রমজানে শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক প্রস্তুতি

সিটিভি নিউজ।। মোঃ আবদুল আউয়াল সরকার:লেখক ও কলামিস্ট===========
রমজান মাসে সঠিকভাবে সিয়াম সাধনা ও ইবাদত পালনের জন্য শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, ঘুমের সময়ের পরিবর্তন এবং দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ও জীবনচর্চায় গভীর পরিবর্তন আসে। এর একটা প্রতিক্রিয়া শারীরিক ছন্দে পড়ে। যাঁরা সুস্থ ও সবল, তাঁরা সহজেই এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন; কিন্তু যাঁদের ডায়াবেটিস, কিডনির রোগ বা লিভারের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য সঠিক প্রস্তুতি প্রয়োজন।
প্রতিদিন নিয়ম মেনে খাবার গ্রহন করে সকলে সুস্থ থাকি। যথাসম্ভব ইবাদত করি এবং সাধ্যমতো সমাজের নিম্নআয়ের মানুষ গুলোর পাশে দাড়াই।
ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক ইবাদতগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো রোজা। নিজেকে পরিশুদ্ধ এবং মহান আল্লাহ তা’লার সান্নিধ্যে লাভের মাধ্যম এটি। ইসলামের নিয়ম অনুযায়ী রমজানের সময় সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সব ধরনের পানাহার থেকে বিরত থাকতে হবে। রোজার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সুস্থ থাকা খুবই জরুরি।

শারীরিক দুর্বলতার কবলে পড়লে রোজা রাখাই সম্ভব হবে না। ফলে রমজান মাসের বরকত থেকে বঞ্চিত হতে হবে। তাই রোজা রেখে শরীর যেন সুস্থ থাকে সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। কিছু নিয়ম-কানুন আর প্রয়োজনীয় খাবার খেলেই কোনো সমস্যা ছাড়াই রাখা যাবে সবগুলো রোজা।
অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ন এ মাসে যথাসম্ভব ইবাদত বন্দেগি করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই প্রত্যেকের কাম্য। বেশি বেশি ইবাদত করার জন্য চাই সুস্থ দেহ আর সুস্থ দেহ পাবার অন্যতম শর্ত হচ্ছে পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টিকর খাদ্য ও পানীয় গ্রহন।
সারাদিন রোজা রেখে আমরা সাধারণত ইফতার করি ঠান্ডা শরবত ও ভাজাপোড়া দিয়ে। শুধু ইফতারেই নয়, সাহরিতেও অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার কারণে শরীরে পড়ে বিরূপ প্রভাব। শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়লে মনও ভালো থাকে না। তবে সামান্য একটু সতর্ক হলে ও নিয়ম মেনে চললেই সুস্থ থাকা সম্ভব। চলুন জেনে নেই রমজানে সুস্থ থাকার কিছু উপায়-
রোজার আগেই গুছিয়ে নেবেন বাসার যেসব জিনিস দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি ও অবসাদ এড়িয়ে যাবেন না যে কারণে,আমরা সাধারণত খেজুর দিয়ে ইফতার করি। খেজুরে প্রচুর ফাইবার রয়েছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। তবে ইফতারে বেশি মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কেক, দুধ দিয়ে তৈরি মিষ্টি, কোমল পানীয় এবং ফলের জুস পরিহার করা উত্তম। মিষ্টির পাশাপাশি রমজানে নোনতা খাবার থেকেও দূরে থাকতে হবে। ইফতারের খেজুর, শরবত, তিন রকমের ফল, সালাদ, ছোলা, ডিম সেদ্ধ, মুড়ি ইত্যাদি রাখুন।খাবার খেতে হবে খুব ধীরে ধীরে। কারণ দ্রুত খাবার খেলে বুকজ্বালা এবং অস্বস্তি অনুভব হতে পারে।
ইফতার শেষে সঙ্গে সঙ্গে বিশ্রামের জন্য বসা যাবে না। কিংবা ঘুমানো যাবে না। বিভিন্ন কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে হবে। ইফতারের পর কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটিও করা যেতে পারে।
যাদের চা-কফি পানের অভ্যাস আছে তারা মাগরিবের নামাজের পর লাল চা ও গ্রিন টি পান করুন। রাতে হালকা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। যেমন- সবজি ও মাছ ইত্যাদি। অথবা ঘুমানোর আগে এক গ্লাস দুধ পান করুন। প্রতিদিন যে কোনো সময়ে কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটুন।ইফতার ও সাহরিতে ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত তেল, মসলা, সাদা চিনি, বাইরের জুস, রাস্তার ফাস্টফুড এড়িয়ে চলুন।
দৈনিক কমপক্ষে আড়াই লিটার পানি পান করুন। সাহরিতে দই, চিড়া, কলা অথবা ভাত-রুটি, মিক্সড সবজি, মাছ, ডিম, মাংস খাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে হজম শক্তি বাড়াবে। যারা ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত তারা অবশ্যই রোজার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

মুসলমানদের উচিত রমজানের সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সমস্ত খারাপ ও ক্ষতিকর অভ্যাস ত্যাগ করা, যার ফলে জীবনযাত্রা উন্নত হবে। জীবনযাত্রার উন্নতির পাশাপাশি স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও আপনি রমজানের রোজার উপকারিতা অনুভব করতে পারবেন।

লেখক: চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ,শিক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মী।============== সংবাদ প্রকাশঃ ২৭-০২-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=

(সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like)
আরো পড়ুন