বৃদ্ধের লাশ মাটিতে পাঞ্জাবী-গামছা গাছের ডালে পরনের লুঙ্গী গলায়

সিটিভি নিউজের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন

সিটিভি নিউজ।।  এবিএম আতিকুর রহমান বাশার,     দেবীদ্বার(কুমিল্লা) প্রতিনিধি//
কুমিল্লার দেবীদ্বারে একটি মৎস্য খামারের পুকুর পাড় থেকে জামাল সরকার (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার সকালে দেবীদ্বার পূর্ব ফতেবাবাদ গ্রামের মহিশান সরকার বাড়ির পূর্বদিকের প্রায় ৫০০গজ দূরে একটি নির্জন বিলের পরিত্যাক্ত মৎস খামারের পুকুরের পাড় থেকে ওই বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এদিকে বৃদ্ধের মৃত্যুনিয়ে স্বজনদের মাঝে হত্যা নাকি স্বাভাবিক মৃত্যু এ নিয়ে বিতর্ক উঠেছে।
নিহত জামাল সরকার (৬৫) ফতেহাবাদ গ্রমের মোকাম বাড়ির পূর্বপাশে মহিশান সরকার বাড়ির মৃত: ওয়াহেদ আলী সরকার এর পুত্র। প্রায় ৩ বছর পূর্বে তার স্ত্রী সুফিয়া বেগম মারা যান। তিনি ৪ পুত্র সন্তানের জনক, ৩ পুত্র মালদ্বিপ প্রবাসী, মেঝো ছেলে জুমন সরকার ও ৪ পুত্র বধূকে নিয়ে নিজ বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন।
নিহতের নাতী রাকিব সরকার ও মনিরুল ইসলাম জানান, আমরা ঘটনাস্থলে যেয়ে দেখি দাদা (জামাল সরকার) উলঙ্গ অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে। দাদার পাঞ্জাবী এবং গামছাটি গাছের ডালে ভাজকরা অবস্থায় ঝুলে ছিল, পরনের লুঙ্গী গলায় ছিল। আমরা গামছা দিয়ে কোমরের অংশ ঢেকে দেই। পুরুষাঙ্গে রক্তের দাগ ছিল। এতো রাতে এ নির্জন পরিত্যাক্ত খামারে যাওয়ার কোন কারনও আমাদের জানা নেই। দাদার মৃত্যুটি স্বাভাবিক ছিলনা, সার্বিক অবস্থায় মনে হচ্ছে এটি পরিকল্পিত হত্যা।
প্রতিবেশী আক্তার গাজী, হাসান গাজী ও ইউনুছগাজী জানান, জানান, রাত ১১টায় আমাদের গ্রামের ২ ব্যক্তি মাছ ধরতে যেয়ে খামারে একজন পাগলের মরদেহ উলঙ্গ অবস্থায় দেখেছিল। ওরা ভেবেছিল দুলালপুর বাজারে একটি পাগল থাকে, হয়তোর তারই মরদেহ, তাই ভয়ে লাশের কাছে যাননি। তারা আরো জানান, দুলালপুর বাজারে রাত সাড়ে ৮টায় একটি চা’ ষ্টলে ওনাকে চা’ খেতে দোকানদারের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, কুমিল্লা থেকে তার পুত্রবধূ বাড়িতে আসবেন, তাকে এগিয়ে নিতে এসেছেন। এরই মধ্যে একজন বোখরা পরিহীত নারী আসেন,তাকে নিয়ে আসার পথে বাজারের ব্যবসায়ি তাদের কিছু পথ এগিয়ে দিয়ে যান। অথচ ওনার পুত্র বধূ মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে আজ (বুধবার) সকালে বাড়ি আসেন।
নিহতের পুত্র বধূ রাবিয়া আক্তার জানান, আমার শ^শুর মঙ্গলবার নতুন বাড়ির ভবনের কাজ সেরে প্রতিদিনের ন্যায় সন্ধ্যায় মোকাম বাড়িতে চা’ খেতে চলে যান। প্রতিদিনই চা’য়ের আড্ডা সেরে রাত ৮টায় বাড়ি ফিরেন। ওইদিন নির্ধারিত সময়ে (রাত ৮টার মধ্যে) বাড়ি ফিরে না আসায় ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে ফোন বন্ধ পাই। ভাবছি চলে আসবে, তাই ঘুমিয়েপড়ি। সকাল ৬টায় আমার এক ভাসুর রুহুল আমিন এসে জানান, আমার শ^শুরের মরদেহ বিলের মৎস খামারের পুকুরপাড়ে পড়ে আছে।
নিহতের বড় ভাই মৃত হালিম সরকারের স্ত্রী আছিয়া বেগম(৭৫) জানান, আমার দেবরকে হত্যা করা হয়েছে। কারা হত্যা করতে পারে তা আমার দেবরের মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই তদন্ত স্বাপেক্ষে পুলিশ বের করবে।
দেবীদ্বার দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ কমল কৃষ্ণ ধর বলেন, নিহতের ছোরতহাল রিপোর্টে কনুইর অংশে এবং মাথার পেছনে সামান্য জখমের কথা উল্লেখ আছে। অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে লাশ পোষ্টমর্টেমের জন্য কুমেক হাসপাতালে পাঠিয়েছি। অধিকতর তদন্ত এবং পোষ্টমর্টেমে রিপোর্ট আসলেই স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি হত্যা তা নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।

সংবাদ প্রকাশঃ  ২-০-২০২২ইং সিটিভি নিউজ এর  (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like  See More =আরো বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন=  

Print Friendly, PDF & Email