ওয়াই ডাব্লিউসিএ কুমিল্লার প্রতিষ্ঠাতা ইলা রায়ের বিদায়ে প্রার্থনা থেকে স্মৃতিচারণ

সিটিভি নিউজ।। নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কুমিল্লায় ওয়াই ডাব্লিউসিএ -এর প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক ইলা রায়কে শেষ বিদায় জানাতে দিনভর আয়োজন করা হয়েছে প্রার্থনা ও স্মৃতিচারণের অনুষ্ঠান। শনিবার সকাল ১০টায় তাকে দাফনের আগে ওয়াইডব্লিউসিএ কুমিল্লার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় এক প্রার্থনা সভা, যেখানে সহকর্মী, স্বজন এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে আবেগঘন ও শোকাবহ।
প্রার্থনা সভায় রিকাবীবাজার ব্যাপ্টিস্ট চার্চের ফাদারসহ ধর্মীয় ও সামাজিক অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব অংশগ্রহণ করেন। এ সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত ডাব্লিউসিএ -এর প্রতিনিধি, সংগঠনের সদস্যবৃন্দ এবং ইলা রায়ের পরিবারের সদস্যরা তাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। সারা বাংলাদেশের ওয়াইডাব্লিউসিএ শাখাসমূহ, কুমিল্লা ব্যাপ্টিজ চার্চ, মহিলা ফেলোসীপ, ইয়ুথ গ্রুপ, কুমিল্লা ওয়াইডাব্লিউসিএ, ওয়াইডাব্লিসিএ হাইস্কুল, জুনিয়র স্কুল, অবৈতনিক স্কুল, পরিবেশ ক্লাব, স্বাস্থ্য ক্লাব, সাংস্কৃতিক ক্লাবসহ নানা প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয় সম্মান ও শ্রদ্ধা। আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরাও উপস্থিত থেকে শেষ বিদায়ে অংশ নেন।
প্রার্থনা শেষে তাকে শাসনগাছা খ্রিষ্টান কবরস্থানে দাফন করা হয়। সেখানে উপস্থিত সবার মাঝে নেমে আসে গভীর নীরবতা, যা ইলা রায়ের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হয়ে ওঠে।
একইদিন সন্ধ্যা ৭টায় ওয়াইডব্লিউসিএ প্রাঙ্গণে আয়োজিত হয় স্মৃতিচারণ সভা। এই আয়োজনে ইলা রায়ের ব্যক্তিজীবন ও কর্মজীবনের নানা দিক উঠে আসে অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্যে। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তার সঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতি ভাগাভাগি করেন।
স্মৃতিচারণ পর্বে বক্তব্য দেন জামাতা জুলিয়াস অধিকারী ও দেবর পাস্টোর আলফ্রেড রায়। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে অনুভূতি প্রকাশ করেন মেঝ নাতি নীলাদ্রি দাস। এছাড়া টিনা অধিকারী (বড় মেয়ের ননদ), ছোট মেয়ে বৈশাখি রায়, ছোট নাতনি জোসেফিন রয়সহ পরিবারের সদস্যরা আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন।
এ সময় স্থানীয় ওয়াইডাব্লিউসিএর প্রেসিডেন্ট সিনথিয়া পোদ্দার, ভাইস প্রেসিডেন্ট ইভা পোদ্দার, প্রভা দেবনাথ, ডা: তিমু বৈরাগী, সাধারণ সম্পাদক আইরিন মুক্তা অধিকারী, আফজল হোসেন নূরপুর, রেখা দাস, ফেরদৌসি বেগম, সুমি বাউল, টিনা চৌধুরীসহ আরও অনেকে তার কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন নেলী রানী ও রেখা বিশ্বাস। এছাড়া শিক্ষকবৃন্দের সংগীত পরিবেশনা পুরো অনুষ্ঠানে এক আবেগময় আবহ তৈরি করে।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ইলা রায় নিজেকে একজন প্রভাবশালী নারী নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। নারী শিক্ষার প্রসার, নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী বান্ধব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তার অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার উদ্যোগে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলো আজও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রেখে চলেছে।
সারাদিনের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে—ইলা রায় শুধু একজন সংগঠক ছিলেন না, তিনি ছিলেন নারীর অগ্রযাত্রার এক আলোকবর্তিকা। তার কর্ম, আদর্শ ও অবদান কুমিল্লার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে দীর্ঘদিন ধরে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।
ছবিঃ ওয়াই ডাব্লিউসিএ কুমিল্লার প্রতিষ্ঠাতা ইলা রায়ের বিদায়ে স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান। সংবাদ প্রকাশঃ ০৫-০৪-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=