পরিবেশ,প্রকৃতির বেহাল অবস্থা কুমিল্লায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে ময়লা-আবর্জনা

সিটিভি নিউজ ।।   নেকবর হোসেন   কুমিল্লা প্রতিনিধি  জানান ===
একদা সুন্দর,পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে পরিচিত কুমিল্লার আজ আর সেই সুনাম নেই। যতই দিন যাচ্ছে ততই অপরিচ্ছন্ন হয়ে উঠছে জেলার প্রায় প্রতিটি জনপদ। বর্তমানে কুমিল্লা একটি মহানগরী। এরবাইরে পুরো জেলায় রয়েছে আরো ৮ টি পৌরসভা। দেশের প্রধান জাতীয় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এক’শত কিলোমিটার অংশজুড়ে রয়েছে ছোটবড় শতাধিক হোটেল -রেষ্টুরেণ্ট। রয়েছে এক হাজারের বেশী সরকারী-বেসরকারী,হাসপাতাল , ক্লিনিক,প্যাথলজি ল্যাব। আর আছে জেলার প্রায় ৬০ লাখ বাসিন্দা। প্রতিদিনই এ থেকে কি পরিমান সৃষ্ট হচ্ছে বর্জ্য তার সঠিক পরিসংখ্যান কারো নেই। তবে নগর কর্তৃপক্ষ প্রতিদিনই কমপক্ষে একশত ২০ মেট্রিক টন ময়লা আবর্জনা অপসারন করছে বলে দাবী তাদের। তবুও সারাদিন নগরীর প্রধান প্রধান সড়কের পাশ বা গলির মুখে থাকা ডাষ্টবিনের ময়লা থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ময়লা-আবর্জনা পঁেচ-গলে নগরীর সড়কের উপর একাকার হচ্ছে। একইভাবে মহাসড়কের পাশজুড়ে একাধিক পৌরসভা ছাড়াও হোটেল-রেষ্টুরেণ্টের ময়লা-আবর্জনা বা উচ্ছিষ্ট থেকেও দুষিত হচ্ছে পরিবেশ। এথেকে যেন কোনভাবেই মুক্তি মিলছেনা। এতে দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে জেলার পরিবেশ। সিটি করপোরেশন আপ্রান চেষ্টা করছে তবে বাইরের মহাসড়কের পাশে থাকা দাউদকান্দি , চান্দিনা , চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা ও মহাসড়কের পাশে থাকা হোটেল-রেষ্টুরেন্টের বর্জ্যে এক কথায় অসহনীয় কুমিল্লার পরিবেশ।
২০১১ সালে দু’টি পৌরসভাকে একিভূত করে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের জন্ম। ৫৩.৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের নগরীতে রয়েছে ২৭ টি ওয়ার্ড। লোকসংখ্যা প্রায় ৫ লাখ। আর পুরো জেলায় রয়েছে ৬০ লাখ জনসংখ্যা। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন উপজেলাছাড়াও পাশ্ববর্তী ফেনী , নোয়াখালী , লক্ষèীপুর , চাঁদপুর , ব্রাহ্মনবাড়িয়া থেকেও শিক্ষা,অফিস বা চিকিৎসা সেবায় এখানে আসছে বহু মানুষ। অনেকে অবিবেচকের মত ব্যবহারের পর উচ্ছিষ্ট অংশ যত্রতত্র ফেলায় নগরীর প্রায় প্রতিটি সড়কের উপর ময়লা,আবর্জনা বা পরিত্যক্ত জিনিসের উপস্থিতি চোঁখে পড়ে। সিটিকরপোরেশন থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে ১২০ মেঃটন ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করে। কিন্তু তবুও নগরীর সর্বত্রই শুধু ময়লা আবর্জনার উপস্থিতি চোঁখে পড়ার মত। অভিযোগ রয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ অসংখ্য ডাষ্টবিন নির্মান করলেও এই নগরীর অনেক বাসা-বাড়ির লোকজনও যত্রতত্র বা ডাষ্টবিনের বাইরে বর্জ্য ফেলছে। এতে প্রতিটা ডাষ্টবিনের বাইরেও সড়কের উপর আবর্জনার স্তুপ দেখা যায়। এদিকে শহরতলীর বিভিন্নস্থানে গড়ে উঠা হাসপাতাল,ক্লিনিক বা বহুতল ভবনের বাসিন্দারা তাদেও বর্জ্য যে যেভাবে যেখানে পারছে ফেলে দিচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের শত কিলোমিটার পথজুড়ে গড়ে উঠা কমপক্ষে শতাধিক হোটেল রেষ্টুরেণ্ট গুলোর বর্জ্য এখন মহাসড়কের মাইলের পর মাইল দু’পাশ জুড়ে স্তুপ হচ্ছে। ফলে মহাসড়কের দু’পাশের দুর্গন্ধে যানবাহনের যাত্রীসহ চালকদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কুমিল্লা মহানগরী ও শহরতলীর ছোট-বড় ড্রেন,খাল কোনটাই আবর্জনা থেকে মুক্তি নেই। ড্রেন কিংবা খালজুড়ে দেখা যায় শত শত প্লাষ্টিকের পানির বোতল , চীপস্ ,পরিত্যক্ত ডাবের খোলসহ নানা বর্জ্য। এতে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্ট হচ্ছে। আর মানুষ এসকল ময়লা আবর্জনার পানিতে হাটা-চলা করতে যেয়ে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। নগরীর বর্জ্য যেখানে প্রতিদিন ফেলছে নগর কর্তৃপক্ষ সেই ঝাকুনীপাড়া গ্রামসহ আশপাশের দৌলতপুর , বাজগড্ডা, খামার কৃষ্ণপুর,জগন্নাথপুর এলাকার অবস্থা এতটাই বেহাল যে, তাদের সাথে ভিন্ন এলাকার মানুষ আতœীয়তা করতেও আসেনা। ওই এলাকার একাধিক লোক জানান, একটু শান্তিতে বসে খাওয়া-দাওয়া বা আড্ডা কোনটাই সম্ভন হচ্ছেনা দুর্গন্ধের কারণে। নগরী ও নগরীর বাইরে প্রতিটি হাইরাইজ ভবনের এক্ষেত্রে একটি করে ডাষ্টবিন নির্মান বাধ্যতামুলক করা উচিত। এতে করে পরবর্তীতে নির্দিষ্টস্থানে এসব ময়লা আবর্জনা ফেলার সুযোগ রয়েছে।
স্বনামধন্য চিকিৎসক কুমিল্লা পরিবেশ আন্দোলনের নেতা ডা. মোসলেহউদ্দিন বলেন, উন্মুক্তভাবে ময়লা আবর্জনায় বায়ু দুষণ ছাড়াও মানুষের মাঝে বিভিন্ন রোগ জীবানু ছড়াচ্ছে। এটা নিয়ন্ত্রণ হওয়া দরকার।
সচেতনতার পাশাপাশি সুন্দর ও ব্যবহার উপযোগী একটি সুন্দর নগরী গড়ে তুলতে এক্ষেত্রে নাগরিকদের জবাবহিতার আওতায় আনতে হবে। যার বাড়ি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে ময়লা আবর্জনা পাওয়া যাবে তাকে আর্থিক জরিমানার অংক গুনতে হবে। এছাড়াও নির্দিষ্টস্থানে ময়লা না ফেললে তাদেরও জরিমানার আওতায় আনতে হবে। আর এসবের মাধ্যমে একটি সুন্দর নগরীরসহ আধুনিক একটি পরিচ্ছন্ন জেলা শহর গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। তানা হলে এক সময় বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে জেলার প্রতিটি জনপদ।সংবাদ প্রকাশঃ  ২৮১২২০২০ইং (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like সিটিভি নিউজ@,CTVNEWS24   এখানে ক্লিক করে সিটিভি নিউজের সকল সংবাদ পেতে আমাদের পেইজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুনসিটিভি নিউজ।। See More =আরো বিস্তারিত জানতে লিংকে ক্লিক করুন=   

(সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন)
(If you think the news is important, please like or share it on Facebook)
আরো পড়ুনঃ