কুমিল্লায় বড়ই চাষে ভাগ্য ফিরেছে ইউনুছের

সিটিভি নিউজ।। এম ফয়জুল ইসলাম ফয়সাল, মুরাদনগর =============
বড়ই চাষে ভাগ্য ফিরেছে বিদেশ ফেরত ইউনুছ ভূইয়ার। ১৮ একর জায়গা জুড়ে করেছেন ফলের বাগান। ৩০ বিঘায় করেছন বড়ই বাগান। ৪ বছরে শুধু বড়ই বিক্রি করেছেন কোটি টাকার উপরে। প্রতিদিনই দর্শনাথর্ীরা ভীড় করেন এই বিশাল এ বাগানে। ইউনুছ ভূইয়াকে দেখে উদ্বোদ্ধ হয়ে অনেকে বেকার যুবকরাও করছেন ফলের বাগান। এটি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউনিয়নের কাজিয়াত গ্রামে অবস্থিত।
জানা যায় , জীবিকার তাগিদে বিদেশে গিয়েছিলেন কাজিয়াতল গ্রামের ইউনুছ ভূইয়া।
সৌদি আরবে প্রবাস জীবন খুব একটা ভালো করতে পারেননি। করোনা মহামারির সময় ১৪ বছর পর দেশে আসেন তিনি। দেশে এসে বেকার সময়কে কাজে লাগিয়ে হয়ে উঠেন উদ্যোক্তা। নীজের ১০ বিঘা জমির সাথে আরো ৫০ বিঘা পতিত জমি লিজ নেন । প্রথমে মাছের মাছের প্রজেক্ট করেন। নানা প্রতিকুলতায় মাছের ব্যবসায় লোকসান হয়। তাতে ভেঙে যাননি এ কৃষক। ঘুরে দাড়াতে মাছের প্রজেক্টের ভীতর ফলের বাগান গড়ে তুলেন। তার এই কাজ দেখে মানুষ ঠাট্রা -বিদ্রুপ ও হাসি তামাশা করেন। মাছের প্রজেক্টের ভীতর কিভাবে ফলবাগান এটা কিভাবে সম্ভব?
কেউ কেউ তাকে পাগলও বলেন। লোকের কথায় কান না দিয়ে তিনি তার কাজ করতে থাকেন। ইউটিউব দেখে মাছের প্রজেক্টের ভীতর লাগিয়েছেন ৩ হাজার বড়ই গাছ , ৭ হাজার লেবু, ৮০০ কলা গাছ ও মাল্টাসহ নানা জাতের সাথী ফসল। বছর ঘুরতেই সফলতা তাকে ধরা দেয়। বড়ই ও লেবু বিক্রি করে তিনি জেলায় ব্যাপক ফেলেন । কুমিল্লার সবচেয়ে বড় ফলের বাগান এটি।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বাগানে বড়ইয়ের চমৎকার ফলন রয়েছে। গাছের পাতায় পাতায় বড়ই দোলছে। বল সুন্দরী জাতের বড়ই দেখতে খুবই সুন্দর। খেতে মিষ্টি- অধিক রসালো ও পুষ্টিগুনে ভরপুর। বাগানে নিয়মিত ৭ জন কর্মচারী কাজ করছেন। তারা বড়ই তুলে ঝুড়িতে নেন। প্রতি মন বড়ই তুললে পান ১২০ টাকা মজুরী। ফরহাদ নামে এক যুবক জানান, “ আমি প্রতিদিন স্কুল শেষে বড়ই তুলতে আসি। এতে পড়াশোনার কিছু খরচ জোগাড় হয় ”।
কৃষক ইউনুছ ভূইয়া বলেন, আমি বিদেশে ছিলাম। সেখানে কৃষি খামারের তত্ত্বাবধানে কাজ করেছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে মাছের প্রজেক্টের ভীতর ফল বাগান করেছি। এলাকার মানুষ প্রথমে আমাকে পাগল বলছে। সমালোচকদের কথায় কান না দিয়ে নাটোর থেকে আড়াই মাস বয়সী বড়ই ও লেবুর চারা এনে রোপন করি । চারা রোপনের ৩ মাস পর বাগানের প্রতিটা গাছে বড়ই আসে। একটি গাছে ৩০ থেকে ৪০ কেজি বড়ই আসে । পাইকারদের কাছে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। বাগানে প্রতিদিন ৭ জন শ্রমিক কাজ করে। এছাড়াও বাগান নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষনিক দুইজন লোক নিয়োজিত আছে। এই বড়ই বাগানের আয় দিয়ে পাশে আরো কিছু জমি কিনেছি, একটি গরুর একটি খামারও করেছি।
মুরাদনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খান পাপ্পু বলেন, কুমিল্লার সবচেয়ে বড়- বড়ই বাগান কাজিয়াতল । আমি ও উপসহকারী কর্মকতারা রীতিমত এই কৃষি প্রজেক্টটি দেখাশোনা করছি। কৃষক ইউনুছ ভূইয়ার মত যারা উদ্যেক্তা হয়ে পরিত্যাক্ত জমিতে বাগান ও কৃষি কাজ করতে চায় আমরা তাদের সবার্ত্তক সহযোগীতা দিয়ে পাশে থাকবো। সংবাদ প্রকাশঃ ০২-০২-২০২৫ ইং সিটিভি নিউজ এর (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like> See More =আরো বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে লিংকে ছবিতে ক্লিক করুন= ==আরো =বিস্তারিত জানতে কমেন্টসে নিউজ লিংকে ক্লিক করুন=