ময়লার ভাগাড় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।। দুষিত হচ্ছে পরিবেশ, বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি

সিটিভি নিউজ।।      মনির হোসেন।। সংবাদদাতা জানান ====
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগ ও গ্যাষ্ট্রো,নিউরো মেডিসিন হেপাটোলজী বিভাগের পাশে চিকিৎসা বর্জ্য ময়লা আর দুর্গন্ধে চলাফেরাই দায় হয়ে পড়েছে।ফলে দুষিত হচ্ছে পরিবেশ, বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি হাসপতাল থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করবে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নিয়োগকৃত সংস্থা ‘ইনোভেশন’। ইনোভেশনের এমন দায়হীনতার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে হাসপাতালে আসা রোগীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়,কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগ ও গ্যাষ্ট্রো,নিউরো মেডিসিন হেপাটোলজী বিভাগের পাশে চিকিৎসা বর্জ্য ময়লা আর দুর্গন্ধে চলাফেরাই দায় হয়ে পড়েছে।ফলে দুষিত হচ্ছে পরিবেশ, বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। একটি সুষ্ঠ মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যত অনুপস্থিত। এই অনিয়ন্ত্রিত মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সাধারণ বর্জ্যের সাথে মিশে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যকে মারাত্বক ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। গত দুই বছরও পরিস্কার করা হয়নি।বর্জ্যের দুর্গন্ধ অসহনীয় হয়ে উঠেছে হাসপাতালে কয়েকটি বিভাগ।
হাসপাতালে আসা রোগীদের দাবি এই বর্জ্যের দুর্গন্ধ যেন হাসপাতালের রোগীদের মহামারি আকারে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য হাসপাতালের বর্জ্য দ্রুত সরানোর কথা বলেন। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তারা মেডিকেল বর্জ্য বায়োসেফটিক্যাল ব্যাগে ভরে না রেখে তা জালানা দিয়ে ফেলে মেডিকেল বর্জ্য
ভাগাড় তৈরী করে ফেলেছে।
এদিকে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের একজন কর্তকর্তা জানান,বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি হাসপতাল থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করার জন্য ‘ইনোভেশন’সংস্থা নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করা হয়েছে।কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এই সব মেডিকেল বর্জ্য পরিস্কার করার জন্য ইনোভেশন সংস্থাকে টাকা দিলে তারা পরিস্কার করে দিয়ে যাবে।
জানা যায়, অতীতে প্লাস্টিক ও পলিথিনসহ নানা কঠিন বর্জ্য পরিবেশ দূষণ করে আসছে। সঙ্গে ছিল মেডিকেল বর্জ্য। কিন্তু এখন যোগ হয়েছে করোনাবর্জ্য। বর্তমানে অতিব্যবহৃত মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, পিপিই, হেডকাভার, গগলস, সার্জিক্যাল হ্যান্ড গ্লাভস ও ফেসশিল্ড কঠিন বর্জ্য হিসাবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে।
পরিবেশ গবেষকরা বলছেন, কার্যত করোনাবর্জ্য ‘সংক্রামক বর্জ্য’। তাই করোনাবর্জ্য সংগ্রহকারীরা প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থার আওতায় না থাকেন তাহলে তারাও সংক্রমণের ঝুকিতে থাকেন। যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনাকালে এই সমস্যা আরও প্রকটভাবে দৃশ্যমান। একটি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় মেডিকেল বর্জ্যের যথাযথ ব্যবস্থাপনা কৌশল ও কার্যকর বাস্তবায়ন এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতের কলেবর বেড়েছে, সেইসাথে ডিসপোজিবল/একবার ব্যবহারযোগ্য চিকিৎসা সামগ্রীর ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মেডিকেল বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। তার মধ্যে অত্যন্ত স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ মেডিকেল বর্জ্যের তালিকায় আছে ব্যবহৃত সূঁচ, সিরিঞ্জ, রক্ত ও পুঁজযুক্ত তুলা, গজ, ব্যান্ডেজ, মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, টিউমার, ওষুধের শিশি, রক্তের ব্যাগ, স্যালাইনের ব্যাগ, মেয়াদোরত্তীর্ণ ওষুধ, ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রভৃতি।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী হাসপাতাল ডিজাইনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হচ্ছে মেডিকেল বর্জ্যরে নিরাপদ নিষ্কাশন ব্যবস্থা। মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও এ বিষয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কৃর্তপক্ষের কোনো মাথা ব্যথা নেই।
কুমিল্লা মহানগর পরিবেশ আন্দোলন ফোরামের আহবায়ক মেজবাহ উদ্দিন জাহেদ(শাহিন) বলেন,‘করোনার আগের মেডিকেল বর্জ্য আর এখনকার মেডিকেল বর্জ্যরে মধ্যে অনেক পার্থক্য। আগের মেডিকেল বর্জ্যে সংক্রামক ব্যধি ছড়ানোর ঝুঁকি ছিল না বললেই চলে। আর এখনকার প্রতিটা মেডিকেল বর্জ্যের মাধ্যমে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। কিন্তু আমরা দেখছি, দু-একটি হাসপাতাল ছাড়া কেউই নিয়ম মেনে মেডিকেল বর্জ্যগুলো অটোক্লেভ মেশিনের মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত করে বায়োসেফটিক্যাল ব্যাগে ভরে রাখে না।’তিনি বলেন,কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন ‘ইনোভেশন’সংস্থা আছে তারা মেডিকেল বর্জ্য পরিস্কার করে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কৃর্তপক্ষ তাদের সাথে যোগাযোগ করলে সব সমাধান হবে।

সংবাদ প্রকাশঃ  ১৩-১০-২০২১ইং । (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like  See More =আরো বিস্তারিত জানতে ছবিতে/লিংকে ক্লিক করুন=  

Print Friendly, PDF & Email