নাটোরের গোপালপুর পৌরসভা: একমাত্র মহিলা মেয়র প্রার্থী বেনু এবার ঘুরে দাড়াতে চাইছেন

সিটিভি নিউজের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন

সিটিভি নিউজ।।    শান্তনু হাসান খান (বিশেষ প্রতিনিধি)  জানান ==আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে নাটোর জেলার নাটোর সদর, সিংরা, নলডাঙা, গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম আর গোপালপুর পৌরসভার মেয়র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই দৌড়ঝাপ শুরু হয়েছে। তবে পাশের বাগাতিপাড়া জলা পৌরসভাকে নিয়ে মামলা নিযে জটিলতায় নির্বাচন কমিশন মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনকে সকল ব্যবস্থা গ্রহণের নিদের্শনা দিয়েছেন। সম্ভবত ২৩৪ টি পৌরসভার মধ্যে নির্বাচনের আওতায় আসবে না।

এবার দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিানের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ডিসেম্বর থেকে কয়েক ধাপে ২৩৪ টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণের আয়োজন চলছে। এর পর আগামী বছরের মার্চে ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা চলবে। তবে চলতি বছর অক্টোবরের শেষ নাগাদ দেশে বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর সেই আলোকে দেশে বর্তমানে তিনশর বেশি পৌরসভা রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর একযোগে ২৩৪ টি পৌরসভায় ভোট হয়। অন্যান্য পৌরসভার ভোট মেয়াদ অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর যেসকল পৌরসভাগুলোর ভোট হয়েছিল তার বেশির ভাগের মেয়র ও কাউন্সিলররা পরের বছরের জানুয়ারি/ফেব্রুয়ারি মাসে শপথ নেন। ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ হিসেবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে এসব পৌরসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আর সেই আলোকে এবার নাটোরের গোপালপুর পৌরসভা নির্বাচন চূড়ান্ত। ১৯৯৮ সালে ঘোষনার পর পদাধিকার বলে টি.এন.ও ছিলেন পৌর প্রশাসক। আর নয়টি ওয়ার্ডকে বিভাজন করে সহায়তা কাউন্সিলর হিসেবে ১২ জন ব্যক্তি বহাল ছিলেন। আর তখন মনজুল ইসলাম বিমল ছিলেন গোপালপুর পৌর চেয়ারম্যান। গোপালপুর মূলত বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা। এখানে আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ভালো অবস্থায় নেই। নিজেদের অভ্যন্তরীন কোন্দলের কারণে আওয়ামি লীগের কোনো নেতা সফলতার মুখ দেখেনি। তবে এবারের প্রেক্ষাপট একটু ভিন্ন। এবার পৌর নির্বাচনে চারজনের নাম উঠে এসেছে। আর বিএনপি থেকে বর্তমান মেয়র নজরুল ইসলাম মোলাম পুনরায নির্বাচনে থাকছেন বলে নিশ্চিত করেছেন আমাদেরকে। গোপালপুরের তৃনমূলের নেতাকর্মী সহ পছন্দের তালিকায় আসিয়া জয়নাল বেনু খুব ভালো অবস্থানে আছেন। কেননা এর আগেও ৪বার সংরক্ষিত মহিলা এমপি আসনের জন্য আরেক বার সাধারণ এমপির জন্য নমিনেশন চেয়েচিলেন। কিন্তু কোনোবারেই সফলতা আসেনি। কারণ আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীন কোন্দল। অপরদিকে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি রোকসানা মর্ত্তুজা লিলি ২০১৫ নির্বাচনে মাত্র ৪১৩ ভোটে বিএনপি মেয়রের কাছে হেরে যান। আর ২ জন সাইফুল ইসলাম ও নাজমুল হোসেন দীর্ঘদিন এলাকাতে রাজনীতি করলেও জনগনের কাছে তেমন গ্রহণযোগ্যতা নেই। তবে এবার ২ মহিলা মেয়র প্রার্থীকে কিভাবে মূল্যায়ন করা হবে- স্থানীয় সরকার নির্বাচন সিলেকশন কমিটি সেটা সময়ের ব্যাপার মাত্র। তবে আসিয়া বেগম বেনু গোপালপুরের নর্থ বেঙ্গল সুগারমিল স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। ১৯৮০ সাল থেকে আওয়ামী ঘরানার সাথে সম্পৃক্ত। ১৯৯৬ তে জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত হন। বর্তমানে ২০১৪ থেকে উপজেলা মহিলা বিষয়ক সম্পাদক দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, আমি বহু নির্যাতনের শিকার হয়ে এবং দলের কাছে মূল্যহীন ভাবে এতদিন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ পালন করে আসছি। আমার যোগ্যতায় এবার আমি মেয়র নির্বাচনে শেষ অব্দি মাঠে থাকবো। আর আমার দৃঢ় বিশ^াস জননেত্রী শেখ হাসিনা এবার আমাকে বিমুখ করবেন না। দল থেকে নমিনেটেড হলে যেকোনো প্রার্থীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হতে পারবো ইনশাল্লাহ্। আর নির্বাচিত হলে এতদিনকার মেয়ররা যা করতে পারেনি, আমি মহিলা মেয়র হিসেবে বিভিন্ন সংস্থা থেকে অনুদান এনে গোপালপুরকে ঢেলে সাজাতে চেষ্টা করবো। তিনি বলেন, জীবনের অনেকটা সময় বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সামনে রেখে আওয়ামী ঘরানার রাজনীতি করতেহ গিয়ে জামাত বিএনপির অনেক হামলা-মামলায় কোনঠাসা ছিলাম। ঘর থেকে বের হতে পারতাম না। তার পরেও নাটোর জেলা শহরে গিয়ে মিছিল মিটিং সমাবেশ করেছি। স্বৈরাচার পতন আন্দোলনে একমাত্র মহিলা কর্মী আমিউ সেদিন ছিলাম রাজপথে। এসব কথা তারই আজ বলতে পারতেন- যারা বেঁচে নেই। শহীদ মমতাজ উদ্দিন আর সাংসদ আবুল কালামরাই আমার সম্পর্কে বলতে পারতেন- আমি বেনুটা কেমন ?

গোপালপুর পৌরসভায় ২৩ হাজার ভোটার। মাত্র ৫ বর্গকিলোমিটারের এই পৌরসভাকেও বাসযোগ্য নগরায়ন গড়ে তুলতে ব্যস্ত ছিলেন না। বেনু বলেন- আমি নিজে গ্রুপিংয়ের রাজনীতি করিনা। কাউকে করতে উৎসাহ দেই না। মাদক, সন্ত্রাস আর জঙ্গীবাদ এই তিনটি হচ্ছে উন্নয়নের প্রধান বাধা। মাদকের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান জিরো টলারেন্স। এদিকে আওয়ামী লীগের প্রবীণ ও নবীন নেতাকর্মীরা দলীয়ভাবে মেয়র হিসেবে বেনুকেই পছন্দের তালিকায় রেখেছেন। এখানে বর্তমানে ভোটারদের মাঝে ২০% নবীন ও দলীয় নেতা কর্মীরা আগামীতে তাকে জয়ী করতে এখন থেকে তার পিছনে একাট্টা। সারাজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করে আসছি । এবার চাইব মেয়র হয়ে কিছু একটা অবদান রাখতে। এজন্য আমার এমপি যথেষ্ট সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আমার বিশ^াস। ভোটারদের নাগরিক জীবনের চাহিদা পূরণে, আর জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকান্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে চাই। গোপালপুর পৌরসভার ড্রেনেজ সিস্টেম, ড্যাম্পিং ব্যবস্থাসহ স্ট্রিট লাইট ও পয়ঃনিষ্কাশন আরো উন্নত করা হবে, তবে সেটা বাজেট ও বরাদ্দের ওপর নির্ভর করে।

সংবাদ প্রকাশঃ  ১১১০২০২০ইং (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like সিটিভি নিউজ@,CTVNEWS24   এখানে ক্লিক করে সিটিভি নিউজের সকল সংবাদ পেতে আমাদের পেইজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুনসিটিভি নিউজ।। See More =আরো বিস্তারিত জানতে লিংকে ক্লিক করুন=   

Print Friendly, PDF & Email