বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ উন্মাদনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন

সিটিভি নিউজের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন, বিশ্ব বাজার পুনর্বন্টন প্রভাব বলয় বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্বে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন, ন্যাটোর সম্প্রসারণ, বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ উন্মাদনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন।
-জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট

সিটিভি নিউজ।।    আজ ৯ মার্চ ২০২২ বুধবার দুপুর সাড়ে ১১টায় আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্বে বিশ্বব্যপী যুদ্ধ উন্মাদনা, ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন, ন্যাটো জোটের সম্প্রসারণের প্রতিবাদে এবং তেল, গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সীমাহীন মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট এনডিএফের দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঝিনাইদহ পায়রা চত্বরে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জেলা সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম শাহের সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট এনডিএফের কেন্দ্রীয় সদস্য কামরুল হক লিকু, কৃষক সংগ্রাম সমিতি ঝিনাইদহ জেলা সভাপতি ডাঃ ওলিয়ার রহমান, এনডিএফের ঝিনাইদহ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান হোসেন ফারুক, দপ্তর সম্পাদক সেলিম হোসেন ক্যাপটেন প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন জেলা সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমানে বাজার ও প্রভাব বলয় পুনর্বণ্টনে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্ব তীব্রতর হয়ে মার্কিনের নেতৃত্বে পাশ্চাত্য ও তাদের ন্যাটো জোটের বিরুদ্ধে চীন-রাশিয়ার নেতৃত্বে এসসিও জোট পরস্পরের মুখোমুখি। একক পরাশক্তি মার্কিনের নেতৃত্বে ন্যাটো ২০০১ সালে আফগানিস্তানে, ২০০৩ সালে মার্কিনার নেতৃত্বে পাশ্চাত্যের ইরাক আগ্রাসন ও দখল। ২০১০ সালে আরব বসন্তের নামে ২০১১ সালে লিবিয়ায় নো ফ্লাই জোন কার্যকরীকরণ, ২০১৪ সালে মধ্যপ্রাচ্যের লেভান্তে আইএস তৎপরতা ইত্যাদি আগ্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে সিরিয়াযুদ্ধে সাম্রাজ্যবাদী রাশিয়ার বিজয় এবং আইএস বিপর্যস্ত হওয়ার ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবানের কাছে ন্যাটোর অভূতপূর্ব পরাজয়ের মধ্য দিয়ে প্রতিপক্ষ চীন-রাশিয়া সামনে আসে। মার্কিন নেতৃত্ব-কর্তৃত্বের ক্রমাবনতি এবং দীর্ঘ পনেরো বছরে মার্কিন যুদ্ধনীতির ব্যর্থতা স্বীকার করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধসহ সামগ্রিক নীতি পরিবর্তন করায় যুক্তরাষ্ট্র মিত্র হারানোর বিপদের মুখোমুখি হয়। এ প্রেক্ষিতে মার্কিন একচেটিয়া পুঁজিপতি শ্রেণি জো বাইডেনকে ক্ষমতায় এনে ‘আমেরিকা ইজ্ ব্যাক’ সেøাগান তুলে মিত্রদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে জি-৭ ও ন্যাটোকে আরও কার্যকরী করে। এ প্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ন্যাটোর পূর্বমুখী সম্প্রসারণ নীতির প্রেক্ষিতে রুশ সীমান্তে উপস্থিত হওয়ার জন্য ইউক্রেনকে ইইউ ও ন্যাটোভুক্ত করার ষড়যন্ত্র আটে। রুশ সীমান্তবর্তী দেশ ইউক্রেনে মার্কিনের নেতৃত্বে ন্যাটোর উপস্থিতির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ২৪ ফেব্রুয়ারি ‘২২ ইউক্রেনে রাশিয়া আগ্রাসন শুরু করে। আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্বে এই অন্যায় আগ্রাসী যুদ্ধে মৃত্যুর বিভীধিকা, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, নারী-শিশু-বৃদ্ধসহ জনগণের দুরবস্থা, পলায়ন ও উদ্বাস্তু-শরণার্থীর ঢল নামার সাথে সাথে বিশ্বব্যাপী খাদ্যশষ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ এর নেতিবাচক প্রভাব বিশ্ব জনগণকে বিপদে ফেলছে। সাম্রাজ্যবাদী এই অন্যায় যুদ্ধের বিরুদ্ধে আমাদের দেশসহ বিশ্ববাসীকে রুখে দাঁড়াতে হবে।

বৈশ্বিক মন্দাজনিত পরিস্থিতিতে অতি উৎপাদন সংকটে জর্জরিত বিশ্বের শ্রমিক শ্রেণি ও জনগণ বেকারত্বের অভিশাপ, অভাব-অনটন, অনাহার-অর্ধাহার, জীবন-জীবিকার অনিশ্চয়তায় হাবুডুবু খাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভার মরার পর খাঁড়ার ঘা’র মত অসহনীয় অবস্থা সৃষ্টি করেছে। মহামার যেন সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালালদের কাছে পোয়াবাবোর মত হয়ে উঠেছে। ভ্যাকসিন নিয়ে বাণিজ্য, আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী প্রতিদ্বন্দ্বিতা-প্রতিযোগিতার মাত্রাতিরিক্ত মুনাফা অর্জনে ধনী আরো ধনী হয়েছে। আর জনগণের দুঃখ-দুর্দশার জন্য করোনা মহামারীকে দায়ী করে প্রকৃত সত্যকে আড়াল করে সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালাল শাসক-শোষক গোষ্ঠী নিজেদের শোষণ-লুণ্ঠনকে ধামাচাপা দিচ্ছে। উৎপাদনের আধুনিকতায় উন্নত প্রযুক্তির বিকাশে আধুনিক উৎপাদন ও বণ্টন সমন্বিত করতে যে বিন্যাস-পুনর্বিন্যাস ও প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে তাতে শ্রমিক শ্রেণি ও জনগণের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে শ্রমিক-জনতার আন্দোলন সংগ্রামকে দমন করার জন্য সাম্রাজ্যবাদী দেশে ফ্যাসিবাদ এবং আমাদের মত নয়াউপনিবেশিক আধাসামন্তবাদী দেশে স্বৈরতন্ত তীব্রতর করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বে জনগণকে সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালাল এবং তাদের স্বার্থরক্ষাকারী সরকারের বিরুদ্ধে বিজয় অবধি আন্দোলন সংগ্রাম-রিপ্লব করা ছাড়া উপায় নাই।

বর্তমানে এশিয়া বিশ্বের প্রবৃদ্ধি অঞ্চল হওয়ার এতদ্বঞ্চল তথা দক্ষিণ চীন সাগরকে কেন্দ্র করে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্বে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ইন্দো-প্যাসিফিক রণনীতি এবং কোয়াড ও অকাস (অটকটঝ) গঠন করে তৎপরতা জোরদার করে। যুক্তরাষ্ট্র এতদ্বঞ্চলের প্রধান আঞ্চলিক শক্তি নয়াউপনিবেশিক ভারতকে চীনের পাল্টা ভারসাম্য হিসেবে কাজে লাগাতে চায়। আবার চীন-রাশিয়া ভারতকে স্বপক্ষে টানতে সচেষ্ট। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থল সংযোগ সেতু এবং প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরের সংযোগকারী মালাক্কা প্রণালী সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক ও রণনীতিগত গুরুত্বের প্রেক্ষিতে এদেশকে নিয়ে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্ব সুতীব্র। একক পরাশক্তি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ স্বীয় প্রাধান্য ধরে রাখা এবং প্রতিপক্ষ চীন-রাশিয়া তাদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ তার ইন্দো-প্যাসিফিক রণনীতিতে বাংলাদেশকে যুক্ত করতে কোয়াড প্লাস সামনে আনে। প্রতিপক্ষ চীন এর তীব্র বিরোধিতা করে। বাংলাদেশ চীনের বিআরআই-এ সম্পৃক্ত ও চীনের দিকে ঝুঁকে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র চাপ প্রয়োগ কৌশলে র‌্যাব-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। এ অবস্থায় ক্ষমতায় টিকে থাকা এবং ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য প্রতিক্রিয়াশীল সরকার ও বিরোধী দল উভয়েই প্রভুর আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য লবিস্ট কৌশলে এবং আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘নির্বাচন আইন’ ও নির্বাচন কমিশন গঠন করে অগ্রসর হচ্ছে। প্রচলিত স্বৈরতান্ত্রিক এ ব্যবস্থায় নির্বাচনে জনগণের কোনো লাভ নেই।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, আজ বিশ্ব জনগণের ঘাড়ে যেমন যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে তেমনি জীবন-জীবিকার অপরিহার্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি করে চলছে। আমাদের মতো নয়াঔপনিবেশিক দেশে সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালালদের দ্বিবিধ বেপরোয়া লুটপাটের ফলে চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের বছরব্যাপী অগ্নিমুল্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জীবন আজ অনিশ্চিত। এছাড়াও নানা অজুহাতে ডিজেল কেরোসিন বিদ্যুৎ গ্যাসসহ সকল ধরণের জ্বালানরি দাম বৃদ্ধি করায় জাতীয় ও জনজীবনের সংকট আরো গভীর হচ্ছে। এ অবস্থায় নেতৃবৃন্দ গ্রামে ও শহরে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করার দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান। সমাজে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য আরো দ্রুত বৃদ্ধি হচ্ছে। আবার তথাকথিত উন্নয়নের লক্ষ্যে ভ্যাট, ট্যাক্স, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের জালে বেধে ফেলা হয়েছে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণকে। কৃষির জন্য অত্যাবশ্যকীয় সার, ডিজেল, কীটনাশকের মত বিষয়গুলো থেকে ভর্তুকি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে কৃষিব্যাবস্থাকে বিপর্যস্ত করে চলেছে। সভাপতি তার বক্তব্যে সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসন, যুদ্ধ উন্মাদনার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা ও জাতীয়-জনস্বার্থ বিরোধী সকল অপতৎপরতার বিরুদ্ধে জাতীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠার কর্মসূচী শোষিত জনগণের সামনে তুলে ধরে আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য সাম্রাজ্যবাদ সামন্তবাদ আমলা দালাল বিরোধী দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক শক্তির প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।         =বার্তা প্রেরক==== সাখাওয়াত হোসেন।

সংবাদ প্রকাশঃ  ০৯-০৩-২০২২ইং সিটিভি নিউজ এর  (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like  See More =আরো বিস্তারিত জানতে ছবিতে/লিংকে ক্লিক করুন=  

Print Friendly, PDF & Email