নারায়ণগঞ্জ থেকে ৭টি রুটে চলাচলকারী লঞ্চ চালাচ্ছে সুকানী ও গ্রীজার

সিটিভি নিউজ, এম আর কামাল, নারায়ণগঞ্জ থেকে জানান : নারায়ণগঞ্জ থেকে ৭টি রুটে নৌ পথে চলাচলকারী প্রতিটি লঞ্চেই মাস্টার ড্রাইভার দেখিয়ে সার্ভে সনদ নেয়া হলেও মুন্সিগঞ্জগামী লঞ্চগুলোতে থাকেনা মাস্টার ড্রাইভার। লঞ্চগুলোর মালিকপক্ষ অধিক মুনাফালোভে লঞ্চ পরিচালনার ভার তুলে দেন সুকানী ও গ্রীজারদের হাতে। রাজধানীর অতি নিকটে ও ঐতিহ্যবাহী নদী বন্দর হলেও নারায়ণগঞ্জের লঞ্চগুলো চলছে জোড়াতালি দিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিনের পুরনো লঞ্চগুলো চলাচলের অনুপযোগী হলেও এগুলোকে ডকইয়ার্ড নিয়ে রঙ মেখে নতুন দেখিয়ে অবৈধ অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ফিটনেস সার্টিফিকেট নেওয়া হয়। সূর্যাস্তের পরে চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত যন্ত্রাংশ না থাকা এবং অনুমতি না থাকলেও প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়েই শীতলক্ষ্যা, ধলেশ^রী ও মেঘনা নদী পাড়ি দিচ্ছে এসকল লঞ্চগুলো। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হলেও যেন কর্ণপাত নেই কারোই।
নিরাপদ নৌপথ চাই ও বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সবুজ শিকদার মাষ্টার জানান, নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ রুটে চলাচলকারী লঞ্চগুলোর কোনটিরই মাস্টার ড্রাইভার নেই। এসকল লঞ্চ চালাচ্ছে সুকানী ও গ্রীজাররা। সার্ভের সময় মালিকরা চালাকি করে ডিসপেনশন সার্টিফিকেট নিয়ে থাকে। আইএসও ১৯৭৬ এর নিয়ম অনুযায়ী তৃতীয় শ্রেনীর নৌযান সুর্যাস্তের পর চলতে পারবে না। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ থেকে চলাচলকারী লঞ্চগুলো রাত ৯-১০টা পর্যন্তও চলে। সার্ভের সময় যে ধারনক্ষমতা দেখানো হয় তার থেকে কয়েকগুন বেশী যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো চলাচল করে। যেমন যে লঞ্চটি ৪০ জনের কনজারভেসি, আয়কর, যাত্রী কল্যাণ ট্যাক্স দেয় সেই লঞ্চটি প্রতি ট্রিপে অন্তত দেড় থেকে দুই’শ জন যাত্রী বহন করে থাকে। প্রতিটি লঞ্চে বয়া থাকার প্রয়োজন ১২-১৬ টি। কিন্তু রয়েছে অর্ধেকেরও কম। নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে চলাচলকারী লঞ্চগুলো দীর্ঘদিনের পুরনো। এগুলোর ফিটনেস প্রশ্নবিদ্ধ। কিন্তু এই লঞ্চগুলোকে ডকইয়ার্ড নিয়ে জোড়াতালি দিয়ে রঙ মাখিয়ে নতুন দেখিয়ে ফিটনেস নেওয়া হয়। সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের কর্মকর্তাদের মোটা অংকের অর্থ ঘুষ দিয়ে ফিটনেসবিহীন লঞ্চকে সার্ভে সনদ দেয়া হয়। আমরা গেল বছরের জানুয়ারীতে নিরাপদ নৌপথের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিলাম। এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি সভাতে নানা বিষয়ে সিদ্ধান্তও হয়েছিল। কিন্তু করোনার কারণে সেসকল সিদ্ধান্ত আজো বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমানে করোনার কারণে যাত্রীর সংখ্যা কম থাকলেও অদক্ষ চালকদের কারণে রয়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
বিআইডব্লিউটিএ এর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের দায়িত্বে থাকা বাবু লাল বৈদ্য জানান, ৫টি রুটে ৭০টি লঞ্চ চলাচল করে থাকে। নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জ রুটে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬/৭ টা পর্যন্ত ২০ মিনিট পর পর লঞ্চ ছেড়ে যায়। এই রুটে ২৫টি লঞ্চ চলাচল করে। নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুর রুটে ১৫টি, মতলব-মাছুয়াখালী রুটে ১৯টি, হোমনা-রামচন্দ্রপুর ১টি, সুরেশ্বর-নরিয়া (শরিয়তপুর) ২টি লঞ্চ চলাচল করে থাকে। লঞ্চ মালিকরা সমুদ্র পরিবহন অধিদফতর থেকে সার্ভে সনদ নিয়ে লঞ্চ পরিচালনা করে থাকে। এরপর তারা রুটের বিষয়টি অনুমোদন দিয়ে থাকেন এবং ওভারলোডের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে থাকেন। অন্যান্য রুটের লঞ্চগুলোতে মাস্টার ড্রাইভার থাকলেও নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জ রুটে সাধারণত সুকানীরাই লঞ্চ চালাচ্ছে। তবে এদেরকে ডিজি শিপিং থেকে কোয়ার্টার মাস্টারের সনদ দেয়া হয়ে থাকে।
সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তারা মাঝেমধ্যেই শীতলক্ষ্যা নদীতে চলাচলকারী সার্ভে সনদের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন এবং অভিযান পরিচালনা করে থাকেন। তারা বিধিমালা অনুসরণ করেই এক বছরের জন্য সার্ভে সনদ প্রদান করে থাকেন। তবে যদি কোন লঞ্চ মালিক এক মাস মাস্টার ড্রাইভার রেখে বাকী ১১ মাস তাদের না রাখে সেক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করণীয় থাকেনা।
নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি বদিউজ্জামান বাদল জানান, ৬৫ ফুটের নিচে যেসকল লঞ্চ বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জ রুটে চলাচলকারী লঞ্চগুলো কোয়ার্টার মাস্টার (সুকানী গ্রিজার) দ্বারা পরিচালনা করা হয়। তারা ডিজি শিপিং থেকে কোয়ার্টার মাস্টারের প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন। এছাড়া চাঁদপুর ও নরিয়া রুটে চলাচলকারী লঞ্চগুলো সিঙ্গেল ইঞ্জিন হওয়ায় সেগুলো তৃতীয় শ্রেনীর মাস্টার ড্রাইভাররা চালাতে পারেন। তারা সকল নিয়ম কানুন মেনেই লঞ্চ পরিচালনা করছেন। ওভারলোড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে কখনোই ওভারলোড হয়না।

সংবাদ প্রকাশঃ  ৬২০২১ইং (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like সিটিভি নিউজ@,CTVNEWS24   এখানে ক্লিক করে সিটিভি নিউজের সকল সংবাদ পেতে আমাদের পেইজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুনসিটিভি নিউজ।। See More =আরো বিস্তারিত জানতে লিংকে ক্লিক করুন=   

Print Friendly, PDF & Email