কুমিল্লায় নীলাচল বাসের চাপায় ঝরে গেল দুই তরুণের প্রাণ জাপান যাওয়ার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে আরেক বন্ধু

সিটিভি নিউজ।। সৌরভ মাহমুদ হারুন।। সংবাদদাতা জানান ============
তারা ছিল তিন বন্ধু, কিন্তু সম্পর্কটা ছিল আপন ভাইয়ের মতো। একই ভবনের ভিন্ন ফ্ল্যাটে বসবাস, একই শিক্ষাজীবন, একই স্বপ্ন আর একসঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়ার অঙ্গীকার। উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের নতুন দিগন্ত খুলতে তারা একসঙ্গে সম্পন্ন করেছিল আইইএলটিএস (IELTS)। লক্ষ্য ছিল—আগামী আগস্টে জাপানে পাড়ি জমানো।
কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস! ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নীলাচল পরিবহনের একটি বেপরোয়া বাস মুহূর্তেই তিন বন্ধুর স্বপ্ন রক্তাক্ত করে দেয়। প্রাণ হারান দুই বন্ধু, আরেকজন এখনো হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।
গত ১ মে শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলে করে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে আলেখারচর বিশ্বরোডের দিকে যাচ্ছিলেন প্রান্ত, নাহন ও সিয়াম। পথে আমতলী এলাকায় একটি ট্রাককে ওভারটেক করতে গিয়ে নীলাচল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস তাদের মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়।
ঘটনাস্থলেই নিহত হন মোটরসাইকেলের চালক প্রান্ত। তিনি আদর্শ সদর উপজেলার শিমপুর এলাকার সার্জেন্ট নজরুল ইসলামের ছেলে। গুরুতর আহত হন নাহন ও সিয়াম।
আহত নাহন হোসেনকে দ্রুত কুমিল্লা থেকে ঢাকার অরোরা স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়া হয়। টানা ১২ দিন আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিহত নাহন (২২) বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের খাড়াতাইয়া গ্রামের নোয়াখালীর সেনবাগ থানায় কর্মরত এসআই নোমান হোসেনের ছেলে। ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়া বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“তিনজনেরই স্বপ্ন ছিল একসঙ্গে জাপানে যাবে। আইইএলটিএসও শেষ করেছিল। কিন্তু একটি বেপরোয়া বাস আমাদের সব স্বপ্ন কেড়ে নিল।”
অপর আহত সিয়াম (২২) বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার আবু কাউসার ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি বর্তমানে সিএমএইচ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, নিহত প্রান্ত ও আহত সিয়াম ক্যান্টনমেন্ট ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। অন্যদিকে নাহন ক্যান্টনমেন্ট বয়েজ স্কুল থেকে ২০২১ সালে এসএসসি এবং কুমিল্লা সরকারি কলেজ থেকে ২০২৩ সালে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। তিন বন্ধুই একসঙ্গে এসএসসি ও এইচএসসি শেষ করে বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে আইইএলটিএস সম্পন্ন করেছিলেন।
স্বজন ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বেপরোয়া গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সেই অব্যবস্থাপনার বলি হলো তিন তরুণের স্বপ্নভরা জীবন।
নাহনের পিতা এসআই নোমান হোসেন জানান, দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাসটি ময়নামতি হাইওয়ে ক্রসিং থানা পুলিশ জব্দ করলেও চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে।
এদিকে, দুই তরুণের মৃত্যু এবং আরেকজনের সংকটাপন্ন অবস্থার খবরে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। যে তিন বন্ধু একদিন একসঙ্গে জাপানের স্বপ্ন দেখেছিল, আজ তাদের সেই স্বপ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রক্তাক্ত পিচঢালা পথেই থেমে গেল।
ক্যাপশন ১ নিহত প্রান্ত, ২ নিহত নাহন হোসেন ৩ আহত সিয়াম । সংবাদ প্রকাশঃ ১২-০৫-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=

(সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like)
আরো পড়ুন