৭ লাখ মানুষের ভরসা এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’ মুরাদনগর সরকারি হাসপাতালে ১০৯টি পদ শূন্য, অচল এক্স-রে ও অপারেশন থিয়েটার

সিটিভি নিউজ।। বিল্লাল হোসেন, মুরাদনগর (কুমিল্লা) থেকে ঃ কাগজে-কলমে এটি একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু বাস্তব চিত্র দেখলে একে স্বাস্থ্যসেবার কেন্দ্র না বলে ‘সংকটের মহাসমুদ্র’ বলাই শ্রেয়। কুমিল্লার বৃহত্তম উপজেলা মুরাদনগরের ২২টি ইউনিয়নের প্রায় ৭ লাখ মানুষের সরকারি চিকিৎসাসেবা পাওয়ার একমাত্র ভরসাস্থল এখন নিজেই যেন ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে। তীব্র জনবল সংকট, অচল যন্ত্রপাতি আর পরিত্যক্ত আবাসনের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে ভেঙে পড়েছে এখানকার চিকিৎসাসেবা।
হাসপাতালের প্রশাসনিক খতিয়ান ঘাঁটলেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে ভেতরের কঙ্কালসার অবস্থা। ২৮২টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে কাজ করছেন মাত্র ১৭৩ জন। অর্থাৎ, প্রায় ৪০ শতাংশ পদই শূন্য! এরমধ্যে ১০ জনের কনসালটেন্টের মধ্যে রয়েছে ৫ জন, ৪৫ জন মেডিকেল অফিসারের বিপরীতে আছেন ২৩ জন (এর মধ্যেও কয়েকজন বিনা অনুমতিতে নিখোঁজ, কয়েকজন ডেপুটেশনে আছেন), ৪২ জন নার্সের জায়গায় আছেন ২৮ জন, ২৯ জন চতুর্থ শ্রেণির আয়া/ওয়ার্ডবয় পদে আছেন মাত্র ১৪ জন।
বিশাল এই হাসপাতাল চত্বর সামলানোর জন্য পরিচ্ছন্নতাকর্মী আছেন মাত্র দুইজন! আর পুরো হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুদায়িত্ব সামলাচ্ছেন মাত্র একজন নিরাপত্তাকর্মী। প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ অসহায় মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন একটু সুস্থতার আশায়। কিন্তু এসে তাদের মুখোমুখি হতে হয় চরম বাস্তবতার।
এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন আছে, কিন্তু এক্স-রে টেকনিশিয়ান ও দক্ষ অপারেটর নেই। ফলে বছরের পর বছর ধরে রোগীরা এই পরীক্ষাগুলোর জন্য প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে পকেটের টাকা খোয়াচ্ছেন। প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে কোটি টাকার অপারেশন থিয়েটারটি কার্যত অচল ও ধুলোবালিমাখা ঘরে পরিণত হয়েছে।
চিকিৎসক-কর্মচারীদের আবাসন সংকট এখানে চরম। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার কোয়ার্টারগুলো দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত। গত দুই বছর ধরে বারবার আবেদন করেও কোনো কাজ হয়নি। ভবনগুলো সংস্কার না করায় এখন সেগুলো ঝোপঝাড়ে ছেয়ে গেছে, যা হাসপাতালের ভেতরেই একটি নোংরা ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করেছে। “সাত লাখ মানুষের জন্য এই হাসপাতাল তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়। ডাক্তার নাই, পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ, তাহলে হাসপাতাল খোলা রাখা হয়েছে কেন? ভূক্তভোগিদের প্রশ্ন।
সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত জাহান বলেন, “সীমিত জনবল নিয়ে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। কিন্তু শূন্য পদ এত বেশি যে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে, এখনো কোনো কার্যকর সমাধান আসেনি।”
তবে আশার বাণী শুনিয়েছেন কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর বশির আহমেদ। তিনি বলেন,”সরকার স্বাস্থ্য খাতে ৫ হাজার চিকিৎসক ও নার্সসহ প্রায় এক লাখ জনবল নিয়োগের বড় উদ্যোগ নিয়েছে। আশা করছি আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে মুরাদনগরের এই বড় সংকট অনেকাংশে দূর হবে।”
আশ্বাসের বাণী শুনতে শুনতে ক্লান্ত মুরাদনগরবাসী। তাদের দাবি খাতায়-কলমে উদ্যোগ নয়, দ্রুত ডাক্তার-টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিয়ে সচল করা হোক এক্স-রে আর অপারেশন থিয়েটার। তা না হলে এই ৭ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। সংবাদ প্রকাশঃ ১৪-০৬-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=