নারায়ণগঞ্জে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ

সিটিভি নিউজের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন

সিটিভি নিউজ, এম আর কামাল, নারায়ণগঞ্জ থেকে জানান : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে ‘ধৃষ্টতাপূর্ণ’ বক্তব্যে প্রদানের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আনোয়ার সাদাত সায়েম ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দিন সালুর নেতৃত্বে বৈরী আবহাওয়ার ভারী বৃষ্টি উপেক্ষা করে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে দলের নেতাকর্মীরা।
বুধবার (২০ জুলাই) কেন্দ্রীয় কমিটির ঘোষিত কর্মসূচি অংশ হিসেবে সকাল থেকেই বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আওতাধীন থানা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের পিছনে প্যারাডাইস ক্যাবলের সামনে এসে জড়ো হতে থাকে।
পরে সকাল এগারোটার দিকে ভারী বৃষ্টি উপেক্ষা করে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয় । মিছিলটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।
বিক্ষোভ মিছিলে এসময়ে আরও মিছিল উপস্থিত ছিলেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ্ আলম ভুঁইয়া, সহ-সভাপতি জাকির হোসেন রবিন, সহ-সভাপতি রাসেল মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, সহ- সাধারণ সম্পাদক আঃ জব্বার, খায়রুল কবির মুন্না, আড়াইহাজার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন সাকিব, ফতুল্লা থানা সেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক আবুল হোসেন পায়েল, নজরুল ইসলাম, সদস্য মোঃ বাচ্চু, মো. হজরত আলী, এম এ কাদির, মো. রানা, মিজান সিকদার, রোবেল, রাব্বানী, মোক্তার হোসেন, জেলা সেচ্ছাসেবক দলের সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মাজেদুল ইসলাম, তাত বস্ত্র সম্পাদক মিজানুর রহমান মিঠু, ক্রীড়া সম্পাদক রুহুল আমীন, ডাঃ মাসুদ, আকাশ, মঞ্জু, ফরহাদ, আর এস রোবেল, হোসেন,শুক্কুর, রানা, হৃদয়, ইসমাইল, রূপগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রফিক, সদস্য সচিব আলী আহম্মেদ, যুগ্ম আহবায়ক ইলিয়াস ভুইয়া, মিলন মোল্লা, সাজ্জাদ হোসেন চিশতি, মফিজুল ইসলাম, মিজান, আল আমিন, রফিকুল ইসলাম, আয়নাল, শিপলু জাহান, ইব্র্রহিম পাটুয়ারী, মোবারক, আলম, দেলোয়ার, রমজান, বাদশা, বিল্লাল হোসেন খান,বাচ্চু, আল আমিন, রাজন, রোকন, সিরাজুল, কাঞ্চন পৌরসভার সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক হাবিবুর রহমান, তারাব পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আলতাফ হোসেন, সদস্য সচিব নাইম মিয়া, বাদল ওবায়দুল, এমদাদুল, খোরশেদ, আড়াইহাজার থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ হান্নান, মনজুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম, সফিকুল, সোনারগাঁও থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক শামীম আহমেদ, ফয়সাল ভুইয়া রিপন, সদস্য কাজী কামাল, কায়েস মিয়া, ডালিম মিয়া,ফজলুল হক ভুইয়া, ফতেপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রফিক, ব্রাক্ষন্দী ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম জহির প্রমুখ।
নারায়ণগঞ্জে বিদ্যুৎ গিলে খাচ্ছে ৫০ হাজার অটোরিকশা
সিটিভি নিউজ, এম আর কামাল, নারায়ণগঞ্জ থেকে জানান : নারায়ণগঞ্জ জেলা শহরগুলোতে বিদ্যুৎ চুরির অন্যতম প্রধান কারণ নিষিদ্ধ ইজিবাইক বা অটোরিকশা বন্ধ করা উচিত বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকার নানা সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা নিলেও এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন তারা।
জেলা প্রশাসন বা ট্রাফিক বিভাগের কাছে সংখ্যার কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও ধারণা করা হয় পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫টি উপজেলায় বর্তমানে কমপক্ষে ৫০ হাজারের বেশি অটোরিকশা চলাচল করছে। বিশেষ করে ব্যস্ত নগরী নারায়ণগঞ্জ, শিল্পাঞ্চল ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দর এলাকায় এর সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৩০ হাজারের মতো।
জানা গেছে, ৮০ শতাংশ গ্যারেজেই নিষিদ্ধ এসব অটো বাইকের ব্যাটারি চার্জ করতে ব্যবহার করা হচ্ছে অবৈধ বিদ্যুৎ লাইন। অনেক স্থানে চলছে মিটার টেম্পারিং এর মতো ঘটনা। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন করে ইজিবাইক আমদানি বন্ধ ও পুরনোগুলো পর্যায়ক্রমে তুলে নেওয়ার কথা থাকলেও তা কার্যকর হয়নি গত কয়েক বছরেও।
এমনকি মহাসড়কগুলোতে এই যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। স্থানীয় সরকার দলীয় নেতা, নামধারী সাংবাদিক, ডিপিডিসি, পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ, জেলা ট্রাফিক বিভাগ ও হাই ওয়ে পুলিশকে নিয়মিত মাসোহারা দিয়েই রাস্তায় চলছে অটোরিকশা।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সাধারণত একটি ইজিবাইকের জন্য চার থেকে পাঁচটি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি প্রয়োজন। আর প্রতি সেট ব্যাটারি চার্জের জন্য গড়ে ৯০০ থেকে ১১০০ ওয়াট হিসেবে পাঁচ থেকে ছয় ইউনিট (দিনে বা রাতে কমপক্ষে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা) বিদ্যুৎ খরচ হয়। সে হিসেবে জেলার প্রায় ৫০ হাজার ইজি বাইক বা ব্যাটারিচালিত রিকশা চার্জের জন্য জাতীয় গ্রিড থেকে প্রতিদিন অন্তত ৫৫ মেগাওয়াট এবং মাসে ১৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হওয়ার কথা। কিন্তু ৮০ ভাগ গ্যারেজে চুরি করে ও লুকিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এসব ব্যাটারি রিচার্জ করায় সরকার প্রায় ১৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তবে ভাড়া অন্যান্য যানের চেয়ে তুলনামূলক কম হওয়ার কারণে মূল শহরে এবং তার বাইরে এখন যাত্রীদের প্রধান বাহনে পরিণত হয়েছে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও রিকশা। আর এগুলোর বেশিরভাগ চালকই সামান্য অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে বৈদ্যুতিক লাইন থেকে গাড়িগুলোতে চার্জ করিয়ে নিচ্ছেন। তারা এই গাড়িগুলো যে গ্যারেজে রাখছেন সে জায়গা থেকেই রাতভর একটি গাড়ির শুধুমাত্র চার্জের জন্য গ্যারেজ মালিককে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা করে দিচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৮ সালে নারায়ণগঞ্জ শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন স্থানে অটোরিকশার গ্যারেজগুলোতে অভিযান চালিয়ে অর্ধশতাধিক অটোরিকশার গ্যারেজের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নের পাশাপাশি কোটি টাকার উপরে জরিমানাও করেছে ডিপিডিসি ও টাস্কফোর্স। কিন্তু করোনা কালের পর এই অভিযান থেমে গেছে।
বেশ কয়েকটি এলাকার অটোরিকশা গ্যারেজে ঘুরে জানা গেছে, এসব গ্যারেজে ব্যাটারি চার্জ দিতে গিয়ে অনেক বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়। যে কারণে গ্যারেজ মালিকরা খরচ কমিয়ে বাড়তি টাকা আয়ের জন্য অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে থাকে। তবে এসব অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়ার পেছনে রয়েছেন সরকার দলীয় প্রভাবশালী নেতা, ডিপিডিসি ও পল্লী বিদ্যুতের একদল অসাধু কর্মকর্তা।
এ ব্যাপারে ডিপিডিসি ফতুল্লা জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইন উদ্দিন জানান, আমরা প্রায় সময়ই অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি। তবে শেষ কবে কোথায় অভিযান হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অভিযান একটি চলমান প্রক্রিয়া, এটি চলবেই।
এ ব্যাপারে বন্দর পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মিজানুর রহমান জানান, আমরা প্রায় সময়ই অভিযান চালাচ্ছি, জরিমানা করছি। তবে শেষ কবে অভিযান হয়েছিল- এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারেননি তিনি।
তবে সাধারণ মানুষের মতে, যেখানে বিদ্যুতের ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে সেখানে এই যানগুলোতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার বিদ্যুতের অপচয় ছাড়া আর কিছুই না। বিদ্যুৎ বিভাগের উচিত স্পেশাল টাস্কফোর্সের মাধ্যমে এসব বিদ্যুৎ চুরি বন্ধ করা অথবা সরকারের বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অটোরিকশার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা।

সংবাদ প্রকাশঃ  ২০-০-২০২২ইং সিটিভি নিউজ এর  (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like  See More =আরো বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন=  

Print Friendly, PDF & Email