দেবীদ্বার পাওনা টাকা আদায়ে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ: গ্রেফতার-২

সিটিভি নিউজ।। এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, কুমিল্লাঃ দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি/================
কুমিল্লার দেবীদ্বারে পাওনা টাকা আদায়ে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে জমি ব্যবসায়িকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার বন্ধুদের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে দেবীদ্বার পৌর এলাকার বালিবাড়ি গ্রামের মোবারকের বাড়িতে।
নিহত জমি ব্যবসায়ি জহিরুল ইসলাম সরকার (৫০) মুরাদনগর উপজেলার ধামঘর গ্রামের আব্দুল আলীমের ছেলে। তিনি দেবীদ্বার পৌর এলাকার মোহনা আবাসীক একায় বসবাস করে জমি বেঁচা-কেনার ব্যবসা করতেন।
ওই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মাফুজা আক্তার বাদী হয়ে বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে বালিবাড়ি গ্রামের ওয়াহেদ ফকিরের ছেলে মোবারক হোসেন ও মোবারক হোসেনের ছেলে আশিকুর রহমানসহ ৫ জনকে অভিযুক্ত করে দেবীদ্বার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ৩৩।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমি কেনাবেচার পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে মঙ্গলবার বিকেলে বালিবাড়ী গ্রামের মোবারক ও শাহীনসহ কয়েকজন যুবক জহিরুল ইসলাম সরকারকে তার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। প্রথমে ভিরাল্লা বাস স্টেশন এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় সন্ধ্যায় জহিরুলকে দেবীদ্বার পৌর এলাকার বালিবাড়ি মোবারক হোসেনের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠে।
একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে রাত ১০ টায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকসা যোগে তাকে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জহিরুলকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় মরদেহ নিয়ে আসা মোবারক, শাহীন ও আশিকসহ তিন জন পালানোর চেষ্টা করলে নিহতের স্বজনরা তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে আটক মোবারক ও তার ছেলে আশিককে কুমিল্লা কোর্ট হাজতে চালান করা হয়। অপর আটক শাহীনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক রাখা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। একই গিন সকালে নিহত জহিরুলের লাশ ময়না তদন্তের জন্য কুমেক হাসপাতালে প্রেরন করা হয়।
নিহতের স্ত্রী মাহফুজা আক্তার বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে মোবাইল ফোনে কল পেয়ে তার স্বামী বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। রাতে হাসপাতাল থেকে ফোন পেয়ে তিনি সেখানে গিয়ে স্বামীর মরদেহ দেখতে পান। জমি বিক্রির লেনদেন নিয়ে তার স্বামীর সাথে দ্বন্দ্ব ছিল বলে জানান তিনি। এসময় তিনি স্বামী হত্যার বিচার দাবী করেন।
এ নিয়ে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, নিহত জহিরুল ইসলাম সরকারের বিরুদ্ধে এলাকায় জাল দলিল ও জমি কেনাবেচায় এবং বিদেশে লোক পাঠানোর নামে প্রতারণার একাধিক অভিযোগ ছিল। একই জমি একাধিক ব্যক্তির নিকট বিক্রিরও অভিযোগ রয়েছে। একাধিক ব্যক্তিরা তাকে প্রতিনিয়ত মোহনা আবাসিক এলাকায় খুঁজতে আসেন। প্রায়ই সে পলাতক থাকত। এ ছাড়া জমি বেচাকেনায় জহিরুলের সেল্টারে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে তাকে ডেক নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে, তারাও জহিরের বন্ধু ও পাটনার ছিল।
সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ আয়োজিত একটি নাগরিক সমাবেশেও তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছিলেন। সে সময় সংসদ সদস্য অভিযুক্ত জহিরুলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে বুধবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এটি হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ওই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ২ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ছবির ক্যাপশনঃ দেবীদ্বারে পাওনা টাকা আদায়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার শিকার জহিরুল ইসলাম সরকারের সংগৃহীত ছবি। সংবাদ প্রকাশঃ ২২-০৪-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=