সাবেক এমপি বাহার মাদরাসা বন্ধের বক্তব্যের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

সিটিভি নিউজ।। কুমিল্লা সদরের সাবেক এমপি বাহাউদ্দীন বাহার ফেসবুকে মাদরাসা বন্ধের ঘৃণ্য বক্তব্যদেয়ার প্রতিবাদে এবং কুমিল্লার আপামর জনগণকে হুমকি প্রদানের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করে আজ ১১ জুন কুমিল্লা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা জেলা কওমী মাদ্রাসা সংগঠনের যুগ্ন সেক্রেটারী ও মহানগর সেক্রেটারী মুফতী শামছুল ইসলাম জিলানী। তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন,
গত কয়েকদিন আগে গণঅভ্যুত্থানে পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সাবেক বিতর্কিত সংসদ সদস্য বাহাউদ্দীন বাহার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এক টকশোতে দেশের ঐতিহ্যবাহী মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার মতো চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ, ঘৃণ্য ও ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য দিয়েছে। একই সঙ্গে সে কুমিল্লার বীর জনগণকে প্রতিশোধের হুমকি ও ধমকি দিয়ে শান্ত কুমিল্লাকে পুনরায় অশান্ত ও রক্তাক্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। তার এই উসকানিমূলক ও সন্ত্রাসীসুলভ বক্তব্যে কুমিল্লার শিক্ষিত সুশীল সমাজ এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র গণবিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
উপস্থিত সুধী, আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, তার এই কুৎসিত বক্তব্য দেশের স্বীকৃত শিক্ষাব্যবস্থা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং কোটি কোটি মুসলমানের ঈমানি অনুভূতির বিরুদ্ধে এক চরম উসকানি। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন মন্তব্য নয়, বরং দেশকে অস্থিতিশীল করা, অরাজকতা সৃষ্টি এবং একটি গৃহযুদ্ধ বাধিয়ে দেওয়ার গভীর রাষ্ট্রদ্রোহী ষড়যন্ত্রের অংশ।
বাংলাদেশের মাদরাসাসমূহ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক শিক্ষা, উচ্চ নৈতিক চরিত্র গঠন, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরিতে অনবদ্য ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থার একটি অবিচ্ছেদ্য ও রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত অংশ হিসেবে মাদরাসাগুলো লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীকে সুশিক্ষিত করে সমাজ বিনির্মাণে অবদান রাখছে। এমন বাস্তবতায় মাদরাসা বন্ধের কুৎসিত আহ্বান কেবল একটি শিক্ষাব্যবস্থার বিরোধিতা নয়; বরং তা ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ, সাংবিধানিক অধিকারের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর বিশ্বাস ও অস্তিত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। এ ধরনের উগ্র ও উসকানিমূলক বক্তব্য জাতীয় ঐক্য, সামাজিক সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক সহাবস্থানের জন্য এক মারাত্মক হুমকি।
সাংবাদিক বন্ধুরা, কুমিল্লার সর্বস্তরের মানুষ ভালো করেই জানে যে, বাহাউদ্দীন বাহার দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার রাজনৈতিক অঙ্গনে এক চরম দাম্ভিক, স্বৈরাচারী, গডফাদার ও পরিবারতন্ত্রের কালো প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত ছিল। বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনামলে তার প্রত্যক্ষ ইন্ধনে ও নেতৃত্বে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, খুন, গুম, ক্যাডার রাজনীতি, টেন্ডারবাজি এবং হাজার হাজার কোটি টাকা লুটের ও অর্থপাচারের অকাট্য তথ্য বারবার গণমাধ্যমে উন্মোচিত হয়েছে।
জনগণের তীব্র রোষানল থেকে বাঁচতে কাপুরুষের মতো দেশ ছেড়ে পালিয়েও তার স্বভাবসুলভ ঔদ্ধত্য কমেনি। আমাদের ধারণা ছিল, গোপনে সপরিবারে পলায়নের পর সে হয়তো নিজের অতীত পাপ ও জুলুমের জন্য অনুতপ্ত হবে। কিন্তু এই ঘৃণ্য বক্তব্যের মাধ্যমে কুমিল্লার মাটিতে তার রাজনৈতিক জীবনের চিরতরে ‘অপমৃত্যু’ ঘটল। যে ব্যক্তি নিজে দিনের পর দিন জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে, ভোট চুরির সংস্কৃতি চালু করে অবৈধভাবে এমপি-মেয়র পদ দখল করে রেখেছিল, তার মুখে দেশের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাব্যবস্থা বিলুপ্তির ধৃষ্টতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
জনগণ কর্তৃক সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যাত ও ধিক্কৃত হয়ে পলাতক অবস্থায় থেকে মাদরাসাবিরোধী এবং শান্তিপ্রিয় জনগণের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বিষোদ্গার মূলত তার চরম রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও মানসিক বিকৃতিরই বহিঃপ্রকাশ। দেশের ধর্মপ্রাণ তৌহিদী জনতা, আলেম-উলামা, বুদ্ধিজীবী এবং সচেতন সমাজ এই বিষাক্ত বক্তব্য কখনোই মেনে নেবে না। তার ঘৃণিত বক্তব্যে কুমিল্লার আপামর জনগণের মধ্যে এতটাই তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে যে, এই গণশত্রু ও গণহত্যাকারীর লাশও কুমিল্লার মাটিতে দাফন করতে দেওয়া হবে কি না—তা নিয়ে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে চরম অনীহা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
আমাদের স্পষ্ট দাবি, পলাতক ও ফেরারি আসামি বাহাউদ্দীন বাহারকে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক পুলিশি সহযোগিতার (ইন্টারপোল) মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে, ইসলাম ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি তথা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
অন্যথায়, দেশের ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষা, শিক্ষাব্যবস্থা হেফাজত এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে এই উগ্রবাদী ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে রাজপথে দেশব্যাপী কঠোর, আপসহীন ও সর্বাত্মক প্রতিরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করতে আমরা বাধ্য হব।
পরিশেষে, আমাদের এই যৌক্তিক দাবি ও কথাগুলো আপনাদের স্বনামধন্য গণমাধ্যমে যথাযথভাবে তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে আপনারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্হাপন করেন কুমিল্লা জেলা কওমী মাদ্রাসা সংগঠনের যুগ্ন সেক্রেটারী ও মহানগর সেক্রেটারী মুফতী শামছুল ইসলাম জিলানী।
উপস্থিত ছিলেন সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা আঃ কুদ্দুস সাহেব। সভাপতিত্ব করেন ও দুআ করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি ও মহানগর সভাপতি হাঃ মাও মুনীর হুসাইন ।আরো উপস্থিত ছিলেন সুপরিচিত মাও আনিসুর রহমান আশরাফী, হাঃ আজীজুল হক , মাও তৈয়ব , মাও খলীলুর রহমান, ( সভাপতি আসলে সুন্নত ওয়াল জামাত ইমাম পরিষদ,) মাও আবুল হাসান রাজাপুরী,মাও আবুল কাশেম, জনাব আবু তাহের,মাও আবুল খায়ের, মাও রফীকুল ইসলাম,মাও আঃ কুদ্দুস, মাও ইলিয়াস ,মাও জিয়া উদ্দীন গালিব, মাও যুবাইর সহ জেলার বিভিন্ন স্তরের উলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতা। সংবাদ প্রকাশঃ ১১-০৬-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=