কুমিল্লাঃ
দেবীদ্বারে পুলিশের তান্ডবে ৫ ঘরবাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ- ভোক্তভূগীদের:
অভিযোগের তদন্তে গিয়ে মব সন্ত্রাসের স্বীকার ৩ পুলিশ -অভিযোগ পুলিশের:
সিটিভি নিউজ।। এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি/ ================কুমিল্লার দেবীদ্বারে রাস্তা ব্যবহারে বাধা দেয়ার অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে মব সন্ত্রাসে এক এসআইসহ ৩ পুলিশ সদ্যস্য আহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ পুলিশ ৩ দফা অভিযান চালিয়ে অন্তত ৫টি বাড়ি- ঘরে হামলা ভাংচুরসহ রান্না ঘরের চুলা ও ভাত-তরকারির ডেক-ডেক্সি ভাংচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয় পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে বেড়াতে আসা ৩ নারী মেহমান ও এক গৃহবধূসহ ৫ জনকে বেধরক পেটান পুলিশ। ওই ঘটনায় এক গৃহবধূ ও বেড়াতে আসা ৩ নারীসহ ৫ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুর ১২ টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ইউছুফপুর ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে। গ্রেফতার আতঙ্কে ওই গ্রামের ৫ পরিবারের লোক শুন্য হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার (২২ মে) সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় পুলিশের তান্ডবে কয়েকটি ঘরবাড়ি, দরজা, জানালা, আসবাবপত্র, রান্নাঘর, মাটির চুলা, ভাত ও তরকারির ডেক ডেক্সি ভাংচুর ও রান্না করা খাবার ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকার চিত্র দেখা যায়।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের প্রতিবেশী আকলিমা আক্তার নামে এক নারী বাড়িতে ধান চুড়ানোর মেশিন নিয়ে যাওয়ার সময় প্রতিবেশী আইয়ুব, রাসেল বাধা প্রদান করেন। এই ঘটনায় ভোক্তভূগী আকলিমা আক্তার দেবীদ্বার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশ ওই অভিযোগের ঘটনা তদন্তে এসে রাসেল, আইয়ূবকে আটক করে জোরপূর্বক থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে স্থানীয় সফিকুল ইসলাম নামে এক প্রতিবেশী পুলিশকে উভয়ের সাথে কথা বলে সঠিক তদন্ত করার কথা বলেন। এ সময় পুলিশ তাকে (সফিককে) লাঠি দিয়ে আঘাত করে। সফিকের স্ত্রী হালিমা আক্তার স্বামীকে কেন আঘাত করেছে বলতে গেলে তাকেও লাথি দেয় পুলিশ। পরে এ নিয়ে পুলিশ ও উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে দেবীদ্বার থানা উপ পরিদর্শন(এসআই) আবু তাহের হাতে আঘাতপ্রাপ্ত এবং সঙ্গীয় দুই পুলিশও আহত হন। পুলিশ নিরুপায় হয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
বিকেল ৩টায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে রাসেল, আইয়ূব, সফিক তাদের আটকের চেষ্টা চালান। তাদের না পেয়ে ফের বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুলিশ তাদের বাড়িতে অভিযানের নামে ভাংচুর চালায়। এসময় তারা ঘরবাড়ি, দরজা, জানালা, আসবাবপত্র, রান্নাঘর, রান্নার মাটির চুলা, রান্না করা ভাত-তরকারির ডেকচি ভাংচুর করে।
তবে ঘটনাস্থলে সরেজমিনে যেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রায় ৫টি পরিবারের নারী, পুরুষ, শিশুরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়।
এ ব্যপারে সফিকের পিতা আব্দুল আলীম(৭৫) জানান, রাস্তা ব্যবহারে কোন বাঁধা ছিলনা, পারিবারিক দ্বন্দ্বকে ঘিরে আকলিমা থানায় রাস্তা নিয়ে অভিযোগ করলে পুলিশ তদন্তে এসে আমাদের বাড়ির নারী, পুরুষ এমনকি ববুড়িচং উপজেলা ও চরবাকর থেকে বেড়াতে আসা ৩ নারীকে পুলিশের লাঠিপেটাই নয়, তাদের বেধরক লাঠি পেটা এবং টানা হেচরা করে থানায় নিয়ে যায়। সাথে এক গৃহবধূ ও আরো ৩ জনসহ ৫ জনকে থানায় নিয়ে যায়। গভীর রাতে দেনদরবার করে তাদের ছাড়িয়ে আনা হয়।
এবিষয়ে এসআই আবু তাহের জানান, প্রতিবেশীর চলাচলের রাস্তা বন্ধের লিখিত অভিযোগের তদন্তে গিয়ে অভিযুক্ত প্রতিপক্ষের মব সন্ত্রাসের শিকার হয়ে তিনিসহ ৩ পুলিশ আহত হয়েছেন। ঘরবাড়ি ভাংচুরের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলেও তিনি জানান।
এ ব্যাপারে দেবীদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, এক নারীর অভিযোগের সত্যতা তদন্তে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিপক্ষ অভিযোগের বাদীর উপর চড়াও হয় এ সময় তাকে রক্ষা করতে যেয়ে এসআইসহ ৩ পুলিশ আহত হয়। তিনি বাড়িঘরে হামলা ভাংচুরের ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, পুলিশ আসামী ধরতেগেলে পুলিশ দরজা খোলার জন্য লাঠি দিয়ে আঘাত করে। আমি রাতে যেয়ে ভাংচুরের কোন ঘটনা দেখি নাই। নারী পুলিশসহ ঘটনাস্থল থেকে ৫ জনকে আটক করে থানায় আনার পর জিজ্ঞাসাবাদে ওরা ঘটনায় জড়িত নয়, ৩ নারী মেহমান ছিল। তাদের মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেয়া হয়। সংবাদ প্রকাশঃ ২২-০৫-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ওমর ফারুকী তাপস
মোবাইল: 01711335013
www.ctvnews24.com