না’গঞ্জে করোনায় মাকে হারিয়ে প্লাজমা দান করলেন ছেলে-মেয়ে

সিটিভি নিউজ, এম আর কামাল, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান : নারায়ণগঞ্জে করোনায় আক্রান্ত মায়ের মৃত্যুর পর আক্রান্ত ছেলে ও মেয়ে সুস্থ হয়ে মাকে স্মরণ করে প্লাজমা দিয়েছেন। অন্য কেউ যাতে করোনায় মা হারা না হয়, সেজন্য তারা এই মহান কাজে এগিয়ে এসেছেন।
গত ১ মে রাজধানীর মুগদা হাসপাতালে করোনা পজিটিভ হয়ে মারা যান হাসিনা নুর (৬৫)। হাসিনা নুরের পরিবার দু’বছর ধরে বসবাস করেন সিদ্ধিরগঞ্জের ভূমি পল্লীতে। আগে ছিলেন মাসদাইরে। হাসিনা নুর করোনায় মারা গেছেন বলে সিদ্ধিরগঞ্জের কবরস্থানে দাফন করতে বাধা আসে। নিরুপায় হয়ে তার পুত্র নুরুল আমিন মাসুম যোগাযোগ করেন তাদের সাবেক বাড়ি মাসদাইরের কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের সঙ্গে। পরে খোরশেদ ও তার টিম হাসিনা নুরকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কেন্দ্রীয় কবরস্থান মাসাদাইরে দাফন করেন।
হাসিনা নুরকে সেবা করতে গিয়ে তার দুই সন্তান নুরুল আমিন মাসুম ও তাসনীমা নুর করোনায় আক্রান্ত হন। তারা চিকিৎসা গ্রহণ করে সুস্থ হওয়ার পরে তাদের মায়ের মাগফেরাত কামনায় দুই ভাই বোন খোরশেদের টিমকে প্লাজমা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে ৯ জুন নুরুল আমিন মাসুম নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ ভূইয়ারবাগ নিবাসী আবুল কালামকে ৪০০ এম এল প্লাজমা ডোনেট করেন আলী আজগর হাসপাতালে।
এরপর ১১ জুন তাসনীমা নুর ধানমন্ডি নিবাসী মীর হোসাইন চৌধুরীকে (৬২) গ্রীন লাইফ হাসপাতালে ২০০ এম এল প্লাজমা দান করেন।
দুই ভাই বোন প্লাজমা প্রদান শেষে বলেন, করোনায় আক্রান্ত আমাদের মাকে আমরা বাঁচাতে পারিনি। যদি আমাদের দেওয়া প্লাজমায় কোন মানুষের জীবন আল্লাহ রাব্বুল আলআমিন রক্ষা করেন, তবেই আমাদের মা হারানোর কষ্ট কিছুটা লাগব হবে। দুই ভাই-বোন ১৫ দিন পরে পুনরায় প্লাজমা ডোনেট করবেন।
টিমে খোরশেদের প্রধান টিম লিডার কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, এই ভাবে যদি করোনায় আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে প্লাজমা ডোনেট করে তাহলে আরেকজন রোগীকে সুস্থ করা ও করোনাকে জয় করা সম্ভব। তাই প্লাজমা দিন-জীবন বাঁচান।

সংবাদ প্রকাশঃ  ১৪২০২০ইং (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like সিটিভি নিউজ@,CTV NEWS24   এখানে ক্লিক করে সিটিভি নিউজের সকল সংবাদ পেতে আমাদের পেইজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুনসিটিভি নিউজ।। See More =আরো বিস্তারিত জানতে লিংকে ক্লিক করুন=

Print Friendly, PDF & Email