বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় গার্মেন্টস সেক্টরের প্রতিনিধি সভা

সিটিভি নিউজ।। বাজেটে শ্রমিকদের বৈষম্য দূর করার কার্যকর উদ্যোগ নেই–
অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান=============
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় গার্মেন্টস সেক্টরের প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেছেন, “শ্রমিকের ঘামেই দেশের অর্থনীতি সচল থাকলেও জাতীয় বাজেটে তার যথাযথ প্রতিফলন নেই।”
১৮ জুন বৃহস্পতিবার ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত প্রতিনিধি সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতি ও শিল্পখাতের প্রধান চালিকাশক্তি শ্রমিক শ্রেণি হলেও জাতীয় বাজেটে তাদের ন্যায্য মূল্যায়ন প্রতিফলিত হয়নি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের যে খাতের শ্রমিকদের অবদানে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়, সেই শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে বাজেটে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়ে গেছে।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে সরকারি হিসাব অনুযায়ী ১৪৯ জন শ্রমিক শহীদ হয়েছেন, যার মধ্যে দুজন নারী শ্রমিকও ছিলেন। এছাড়া ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১-এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শ্রমজীবী মানুষের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তিনি নূর হোসেনের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, একজন শ্রমজীবী ভ্যানচালকও গণতন্ত্রের সংগ্রামে প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।
শিল্পায়ন, রপ্তানি বৃদ্ধি ও জাতীয় উন্নয়নে শ্রমিকদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন রাখেন, দেশ ও অর্থনীতি এগোলেও শ্রমিকদের জীবনমান কতটা উন্নত হয়েছে।
তিনি বলেন, ১০ বছর আগে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বাজেট ছিল ২৬৩ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের প্রায় ০.০০৬ শতাংশ। এবারের বাজেটে বরাদ্দ বেড়ে ৪৬৭ কোটি টাকা হলেও তা মোট বাজেটের মাত্র ০.০০৪ শতাংশ। একই সময়ে দেশের শ্রমশক্তিতে প্রায় দুই কোটি নতুন শ্রমিক যুক্ত হয়েছে। ফলে প্রকৃত অর্থে শ্রমখাতের বরাদ্দ কমেছে।
ন্যূনতম মজুরি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০১৬ সালে পাঁচ সদস্যের একটি শ্রমিক পরিবারের মাসিক ব্যয় ছিল ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা, অথচ ন্যূনতম মজুরি ছিল মাত্র ৫ হাজার টাকা। বর্তমানে একই পরিবারের মাসিক ব্যয় ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে, কিন্তু ২০২৩ সালে নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি মাত্র ১২ হাজার ৫০০ টাকা। ফলে শ্রমিকরা তাদের প্রয়োজনীয় ব্যয়ের অর্ধেকও উপার্জন করতে পারছেন না।
বাজেট প্রণেতাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, শ্রমিকবান্ধব মানসিকতার অভাবের কারণে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি ও প্রয়োজনগুলো বাজেটে যথাযথ গুরুত্ব পায় না।
তিনি জানান, বাজেট ঘোষণার আগেই শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ন্যূনতম মজুরি কাঠামোর সংস্কার, শ্রমিক সুরক্ষা তহবিল গঠন এবং মজুরি সুরক্ষা প্রকল্প চালুর প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু এসব বিষয়ে বাজেটে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।
নারী শ্রমিকদের জন্য পরিবহন সুবিধা, ডে-কেয়ার সেন্টার ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি মাতৃত্বকালীন সুবিধা, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ শ্রমিক অপুষ্টিতে ভুগছেন। শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা, শিল্পাঞ্চলভিত্তিক হাসপাতাল ও সহজ চিকিৎসা সুবিধার দাবিও দীর্ঘদিনের। কিন্তু এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবারের বাজেটে উপেক্ষিত হয়েছে।
আবাসন সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান মজুরিতে অনেক শ্রমিক পরিবারকে একটি ছোট কক্ষে গাদাগাদি করে বসবাস করতে হয়। অন্যদিকে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও বাসাভাড়া বৃদ্ধি পেলেও শ্রমিকদের মজুরি সেই অনুপাতে বাড়েনি।
আতিকুর রহমান বলেন, “আমরা যে বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি, সেই বৈষম্য এখনও বহাল রয়েছে। এবারের বাজেট শ্রমিকদের সেই বৈষম্য দূর করতে পারেনি।”
তিনি আরও বলেন, দেশে প্রায় ৪২টি শ্রমিক ফেডারেশন রয়েছে। শ্রমিকদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে এবং সমস্যা চিহ্নিত করার পাশাপাশি সমাধানের পথও খুঁজে বের করতে হবে।
সভায় বাংলাদেশ প্রগতিশীল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা মিঠু সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও গাজীপুর মহানগর গার্মেন্টস সেক্টরের সভাপতি ফারদিন হাসান হাসিব, বিজিএমইএ সদস্য আরিফুল হক, গার্মেন্টস সেক্টরের সহ-সম্পাদক খোরশেদ আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। সংবাদ প্রকাশঃ ১৮-০৬-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=

(সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like)
আরো পড়ুন