্র নৈতিকতার প্রভাব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাহলেই আদর্শ নেতৃত্ব গড়ে উঠবে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

কেন্দ্রীয় সভাপতি এডভোকেট আতিকুর রহমান এর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন
ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল জেনারেল ম্যানাজার ও বাংলাদেশ হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী এডভোকেট শহিদুল ইসলাম ভুঁইয়া,
বাংলাদেশ শ্রম সংস্কার কমিশন প্রধান এবং বিলস এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ,
কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক লসকর মো. তসলিম সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী, রেলওয়ে এমপ্লয়িজ লীগ সভাপতি আখতারুজ্জামান, লেবার কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসাইন প্রমুখ। সংবাদ প্রকাশঃ ২৮-০৬-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=

(সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like)
আরো পড়ুন