সন্দেহ একটি মহামারী

সিটিভি নিউজ।।     মোঃ আবদুল আউয়াল সরকার লেখকঃ   সন্দেহ বা ডাউট শব্দটি আকারে ছোট হলেও এই শব্দের ক্ষমতা অনেক। বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের অন্তর্বর্তী যে নেতিবাচক চিন্তা ও অনুভূতি আমাদের যন্ত্রণা বা কষ্টের কারন হয়ে দাঁড়ায় তার নাম সন্দেহ। সন্দেহ নামক ঘূণ পোকা যার মনের ঘরে আশ্রয় নেয় তাকে একেবারে মানসিক যন্ত্রণার চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যায় এবং নিঃশেষ করে ফেলে।
বর্তমান সময় সন্দেহ মহামারী আকার ধারণ করেছে। স্বামী স্ত্রীকে, স্ত্রী স্বামীকে, বাবা মাকে, ভাই বোনকে, মা- বাবা সন্তানকে সন্দেহ করে। সন্দেহ করে সংসারে অশান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। পরিবারের অশান্তি এমন পর্যায় চলে যাচ্ছে যে, পরিবারটি জাহান্নাম হয়ে গেছে। বিশেষ করে স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে যখন এই সন্দেহের বিষ ঢোকে তখন সেই ঘরে আর সুখ-শান্তি থাকে না। সন্দেহ মূলত দু’টি কারণে হয়। যথা -১. প্রচণ্ড ভালোবাসলে ২. অন্যের রিলেশনের ঘটে যাওয়া ঘটনা দেখে দেখে মনে সন্দেহের সৃষ্টি হতে পারে।
১. প্রচণ্ড ভালোবাসলে: কেউ যদি কাউকে প্রচণ্ড ভালোবাসে তবে তার মনের মধ্যে সব সময় হারানোর ভয় কাজ করে। এই হারানোর ভয় থেকেই সৃষ্টি হয় সন্দের। অনেক সময় পিতা-মাতা সন্তানকে প্রচণ্ড ভালোবাসেন আর এই প্রচণ্ড ভালোবাসা থেকেই তারা সন্তানদের সব সময় সন্দেহ করতে থাকেন। ফলে সন্তানের সাথে পিতামাতার সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে। সন্তান পিতামাতাকে ভুল বুঝে দূরে সরে যায়। বন্ধু বান্ধবের সাথে নানা রকম অপরাধে জড়িয়ে যায়। আবার স্ত্রী অথবা স্বামীও একে অপরকে প্রচণ্ড ভালোবাসা থেকেও সন্দেহ করতে শুরু করে। পারস্পারিক সন্দেহ আর ভুল বোঝাবুঝির কারণে নষ্ট হয়ে যায় তাদের পারিবারিক সম্পর্ক। অনেক সময় ভেঙে যায় তাদের পারিবারিক বন্ধন।
২.অন্যের রিলেশনের ঘটে যাওয়া ঘটনা দেখে দেখে মনে সন্দেহের সৃষ্টি হতে পারে: আশপাশের চেনা জানা কারো পরকীয়া বা অন্য কোনো নতুন সম্পর্ক গড়ে উঠতে দেখলে মনের মধ্যে সন্দেহের দানা বাঁধতে শুরু করে। সহকর্মীদের পরকীয়ায় জরাতে দেখে নিজের ঘরের স্ত্রীকেও সন্দেহ করতে শুরু করেন অনেকে। অনেক পিতা মাতাও অন্যের বখে যাওয়া সন্তানকে দেখে নিজের সন্তানের প্রতি সন্দেহের তীর ছুঁড়তে শুরু করেন। সন্তানের ওপর অবিশ্বাস বাড়তে থাকে। বাড়তে থাকে সংসারের অশান্তি।
সন্দেহ যখন মাত্রাতিরিক্ত হয়ে ওঠে তখন সেটি রোগে পরিণত হয়। সন্দেহবাতিক রোগ এমন রোগ যেটা দাম্পত্য সম্পর্কে ভয়াবহ পরিণতি এনে দেয়। বিষময় হয়ে ওঠে জীবন। এ ক্ষেত্রে সন্দেহ করা অভ্যাসে রূপ নেয় এবং সন্দেহটি ঘনীভূত বিশ্বাসে পরিণত হয় যদিও এর পেছনে যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ থাকে না। এ ক্ষেত্রে কল্পিত সন্দেহ নিছক হলেও সেটিকে বাস্তবে পরিণত করতে রোগী সব সময় সচেষ্ট থাকে।
সন্দেহবাতিক রোগের কারণে ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনাও ঘটে যেতে পারে।
জেলাসি রোগী কর্তৃক শারীরিক জখমের মাত্রাও উল্লেখযোগ্য। এমনও দেখাগেছে, ক্রমাগত তীব্র সন্দেহের জ্বালা সইতে না পেরে অনেক নিরপরাধ পার্টনার আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
এসব ব্যক্তিকে কৌশলে মূল্যায়ন করতে হয়।মনের ভেতরে যদি প্রতিশোধপরায়ণ মনোবৃত্তি থাকে তাহলে বিশেষভাবে সতর্ক হতে হবে। এক্ষেত্রে পার্টনারকে কৌশলে এবং ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। সাধারণত এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি মনে করেন না সে রোগে আক্রান্ত। তাই সে ডাক্তারের শরণাপন্ন্ হতে চায় না। এক্ষেত্রে সন্দেহ নামক রোগের রোগীদের চিকিৎসা করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ রোগী মনেই করেন না যে, তার রোগ হয়েছে। ফলে চিকিৎসার যে কোনো উদ্যোগই তার কাছে অনধিকার চর্চা ও অন্যায় আচরণ বলে মনে হয়।সেক্ষেত্রে মানষিক রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া যেতে পারে।

মোঃ আবদুল আউয়াল সরকার লেখকঃ   চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ
শিক্ষক, কুমিল্লা আইএইচটি এন্ড ম্যাটস।

সংবাদ প্রকাশঃ  ২৯১২২০২০ইং (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like সিটিভি নিউজ@,CTVNEWS24   এখানে ক্লিক করে সিটিভি নিউজের সকল সংবাদ পেতে আমাদের পেইজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুনসিটিভি নিউজ।। See More =আরো বিস্তারিত জানতে লিংকে ক্লিক করুন=   

(সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন)
(If you think the news is important, please like or share it on Facebook)
আরো পড়ুনঃ