সিটিভি নিউজ।। মোহাম্মদ মাসুদ মজুমদার: সংবাদদাতা জানান ============
লক্ষ্যে অবিচল থাকা, নিরলস পরিশ্রম, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং নিজের স্বপ্নের প্রতি অটুট বিশ্বাস—এই চার শক্তিকেই সঙ্গী করে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছেছেন কুমিল্লার মেধাবী তরুণ নূরে আলম পারভেজ। টানা ৪৩তম থেকে ৪৬তম বিসিএস পর্যন্ত অংশ নিয়ে প্রতিবারই প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শেষ পর্যন্ত ৪৫তম বিসিএসে অর্জন করেছেন বহুল কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ পুলিশ ক্যাডার। বর্তমানে তিনি সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
নূরে আলম পারভেজ কুমিল্লার ঝলম-মহিদপুর গ্রামের সন্তান। বাবা আবু তাহের মিয়াজী দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন, বর্তমানে গ্রামের বাজারে ব্যবসা করেন। মা ওয়াজেদা বেগম একজন গৃহিণী। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট। বড় ভাই ইউরোপ প্রবাসী এবং দ্বিতীয় ভাই সিঙ্গাপুরে কর্মরত একজন প্রকৌশলী।
তার সাফল্যের পেছনে পরিবারের ত্যাগ ও ভালোবাসার গল্পও অনন্য। বড় দুই ভাইয়ের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে ছোট ভাইয়ের স্বপ্নপূরণের পথ সহজ করেছে। বই কেনা, কোচিং, থাকা-খাওয়ার খরচ—সবসময় পাশে থেকেছেন তারা। অন্যদিকে মা ছিলেন তার সাহসের সবচেয়ে বড় শক্তি। ব্যর্থতার সময় মায়ের সান্ত্বনা আর দোয়া তাকে নতুন করে লড়াইয়ের শক্তি দিয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ জীবনযাপনের শিক্ষা বাবার কাছ থেকেই পেয়েছেন। বাবার সংযম, ধৈর্য ও আদর্শ কঠিন সময়েও তাকে অটল থাকতে সহযোগিতা করেছে। তার বাবা সবসময় চাইতেন, তিন ভাই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নিজেদের পছন্দের পথে সফল ক্যারিয়ার গড়ে তুলুক।
শিক্ষাজীবনে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন সানরাইজ কিন্ডারগার্টেনে। পরে ঝলম উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং কুমিল্লা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজে বিবিএ এবং হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্টে এমবিএ সম্পন্ন করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের তৃতীয় বর্ষে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, বিসিএস ক্যাডার হবেন। এরপর শুরু হয় কঠোর অধ্যবসায়ের পথচলা। প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পড়াশোনা করতেন। দিনে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা পড়া ছিল তার নিয়মিত অভ্যাস।
বিসিএস যাত্রা নিয়ে নূরে আলম পারভেজ বলেন, “বিসিএস পরীক্ষার প্রতিটি ধাপই সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রিলি, লিখিত ও ভাইভা—প্রতিটি ধাপেই নিজের সক্ষমতার পরিচয় দিতে হয়। লিখিত ও ভাইভায় ভালো করতে হলে চিন্তাশক্তিকে প্রসারিত করতে হবে, সৃজনশীল মানুষ হতে হবে। শুধু গৎবাঁধা বই পড়ে তা সম্ভব নয়। যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি থাকতে হবে। রাষ্ট্র, সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি ও সংস্কৃতি সম্পর্কেও জ্ঞান থাকা জরুরি।”
নবীনদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “বুঝে বুঝে পড়ার বিকল্প নেই। অনুশীলনের পাশাপাশি প্রশ্ন সমাধান করতে হবে। কোচিংয়ে ভর্তি হওয়া জরুরি নয়। পড়াশোনায় ধারাবাহিক হতে হবে। বিসিএসের পাশাপাশি একাধিক বিকল্প হাতে রাখতে হবে, যেন হতাশ হতে না হয়।”
তার সাফল্যের ধাপগুলোও অনুপ্রেরণাদায়ক। ৪৩তম বিসিএসে নন-ক্যাডার থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে সুপারিশ পান। ৪৪তম বিসিএসে আনসার ক্যাডারে সহকারী পরিচালক পদে সুযোগ পান। অবশেষে ৪৫তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে নির্বাচিত হয়ে সহকারী পুলিশ সুপার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
কুমিল্লার গ্রামবাংলা থেকে উঠে আসা এই তরুণের গল্প এখন হাজারো চাকরিপ্রার্থীর জন্য অনুপ্রেরণা। স্বপ্ন দেখুন, লেগে থাকুন, পরিবারের ভালোবাসাকে শক্তি বানান—জয় একদিন আসবেই। সংবাদ প্রকাশঃ ২৪-০৪-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ওমর ফারুকী তাপস
মোবাইল: 01711335013
www.ctvnews24.com