কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় শোক দিবস পালিত

সিটিভি নিউজের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন

সিটিভি নিউজ।।             প্রেস বিজ্ঞপ্তি===   কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার মহান স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ
বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৭তম শাহাদত বাষির্কী ও জাতীয় শোক দিবস ২০২২ পালিত হয়েছে। আজ ১৫ আগস্ট সোমবার সকাল ৯.৩০টায় কালো ব্যাজ ধারণ করে মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এফ এম  আবদুল মঈন এর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ শোক র‌্যালীতে অংশগ্রহণ করে। র‌্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের পাদদেশে এসে শেষ হয়। র‌্যালি শেষে সকাল ১০.০০টায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এফ এম আবদুল মঈন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড.  মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, মাননীয় ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোঃ আসাদুজ্জামান, শিক্ষক সমিতির সভাপতি, প্রক্টরসহ শিক্ষক,
শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। এরপর পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, কুবি শাখা
ছাত্রলীগ, বিভিন্ন হল,কর্মকর্তা সমিতি, বিভিন্ন বিভাগ, কর্মচারী পরিষদ, কর্মচারী সমিতি, বিভিন্ন সামাজিক ও
সাংস্কৃতিক সংগঠন।
পুষ্পার্ঘ অর্পণ শেষে বেলা ১১টায় প্রশাসনিক ভবনের ৪১১নং কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনায় সভ্ধাসঢ়;য় উপাচার্য প্রফেসর ড.
এ এফ এম আবদুল মঈন বলেন, আজ বঙ্গবন্ধুর প্রয়াণ দিবস। এ দিনটি জাতির জন্য শোক ও বেদনার। বঙ্গবন্ধু আমাদের
বাংলাদেশের স্থপতি। বিশাল হৃদয়ের অধিকারী বঙ্গবন্ধু শুধু একজন ব্যক্তি নয়, তিনি হচ্ছেন একটি আদর্শের নাম। ৭৫ সালে
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে সেই আদর্শকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারকে হত্যার পরেও ষড়যন্ত্রকারীদের
কর্মকান্ড থেমে থাকেনি, মুক্তিযোদ্ধা শক্তির উপর ক্রমাগতভাবে আঘাত হানা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৭৫ এর ৩ নভেম্বর হত্যা করা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের সংঘঠক বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত ঘনিষ্ট চার নেতাকে। এছাড়াও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু  কন্যা শেখ হাসিনা ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাসায় অবস্থান কালে ও ২১ আগস্ট জনসভায় বোমা হামলা করে তাঁকে হত্যার চেষ্টা  করা হয়েছে। এতকিছুর পরও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বাঙালি জাতির হৃদয় থেকে মুছে ফেলতে পারেনি। কিন্তু আমরা ক’জন  বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে পুরোপুরিভাবে ধারণ করি এবং সেই অনুযায়ী কাজ করি? বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন একটি দূর্নীতিমুক্তও অসাম্প্রদায়িক সমাজ যেখানে বিভেদ ভুলে সবাই ন্যায়-পরায়নতার সাথে স্ব স্ব কাজে নিয়োজিত থাকবে এবংদেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতি গঠনে অংশগ্রহণ করবে। আমরা কি পেরেছি বঙ্গবন্ধুর সেই আদর্শ বুকে ধারণ করতে?বঙ্গবন্ধু আরও চেয়েছিলেন বাঙালি জাতি জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নতির মাধ্যমে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে। আজ আমাদেরএই জাতীয় শোক দিবসে প্রতিজ্ঞা হোক, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ যথাযথভাবে বুকে ধারণ করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরাগড়ে তুলি আমাদের দেশেকে, উন্নত করি আমাদের শিক্ষা ও গবেষণাকে। এর মধ্য দিয়েই আমাদের বিশ^বিদ্যালয়সহ বঙ্গবন্ধুরস্বপ্নের সোনার বাংলা এগিয়ে যাবে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নত বাংলাদেশের ভিশন অর্জন হবে।মাননীয় উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, বাঙালি জাতির জন্য আজকের দিনটি শোকের দিন।বঙ্গবন্ধু ছিলেন আশৈশব একজন মানুষ। বঙ্গবন্ধু ধাপে ধাপে বাঙালিকে তৈরি করেছেন। বঙ্গবন্ধু রাইফেলের সামনে নিজের  জীবনকে উৎসর্গ করেছেন। বঙ্গবন্ধু আর যদি ১০ বছর বেঁচে থাকতে পারতেন তাহলে আমরা সেই সময়েই উন্নয়নশীল পার
করে উন্নত দেশে পরিণত হতে পারতাম। আমরা শোককে শক্তিতে পরিণত করবো, নিজেকে পরীক্ষিত বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে গড়ে তুলবো। মানবপ্রেমে উজ্জীবিত হওয়াই হোক আমাদের অঙ্গিকার।
বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধার সহিত স্মরণ করে মাননীয় ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ মুখে
প্রচার করার বিষয় নয়, এটি লালন ও অনুধাবন করতে হয়। ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পরও তাঁর খুনি এবং
দোসররা এখনো থামেনি । বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে তারা লিপ্ত রয়েছে। যারা বিভিন্ন সময় দেশকে পিছিয়ে নিতে কাজ করেছে
তাদের মুখোশ উম্মোচন হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংগ্রাম
ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে পরিনত করতে সক্ষম হয়েছে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র নন্দী উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
এছাড়াও দিবসটি পালন উপলক্ষে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অফিস, একাডেমিক ভবন ও ডরমেটরিতে
জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন, কুরআন খতম এবং বাদ যোহর কেন্দ্রীয় মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল
এবং রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান এবং আলোচনা সভা
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মোঃ মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম।

সংবাদ প্রকাশঃ  ১৫-০-২০২২ইং সিটিভি নিউজ এর  (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like  See More =আরো বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন=  

Print Friendly, PDF & Email