শত্রুতাবশত বিষাক্ত পদার্থ প্রয়োগ করে ঝিনাইদহে কৃষকের প্রায় ৪ বিঘা জামির ধান নষ্ট

 সিটিভি নিউজ।। মানিক ঘোষ   নিজস্ব প্রতিনিধি  জানান ===
শত্রুতাবশত গভীর রাতে বিষাক্ত পদার্থ (এটোপচা) প্রয়োগ করে এক কৃষক পরিবারের প্রায় ৪ বিঘা জামির ধান নষ্ট করে দিয়েছে দূর্বৃত্তরা। এতে ক্ষেতের ধান গাছ মরে প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকার তিসাধন হয়েছে। জমি কেনাবেচা নিয়ে এক বিরোধের জেরেই এমন অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহে নলডাঙ্গা ইউনিয়নের ভিটশ্বর গ্রামে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক পরিবারটি থানাতে এক অভিযোগ দায়ের করায় বুধবারে ঝিনাইদহ সদর নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম শাহিন ,জেলাৃ কৃষি অফিসার জাহিদুল ইসলাম ও পুলিশ সরেজমিনে ধান ক্ষেতটি পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্থ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওই পরিবারটি সোমবার রাতে কালীগঞ্জ প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের সহযোগীতা কামনা করেন।
ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ভিটশ্বর গ্রামের হৃষিকেষ মন্ডলের ছেলে নৃপেল মন্ডল তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, একই গ্রামের মৃত মহির উদ্দিনের পুত্র মতির পরিবারের সাথে তাদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। এরই জের ধরে প্রতিপক্ষরা শত্রুতাবশত গত ২৫ বা ২৭ মার্চ গভীর রাতে তাদের মাঠে আবাদকৃত ১৫১ শতক জমির ধান ক্ষেতে বিষাক্ত পদার্থ ছিটিয়ে দেয়। এতে ২ দিনের মধ্যে ওই ক্ষেতের সব কাচা ধান শুকিয়ে মরে যায়। তিনি অভিযোগে প্রতিবেশি বিল্লাল হোসেনের বরাত দিয়ে জানান, ঘটনার দিন ২৫ মার্চ ভোরে বিল্লাল নামাজ পড়তে মসজিদে যাবার সময়ে দেখেছিল অভিযুক্ত মতি ভেজা কাপড়ে স্প্রে মেশিন কাঁধে নিয়ে মাঠ থেকে বাড়িতে যাচ্ছে। তাদের সন্দেহ মতিই তাদের ধানের ক্ষেতটি ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। ওই ঘটনার ২ দিন পর কৃষক নৃপেন মন্ডল স্থানীয় নলডাঙ্গা পুলিশ ফাড়ি ও পরে ৪ মার্চ সদর থানাতে অভিযোগ দায়ের করেন। মামলা নং ১২।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার এস আই আরাফাৎ হোসেন জানান, তিনি ঘটনাটির তদন্ত করে ধান ক্ষেত বিনষ্টের সত্যতা পেয়েছেন। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা তাকে বলেছেন, এটোপচা নামক এক ধরনের বিষাক্ত পদার্থ ছিটালে কাচা ধানের এমন ক্ষতি হতে পারে। তিনি এজাহারে বিবাদীর সাথেও কথা বলেছেন এবং ক্ষতি সংশ্লিষ্টতার সঠিক প্রমানাদি পেলেই ব্যাবস্থা নিবেন বলে জানান।
সোমবার রাতে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশিদের নিয়ে কালীগঞ্জ প্রেসক্লাবে এসে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক নৃপেন মন্ডল জানান, ২০১৫ সালে তাদের ১ একর ৮৮ শতক জমির মধ্যে বাবা হৃষিকেশ ও কাকা অমরেশ মন্ডল বিবাদি মতির ছোট ভাই ফারুক হোসেনের নিকট ওই জমির পশ্চিম পাশর্^ উল্লেখ করে ৪৬ শতক জমি বিক্রয়ের একটি বায়নানামা করেন। সেই সাথে ওই বছরেই তার বাবা ্রৃষিকেশ আড়াই লাখ টাকা দিয়ে ফারুকের নিকট থেকে ১৫১ শতক মাঠের ধানের জমি বন্দক নেন। সে সময়ে বাদি ও বিবাদি দু,পরিবারের মধ্যে বেশ সু-সম্পর্ক ছিল। পরবর্তিতে ২০১৮ সালে ফারুক তার বায়নানামা মুলে ক্রয়কৃত জমিটি পশ্চিম পাশ্বের পরিবর্তে পূর্ব পার্শ¦ রাস্তা সংলগ্ন বসত ভিটাসহ ৪৬ শতক জমি রেজিষ্ট্রি করিয়া নেয়। কিন্তু পাশর্^ উল্লেখের বিষয়টি পরে জানতে পেরে তা সংশোধনের দাবী করাতে উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে ফারুক বায়নানামার আরো ৪৬ শতক জমি দাবী করেন। এ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিচার চেয়েও কোন প্রতিকার না পাওয়াতে নিরিহ নৃপেনের পরিবার ২০১৯ সালে দেওয়ানী আদালতে একটি সংশোধনী মামলা দায়ের করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিবাদীপক্ষের লোকজন তাদেরকে নানা ভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। বর্তমানে নিরিহ পরিবারটি আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

সংবাদ প্রকাশঃ  ৭২০২১ইং (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like সিটিভি নিউজ@,CTVNEWS24   এখানে ক্লিক করে সিটিভি নিউজের সকল সংবাদ পেতে আমাদের পেইজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুনসিটিভি নিউজ।। See More =আরো বিস্তারিত জানতে লিংকে ক্লিক করুন=   

Print Friendly, PDF & Email