নারায়ণগঞ্জে জাপা’র এমপি খোকার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে আ’লীগ : অবাঞ্ছিত ঘোষণা

সিটিভি নিউজ, এম আর কামাল, নারায়ণগঞ্জ থেকে জানান : নারায়ণগগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনের এমপি ও জাতীয় পাটির যুগ্ম মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে আওয়ামীলীগ। সোনারগাঁয়ে জি আর ইনস্টিটিউশনের প্রধান গেইটের সামনে জেলা পরিষদের নামফলক ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগে তার উপর ক্ষুব্দ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। রীতিমতো এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) সকালে সোনারগাঁয়ে প্রতিবাদ সভা করে এমপি খোকাকে প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় আওয়ামীলীগ।
অন্যদিকে জেলা আওয়ামীলীগ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শাস্তি দাবি করেছেন এমপি খোকার। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগ বিক্ষোভ সমাবেশ করে এমপি খোকাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলেছেন। অন্যথায় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে নারায়ণগঞ্জ অচল করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। মোটকথা এমন একটা সময়ে এমপি খোকার বিরুদ্ধে একহাট্টা হচ্ছেন আওয়ামীলীগ যখন সোনারগাঁও পৌরসভার নির্বাচন আসন্ন। নির্বাচনে তার স্ত্রী ডালিয়া মেয়র প্রার্থী। তাই সেদিনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অনেকেই বলছেন, এমপি সাহেবের এমন কাজটা করা ঠিক হয়নি। তিনি নিজেই শান্ত পরিবেশটাকে অশান্ত করেছেন নামফলক ভাঙ্গার ইন্দন যুগিয়ে। তাছাড়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেছেন, এমপি খোকা নিজে দাড়িয়ে থেকে এবং তার নির্দেশে নাম ফলক ভাঙ্গা হয়েছে।
ওদিকে নামফলক ভাঙ্গার বিষয়ে এমপি খোকা এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৃহ¯পতিবার (১৯ নভেম্বর) রাত ৯ টা পর্যন্ত তার অবস্থান ব্যাখা করতে দেখা যায়নি।
জেলা আওয়ামীলীগের নিন্দা : এদিকে বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা আওয়ামীলীগ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তারা বলেন, এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার নির্দেশে সোনারগাঁও জিআর ইনস্টিটিউশন স্কুল এন্ড কলেজের মূল ফটকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাতি আনোয়ার হোসেনের নাম ফলক ভেঙ্গে দেয়ায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এমপির এহেন আচরনে সকল আওয়ামী পরিবার ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
বিবৃতি দিয়েছেন, জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী, সহসভাপতি অ্যাডভোকে আসাদুজ্জামান, আরজু রহমান ভুইয়া, আব্দুল কাদির, আদিনাথ বসু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, জেলা আওয়ামলীগ নেতা খালিদ হাসান, মো: ইসহাক, ডা. নিজাম উদ্দিন, মরিয়ম কল্পনা, রানু খন্দকার।
সোনারগাঁও আওয়ামীলীগ : নামফলক ভাঙ্গার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে সোনারগাঁও জি আর ইনস্টিটিউশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে মানববন্ধন থেকে এমপি লিয়াকত হোসেন খোকাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে প্রতিহতের দৃঢ়তা প্রকাশ করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা। শুধু তাই নয়, এই আসনে আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল কায়সার ভবিষ্যতে লিয়াকত হোসেন খোকার এসব কর্মকান্ডের সমুচিত জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
আল কায়সার হাসনাত বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দয়ায় জাতীয় পার্টি থেকে লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি নির্বাচিত হয়ে বিএনপির জ¦ালাও পোড়াও মামলার আসামীদের একের পর জাতীয় পার্টিতে যোগদান করিয়ে সোনারগাঁয়ে পুনর্বাসন করছেন। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একাধিক নাশকতার মামলা রয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতের লোকদের জোর করে জাতীয়পার্টিকে নিয়ে মনে করছেন সোনারগাঁয়ে জাতীয় পার্টি শক্তিশালী হয়ে গেছে এটা আপনার ভুল ধারণা।
এমপি খোকাকে উদ্দেশ্য করে কায়সার আরও বলেন, আপনাকে এমপি বানাতে সোনারগাঁ উপজেলা আমওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা যেভাবে কাজ করেছে আপনি তা ভুলে গেছেন। আপনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতন করছেন। এখন থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর কোন প্রকার নির্যাতন ও শেখ হাসিনার উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করবেন না। তা হলে সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা আর বসে থাকবেনা, তারা আপনাকে দাঁতভাঙা জবাব দিবে।
সোনারগাঁ পৌর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তৈয়্যবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরফি মাসুদ বাবু, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান কোহিনুর ইসলাম রুমা, সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি গাজী মুজিবুর রহমান, জেলা পরিষদের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান মাসুম, সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন, পৌরসভা আওয়ামীলীগের নেতা মাইনুদ্দিন আহমেদসহ স্থানীয় যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগ : বুধবার (১৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাতের নেতৃত্বে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জি এম আরাফাত বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আদর্শে রাজনীতিবিদ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। তাকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে মনোয়ন দিয়ে, আজ তিনি চেয়ারম্যান হয়ে পুরো জেলা জুড়ে উন্নয়নের কাজ করে যাচ্ছে। সেখানে তৃতীয় শ্রেণী এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা কিভাবে আনোয়ার হোসেন সাহেবের নামফলক নিজে দাড়িয়ে থেকে মিস্ত্রি দিয়ে ভাঙ্গিয়েছে। তিনি এমন দূ:সাহস কিভাবে পান? তিনি যদি প্রকাশ্যে চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের কাছে ক্ষমা না চান, তাহলে জেলা জুড়ে প্রতিটি ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা মাঠে নামবে, নারায়ণগঞ্জকে অচল করে দেয়া হবে।
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন যা বললেন : জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, জিআর ইন্সটিটিউটের স্কুলের গভর্নিং বডির সভাপতি হচ্ছেন আমাদের জেলা পরিষদের সদস্য ফারুক হোসেন। সে জিআর ইন্সটিটিউটের স্কুলের গেইট ও দেয়াল নির্মাণের জন্য একটা বরাদ্দের জন্য আবেদন করেন। আমরা স্থানীয় এমপির সঙ্গে সমন্বয় করে একটা ডিও লেটার দেয়ার জন্য বলেছি তাকে। যথাসময়ে ডিও লেটারও আমরা পেয়েছি। ২০ লাখ টাকার অনুদান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ওই কাজের জন্য। এটা এডিবির ফান্ড থেকে দেয়া হয়।
আনোয়ার হোসেন আরো বলেন, মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) স্থানীয় জাতীয় পাটির এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা জিআর ইন্সটিটিউটের স্কুলে কোন একটা কারণে গিয়েছিল। পরে স্কুল থেকে বের হওয়ার সময় নাম ফলকে আমার (আনোয়ার হোসেন) নাম দেখে সে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এবং আমার নাম ধরে গালমন্দও করেছে। এক পর্যায়ে তার নির্দেশে হাতুড়ি দিয়ে নামফলক ভেঙ্গে ফেলা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন আমাকে বিষয়টি জানিয়েছে।
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, জেলা পরিষদের নির্মিত একটা স্থাপনা এটা। সে (এমপি খোকা) এলাকার এমপি। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের নাম ফলকে থাকাটাই স্বাভাবিক। শুধু এখানে নয় রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার, বন্দরসহ জেলা পরিষদের বিভিন্ন এলাকায় আমার নামে নাম ফলক রয়েছে। সেখানে তো কোন সমস্যা হয়নি। শামীম ওসমান, সেলিম ওসমান মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী ও নজরুল ইসলাম বাবুও কোন হস্তক্ষেপ করেনি। এখানে (জিআর ইন্সটিটিউটের স্কুল) তার (এমপি খোকা) যদি কোন আপত্তি থাকতো বা আমাদের কোন অনিময় থাকতো তাহলে সে যথাযথভাবে আমাদের জানাতে পারতো। কিন্তু সে আইনের মানুষ (আইন প্রনেতা) হয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় তার এমন বেআইনী কাজ করাটা ঠিক হয়েছে কি না আমি জানি না। তবে আমি সর্বমহলে বিষয়টি অবহিত করেছি।
প্রসঙ্গত : নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনের সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) সোনারগাঁ জি আর ইনস্টিটিউশন স্কুল এন্ড কলেজে প্রবেশের সময় স্কুলের মূল ফটকের পাশে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের নাম দেখে বেশ রাগান্বিত হন। এসময় উপস্থিত শিক্ষকদের উপর চটে যান। আর আনোয়ার হোসেনের নাম কেন লেখা হয়েছে সেটা জানতে চান। আশেপাশের অনেক লোকজন সেখানে জড়ো হন। পরে নাম ফলকটি হাতুড়ি দিয়ে ভেঙ্গে ফেলা হয়। নাম ফলকে লেখা ছিল ‘জি আর ইনস্টিটিউশনের মেইন গেইট ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন আলহাজ্ব মো: আনোয়ার হোসেন, চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদ’। গত ২৫ সেপ্টেস্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুল ফটকটি উদ্বোধন করছিলেন।

সংবাদ প্রকাশঃ  ২০১১২০২০ইং (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like সিটিভি নিউজ@,CTVNEWS24   এখানে ক্লিক করে সিটিভি নিউজের সকল সংবাদ পেতে আমাদের পেইজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুনসিটিভি নিউজ।। See More =আরো বিস্তারিত জানতে লিংকে ক্লিক করুন=   

Print Friendly, PDF & Email