বিনিদ্র রজনী, শব্দ ও বায়ু দূষণ।নিরব প্রশাসন! ময়নামতি সহ পরো বুড়িচংয়ে ৩ফসলী জমির মাটি কাটছে অবাধে

সিটিভি নিউজ।। সৌরভ মাহমুদ হারুন সংবাদদাতা জানান =====
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের ৩ ফসলী জমির মাটি অবাধে কেটে নিচ্ছে মাটিখেকোরা। রাতভর এই মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ায় একদিকে নির্ঘুম রাত, অন্যদিকে বায়ু ও শব্দ দূষণে অতীষ্ট মানুষ। এ চিত্র এখন পুরো বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের সীমান্ত, রাজাপুর ইউনিয়ন, ষোলনল ইউনিয়ন, পীরযাত্রাপুর ইউনিয়ন, ভারেল্লা উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এবং সবচেয়ে বড় দুর্বিষহ হচ্ছে ষোলনল ইউনিয়ন , পীরযাত্রাপুর ইউনিয়ন, ময়নামতি – ভারেল্লা উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়নের গোমতী নদীর চর ও আশপাশের এলাকা থেকে রাধের আঁধারে চলছে অবাধে ট্রাক্টর দিয়ে মাটি কাটার ব্যবসা এবং বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা। পাশাপাশি ভারী ডাম্পট্রাক ও ট্রাক্টরে গ্রামীন জনপদের সড়কগুলোও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তবে, পুলিশের নাকের ডগায় মাটি পরিবহন হলেও পুলিশ নিরব, উপজেলা প্রশাসনও বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না। কিন্তু সরকারীভাবে জমির টপ সফেল বা উপরের মাটি কাটা, বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নবনিযুক্ত কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রী হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াসিনও মাটি কাটা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সোচ্চার। তিনিও সম্প্রতি আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ রেখে যেতে মাটি কাটা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারী দিয়েছেন।

সরেজমিন বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের হরিনধরা, বাজেবাহেরচর, বাগিলারা, মইনপুর, হরিনধরা, কাঠালিয়া, সিন্ধুরিয়াপাড়া ঘুরে পাওয়া তথ্য ও চিত্রে দেখা যায়, প্রতিরাতেই এই গ্রামীন জনপদেও তিন ফসলী জমি থেকে অবাধে মাটিখেকোরা মাটি কেটে ডাম্পট্রাকে করে বিভিন্ন ইটভাটায় রাতের আধাঁরে পাঁচার করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যে সিন্ডিকেট মাটি কাটতো, এখন সেই সিন্ডিকেটই বিএনপি’র সাথে মিলে মাটি কাটছে। রাত বাড়ার সাথে সাথেই বেপরোয়া হয়ে উঠে মাটি বোঝাই ডাম্পট্রাকগুলো। ইফতার ও তারাবির নামাজ শেষে মানুণ একটু বিশ্রাম নিতে পারছে না ট্রাকের শব্দে। এতে একদিকে শব্দ ও বায়ুদূষনে অতিষ্ট মানুষ বিনিদ্র রাত কাটাচ্ছে।
অপরদিকে রয়েছে বুড়িচং উপজেলার গোমতী নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধটি আগামী বর্ষা মৌসুমে চরম ঝুঁকি। ২০২৪ সনে ভয়াবহ বন্যার ক্ষতের দাগ এখনও এলাকাবাসীর বুক থেকে মুছে যায়নি। অবাধে ট্রাক্টর দিয়ে মাটি কেটে আসা যাওয়ার ফলে প্রতিরক্ষা বাঁধটি আবার হুমকির মুখে প্রতিত হচ্ছে। গোমতী নদীর উভয় তীরের প্রতিরক্ষা বাঁধে প্রায় ৬০ কিঃমিঃ এলাকা ঝুঁকির মুখে। ষোলনল ইউনিয়ন, পীরযাত্রাপুর ইউনিয়ন, মালাপাড়া ইউনিয়ন, ভারেল্লা উত্তর ও দক্ষিণ এবং ময়নামতি ইউনিয়নের গোমতী নদীর চরের চলছে অবৈধ, অসাধু মাটি ব্যবসায়ী খেকোদের রমরমা ব্যবসা।

অন্যদিকে সড়কগুলোও এরই মাঝে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুত্রগুলো আরো জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে মইনপুর এলাকায় রাতের আধাওে মাটি কাটতে গেলে গ্রামবাসীর বাধার মুখে ফিরে আসলেও মাটিকাটা সিন্ডিকেটের লোকজন তাদেও ভয়ভতি দেখায়। অভিযোগ রয়েছে, মাটি কাটা সিন্ডিকেট কিছু অনলাইন সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার কারণে প্রত্যন্ত জনপদের এসব অনিয়মের খবর প্রকৃত সাংবাদিকদের কাছে পৌঁছায় না। ময়নামতির হরিণধরা, মইনপুর, বাগিলারা গ্রামের একাধিক হিন্দু পরিবারের লোকজন জানান, সিন্দুরিয়াপাদা এলাকার রুবেল বর্তমানে মাটিকাটার নেতৃত্ব দিচ্ছে। এই রুবেল বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় আ’লীগ নেতৃবৃন্দকে ম্যানেজ করে কোটি কোটি টাকা আয় করে। অথচ এই রুবেলের ব্যক্তিগত জীবনে মাটির ব্যবসা ছাড়া অন্যকোন পেশা নেই। আর রুবেল নিজেও স্বীকার করেছে, আমি সাংবাদিক, পুলিশ, প্রশাসন সবাইকে ম্যানেজ করেই এই মাটি কাটার ব্যবসা করি। মাটি কাটা সিন্ডিকেট সদস্যরা সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ও পরিবর্তন করে ফেলে। বেপরোয়া মাটিবাহী ডাম্পট্রাক চলাচলের কারণে উল্লেখিত গ্রামের সড়কে থাকা রাস্তা-ঘাটের পাশাপাশি পুল-কালভার্টগুলোও ঝুঁকির মাঝে রয়েছে। সামনেই এসএসসি ও এইচ এস সি পরীক্ষা। শব্দদূষনে তাদের পড়া-লেখায়ও চরম বিঘ্ন ঘটছে। ময়নামতি এলাকার দেবপুরে একটি পুলিশ ফাঁড়ি থাকলেও তারা নিরব। মাটিবাহী ডাম্পট্রাকগুলো রাতভর কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের উপর দিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার সময় প্রতিনিয়ত তাদের ভ্রাম্যমান টহল দলের মুখোমুখি হলেও কোন প্রকার বাধাছাড়াই তারা মাটি পরিবহন করে যাচ্ছে। বিষয়টি জানতে চাইলে দেবপুর ফাঁড়ির আইসি সুরজিৎ বড়ুয়া জানান, প্রশাসন বা কোন ভ্রাম্যমান আদালত আমাদের কোন সহযোগীতা চাইলে আমরা সেটা করবো। বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লুৎফুর রহমান জানান, প্রশাসন যখনই এদের বিরুদ্ধে কোন অভিযান চালাবে, আমরা তাদের সহযোগীতা করবো। বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন বলেন, আমরা অভিযান পরিচালনা করে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

ক্যাপশনঃ বুড়িচং উপজেলার কামার খাড়া গোমতী নদীর চর ও ব্রীজের কাছ থেকে অসাধু মাটি ব্যবসায়ীরা মাটি কেটে জমির উর্বরতা বিনষ্ট সহ নানা ক্ষতি সাধিত করে যাচ্ছে। সংবাদ প্রকাশঃ ২৭-০২-২০২৬ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=

(সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like)
আরো পড়ুন