ঢাকার কুতুব হজরত শাহ আলী বাগদাদী রাঃ’র মাজারে হামলায় জড়িতদের শাস্তি দাবী

সিটিভি নিউজ।। প্রেস বিজ্ঞপ্তি ================
ঐতিহাসিক সুফি ব্যক্তিত্ব ঢাকার কুতুব হজরত শাহ আলী বাগদাদী রাঃ’র মাজারে হামলায় জড়িতদের শাস্তি দাবী করেছে কুমিল্লা জেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ মাজার, দরগাহ সুরক্ষার উদ্দেশ্যে সরকারের প্রতি ৫টি দাবি পূরণের আহবান জানিয়েছেন। গত ১৪ মে ২০২৬ বৃহস্পতিবার রাত ১১:৩০ মিনিটে ঢাকার মিরপুরে ঐতিহাসিক হযরত শাহ আলী বাগদাদী রাঃ’র মাজারে সহিংস কায়দায় হামলা চালিয়েছে একদল উচ্ছৃঙ্খল ও উন্মত্ত যুবক। হামলার মাধ্যমে মাজারে থাকা ফকিরদের মারধর ও মাজার সংলগ্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে। উক্ত হামলার গভীর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি হামলায় অংশগ্রহণকারী ও নেপথ্যে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান কুমিল্লা জেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত নেতৃবৃন্দ। হযরত শাহ আলী বাগদাদী রাঃ’র মাজার এলাকার সংসদীয় আসন ঢাকা-১৪ এর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম হামলার নিন্দা বা প্রতিবাদ জানানোর পরিবর্তে মাদকবিরোধী অভিযান বলে হামলার ন্যায্যতা প্রদান করেছেন। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের একজন আইনপ্রণেতা ও প্রধান সারির দায়িত্বশীল ব্যক্তির এমন বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। হামলার পক্ষে বৈধতা উৎপাদনে একজন সংসদ সদস্যের এমন বক্তব্য মাজার, দরগাহ, খানকায় ধারাবাহিক হামলাকে উৎসাহিত করবে বলে মনে করছে কুমিল্লা জেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত নেতৃবৃন্দ। হামলা বিষয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবস্থান ও বক্তব্যও অসংলগ্ন। পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার বলেন, মাজার এলাকায় পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গেলে সেখানে কিছু উৎসুক মানুষ নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করে। পরে পুলিশ সেখান থেকে ফিরে আসে। একইসাথে কোনো অভিযান চালানোর কথা অস্বীকার করে দারুস সালাম জোনের সহকারী কমিশনার ইমদাদ হোসেন বিপুল বলেন, মাজারে তো আমরা অভিযান চালাইনি। রাতে যেটা দেখলাম যে, জামায়াত-শিবিরের পোলাপান মনে হয় ব্যক্তিগত উদ্যোগে অভিযান চালিয়েছে। এখানে পুলিশের কোনো ইনভলমেন্ট নেই। বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট যে, এক্ষেত্রে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সমন্বয় নেই যা আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় অত্যন্ত জরুরী। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন অসংলগ্ন, সমন্বয়হীনতাও হামলাকারীদের প্রকারান্তরে উৎসাহিত করবে বলে মনে করে কুমিল্লা জেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত নেতৃবৃন্দ। হযরত শাহ আলী বাগদাদী রাঃ একজন ঐতিহাসিক সুফি ব্যক্তিত্ব। ১৫ শতাব্দীতে তিনি বাগদাদ শরীফ থেকে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে বাংলায় আগমন করেন এবং বাংলার বহু স্থান অতিক্রম করে ঢাকার মিরপুরে এসে বসতি স্থাপন করেন। ইতিহাসবিদদের মতে, তিনি বৃহত্তর ঢাকার অন্যতম প্রাচীন ও প্রসিদ্ধ সুফি সাধক। তাঁর দরগাহে স্থাপিত মসজিদটিও ঐতিহাসিক। সুলতান শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহ ৮৮৫ হিজরী মোতাবেক ১৪৮০ সালে উক্ত মসজিদ নির্মাণ করেন। প্রত্নতাত্ত্বিক দিক থেকে এর ঐতিহাসিক মূল্য অসামান্য। ঢাকার অন্যতম বৃহৎ মিরপুর নগর আবাদ হয়েছে হযরত শাহ আলী বাগদাদী রাঃ’র মাজারকে কেন্দ্র করেই। দুঃখজনক হলেও সত্য, এই ঐতিহাসিক সুফি সাধকের মাজারেই এমন ন্যক্কারজনক হামলা সংঘটিত হয়েছে। এই হামলার মধ্য দিয়ে বাংলায় ইসলাম প্রচারের ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের স্মৃতি, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী বিষয়কে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে তা দিবালোকের মতো স্পষ্ট। অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের আমলে ৯৭টি মাজারে হামলার প্রমাণ পেয়েছে কুমিল্লা জেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত নেতৃবৃন্দ। ৯৭টি হামলার ঘটনায় ৩জন নিহত ও ৪৬৮জন আহত হয়েছেন। যে ঘটনাগুলোতে মামলা দায়ের হয়েছে সেগুলোরও কার্যকরী অগ্রগতি নেই। জনস্বার্থ বিবেচনায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঘোষিত দলীয় ইশতেহারে যেন হামলার শিকার মাজার, খানকাহ, দরগাগুলোকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, পুনঃসংস্কার কার্যক্রম এবং সার্বিকভাবে দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের উল্লেখ করা হয় এই অনুরোধ জানিয়েছেন কুমিল্লা জেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত নেতৃবৃন্দ। মাজারে হামলার ঘটনায় অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের ধারাবাহিকতায় সরকারের সদিচ্ছা ও কার্যকরী সমাধানের দৃশ্যমান গাফিলতির ফলেই হযরত শাহ আলী বাগদাদী রাঃ’র মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের মাজারে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করে কুমিল্লা জেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত নেতৃবৃন্দ। মাজার কেবল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয় বরং বাংলার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সেতুবন্ধন হিসেবে হাজার বছর ধরে কার্যকরী ভূমিকা রাখছে। ধারাবাহিক ও সঙ্ঘবদ্ধভাবে মাজারে হামলার ফলে বাংলাদেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জনস্বার্থ বিবেচনায় হামলার শিকার মাজার, খানকাহ, দরগাগুলোর ক্ষতিপূরণ প্রদান, পুনঃসংস্কার কার্যক্রম এবং সার্বিকভাবে দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানায় কুমিল্লা জেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত নেতৃবৃন্দ। মাজারে হামলার ঘটনা রোধকল্পে ও সংশ্লিষ্ট সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে অবিলম্বে সুফি-সমাজের মতামতের ভিত্তিতে মাজার, দরগাহ সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন চায় কুমিল্লা জেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত নেতৃবৃন্দ। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে এজন্য জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং মাজারে হামলার ঘটনার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় নীতিমালা প্রণয়ন উভয়ই অত্যন্ত জরুরী। কুমিল্লা জেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত নেতৃবৃন্দ আশা করছে, জনস্বার্থ বিবেচনায় সরকার অবিলম্বে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করবে। বাংলাদেশের মাজার, দরগাহ সুরক্ষার উদ্দেশ্যে সরকারের নিকট কুমিল্লা জেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত নেতৃবৃন্দ ৫টি দাবি উত্থাপন করেছে, ১. মাজার, দরগাহ সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় নীতিমালা প্রণয়ন করা। ২. প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয়, সুফি সমাজের প্রতিনিধি ও মানবাধিকার কর্মীদের সমন্বয়ে জাতীয় মাজার, দরগাহ সুরক্ষা কমিটি গঠন করা। ৩. উক্ত কমিটির আওতায় অতীতে হামলার শিকার সকল মাজার, দরগাহ, খানকার সরকারি তালিকা প্রকাশ ও ক্ষতিগ্রস্ত মাজার, দরগাহ, খানকার যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা। ৪. মাজারে হামলার ঘটনায় অদ্যাবধি যত মামলা হয়েছে সকল মামলা দ্রুত ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। ৫. বাংলাদেশের সকল দরবার, দরগাহ, মাজার, খানকাহকে একটি নেটওয়ার্কের আওতায় এনে তাঁদের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনায় সকল প্রকার নিরাপত্তা এবং জাতীয়, রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। কুমিল্লা জেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত নেতৃবৃন্দ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে অদ্যাবধি ধারাবাহিক ও সঙ্ঘবদ্ধভাবে মাজারে হামলার মাধ্যমে বিনষ্ট হওয়া ধর্মীয় সহাবস্থান, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার করে একটি সামাজিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ পুনর্গঠনে উত্থাপিত ৫টি দাবি অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। কুমিল্লা জেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করছে, বাংলাদেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং ভারসাম্যপূর্ণ সমাজব্যবস্থা ও শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার এই ৫টি দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। কুমিল্লা জেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত এর অফিস সেক্রেটারী আলহাজ্ব শাহ মোহাম্মদ ইউনুছ গাফ্ফারী বখ্শী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই কথা জানানো হয়।
== বার্তাপ্রেরক====আলহাজ্ব শাহ মোহাম্মদ ইউনুছ গাফ্ফারী বখ্শী মোবাইল: ০১৭১১-৩৭৩৮৩১ সংবাদ প্রকাশঃ ১৭-০৫-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=