নারায়ণগঞ্জ সিটির শহিদ নগরে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ

সিটিভি নিউজের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন

সিটিভি নিউজ, এম আর কামাল, নারায়ণগঞ্জ থেকে জানান : নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৮নং ওয়ার্ডের শহিদননগরে সরকারি জমি দখল করে পাকা ও টিনশেড ঘর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, সরকারি জমি লিজ নিয়ে সেই জমি বিক্রি করা যায় না। সেখানে সরকার দলীয় ভুমিদস্যু একটি সিন্ডিকেট ক্রয়ের নাম করে জমিটি দখলের এবং সেখানে কাঁচা-পাকা ঘর নির্মাণের চেষ্টা করছে। এর ফলে সমাজের অন্যান্য দুষ্ট শ্রেণীর মানুষও সরকারি খাস জমি দখলে উৎসাহিত হবেন।
স্থানীয়রা জানান, আমরা ছোট বেলা থেকেই এখানে গোসল করেছি, এটি একটি খাল ছিলো। কিন্তু পরবর্তীতে খালটি লিজ নেয় কতিপয় মুক্তিযোদ্ধারা। কিন্তু এক বছর পরে তাদের লিজ বাতিল করে দেয় সরকার। বাতিল করা হলেও মুক্তিযোদ্ধারা সেই জমি ভরাট করে বিক্রি করে দেয় যা ক্রয় করে আলাউদ্দিন ঢালী রাজু নামে এক ব্যবসায়ী।
তারা জানায়, সম্প্রতি নির্বাচনের আগে মেয়র আইভী ঘোষণা দিয়েছিলেন এখানের সরকারি খাস জমিতে পার্ক নির্মাণ করা হবে। এই ঘোষণার পরই ক্রয়কৃত দাবিকারী পক্ষ এখানে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা শুরু করে এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এলাকাবাসী। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
লিজকৃত জমি বিক্রির দলিল সুত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশেনের ১৮নং ওয়ার্ডের শহীদনগর এলাকায় শীতলক্ষ্যা মৌজায় খতিয়ান নং ১ এর ৪৩০ দাগের চর্চা দাগ নং ৪৭৮/৭১০ ও ৪৭৮/৭১১ এর একসনা কেইস নং ১০৮/৮৪/২৮/৭৯-৮০ এবং সহকারি কমিশনার (ভূমি) সদর কর্তৃক ২০০৩ সালের ১১ জুন নবায়ন স্মারক নং ৩৭৪/১ অনুযায়ী ১.৫৪ একর জমি সরকারি খাস জমি। সেই জমিটি লিজ নিয়েছিল মসিনাবন্দ গোগনগরের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়দানকারী এস এম আফাজউদ্দিন, সালাউদ্দিন তপু, এস এম মোসলেহ উদ্দিন, মো: মনির হোসেন, মোঃ রাশেদ, এস এম গিয়াসউদ্দিন, মো: শরীফ হোসেন, মো: সিদ্দিকুর রহমান, শের মোহাম্মদ, মো: হোসেন (ফকির চাঁন)।
আরও জানা গেছে, ২০১২ সালের ১৩ জুলাই সেই লিজ নেওয়া জমির ৫ শতাংশ দখল পজিশন হস্তান্তর দলিল মূলে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেন গোগনগর মসিনাবন্দ এলাকার মৃত লেদু মন্ডলের পুত্র এস এম আফাজউদ্দিন। জমিটি ১০ লাখ টাকায় ক্রয় করেন ১/৪ শহীদনগর এলাকার মৃত আফছার উদ্দিন ঢালীর পুত্র ব্যবসায়ী মো: আলাউদ্দিন ঢালী রাজু।
লিজকৃত সেই জমি ক্রয় করলেও ক্রয়কারী মো: আলাউদ্দিন ঢালী রাজু সেই জমিটি দখলে নিতে পারেননি বলে জানা গেছে। ২০১৫ সালের শেষের দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৮নং ওয়ার্ডের শহীদনগরে শীতলক্ষ্যা নদী সংলগ্ন সরকারি জমি দখলের চেষ্টা করা হয়। পরে শহীদনগর এলাকার আব্দুর রহমানের পুত্র মো: আসলাম হোসেন হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন (যার নম্বর ১৩৫৮১)। ওই রিট পিটিশনে ১৩ জনকে বিবাদী করা হয়েছিল। তারা হলেন, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, নৌ মন্ত্রণালয়ের সচিব, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান, ভূমি সম্পদ ও সার্ভে দপ্তরের মহা পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার।
পরবর্তীতে শীতলক্ষ্যা নদীর জমি ও তৎসংলগ্ন খালের জমিতে কোন ধরনের অস্থায়ী ও স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণে বিধিনিষেধ সম্পর্কে ২০১৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিক এবং বিচারপতি মো: বদরুজ্জামান ওই রিট পিটিশনের আলোকে এক রুল নিশি জারি করেন। আদেশে আদালত ৪ সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন। ওই রুল নিশির পরে তৎকালীন জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমানের নির্দেশে দখলকারীদের সকল ধরনের স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন তৎকালীন সদর ভূমি অফিসের নায়েব আব্দুস সামাদ।
এদিকে ৬ বছর পূর্বে এই সরকার দলীয় ভূমিদস্যুদের তৎপরতা ভেস্তে গেলেও বর্তমানে আবারো তৎপর হয়ে উঠেছে ভূমিদস্যুরা। ভূমিদস্যু ঐ সিন্ডিকেটের প্রতিনিধি হিসেবে ইয়াসিন এ অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানায় স্থানীয়রা।
এ ব্যাপারে নবাগত জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজের সাথে সাংবাদিকদের এক মতবিনিময় সভায় একজন সাংবাদিক দখল হয়ে যাওয়া এ জমিটির দখলকারীদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে জানালে জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারি খাস জমি দখলে নেয়ার কোনো নিয়ম নেই। যদি কেউ এ পায়তারা করে তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। একইসাথে এ জমিটির বিষয়ে তিনি খতিয়ে দেখবেন বলেও জানান।

সংবাদ প্রকাশঃ  ২৭-০১-২০২২ইং । (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like  See More =আরো বিস্তারিত জানতে ছবিতে/লিংকে ক্লিক করুন=  

Print Friendly, PDF & Email