না’গঞ্জে আ’লীগ অফিসে বোমা হামলা ট্রাজেডি ২১ বছরেও বিচার পায়নি নিহতের স্বজনরা

সিটিভি নিউজের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন

সিটিভি নিউজ, এম আর কামাল, নারায়ণগঞ্জ থেকে জানান : নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসে সবচেয়ে ঘৃণিত ও ভয়াবহ একটি দিন ১৬ জুনের বোমা হামলা। যা আজও অনেককে করে শিহরিত। ২০০১ সালের এই দিনে চাষাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পেছনে অবস্থিত আওয়ামী লীগ অফিসে শামীম ওসমানের পূর্ব নির্ধারিত গণসংযোগ কর্মসূচি চলাকালে রাত পৌনে ৯টায় বোমা হামলা চালানো হয়।
রাত পৌনে ৯টায় ভয়াবহ ওই বোমা হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন ২০জন। নিহত ছাড়াও শামীম ওসমানসহ অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। বোমা হামলায় পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন শামীম ওসমানের ব্যক্তিগত সহকারি (তৎসময়কার) এবং বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আহ্বায়ক চন্দন শীলসহ অনেকেই।
এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হলেও দীর্ঘ ২১ বছরেও বিচারকাজ শেষ না হওয়ায় বিচার পাওয়া নিয়েই হতাশ নিহতের স্বজনরা।
বোমা হামলার ঘটনায় নিহতরা হলেন-
শহর (সাবেক) ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি সাইদুল হাসান বাপ্পী, সরকারি তোলারাম কলেজ ছাত্রছাত্রী সংসদের সাবেক জিএস আকতার হোসেন, তাঁর ছোট ভাই সংগীত শিল্পী মোশারফ হোসেন মশু, সংগীত শিল্পী নজরুল ইসলাম বাচ্চু, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন ভাসানী, নারায়ণগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবিএম নজরুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা সাইদুর রহমান সবুজ মোল্লা, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী পলি বেগম, ছাত্রলীগ কর্মী স্বপন দাস, কবি শওকত হোসেন মোক্তার, পান সিগারেট বিক্রেতা হালিমা বেগম, সিদ্ধিরগঞ্জ ওয়ার্ড মেম্বার রাজিয়া বেগম, যুবলীগ কর্মী নিধু রাম বিশ্বাস, আব্দুস সাত্তার, মো. আবু হানিফ নূরী, এনায়েত উল্লাহ স্বপন, আব্দুল আলীম, শুক্কুর আলী, স্বপন রায় ও অজ্ঞাত এক মহিলা।
এদিকে, ১৬ জুন চাষাড়া আওয়ামী লীগ অফিসে হামলার ২১ বছরেও শনাক্ত করা যায়নি নিহত হওয়া অজ্ঞাত নারীর পরিচয়। সেদিনের ওই নারী কে ছিলেন, কোথা থেকে এসেছিলেন তিনি, এর কোনো খোঁজ ২১ বছরেও মিলেনি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী আজও পর্যন্ত তার পরিচয়, ঠিকানা এবং এখানে আসার কি কারণ ছিলো তার সন্ধান দিতে পারেনি।
আওয়ামী লীগ দলীয় নেতাকর্মীরাও জানেন না ওই মহিলাটি কে ছিলেন, এমনকি আজও পর্যন্ত ওই মহিলার কোনো স্বজনও খোঁজ করেনি তাকে। যার ফলে অজ্ঞাত সেই মহিলি আজও অজ্ঞাতই রয়ে গেছেন। রেখে গেছে কিছুটা রহস্যও। তবে এই অজ্ঞাত মহিলাটি কে ছিলেন, তা জানার যে আগ্রহ, কৌতূহল মানুষের মাঝে তা বুঝি আর কখনোই শেষ হবার নয়।
যদিও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বলেছিলেন, ঘটনার দিন শামীম ওসমানের পূর্বনির্ধারিত গণসংযোগ কর্মসূচি ছিলো। এই কর্মসূচিতেই হয়তো কারো সাথে না কারো সাথে ওই মহিলা এসেছিলেন। তারপরও প্রশ্ন থেকে যায়, মহিলাটি যদি কারো সাথে এসেই থাকেন তাহলে তিনি নারায়ণগঞ্জের হবেন। আর তা হলে তার পরিবার থেকে কেউ না কেউ তাকে খুঁজতে আসতেনই। কিন্তু দীর্ঘ ২১ বছরেও কেউ তার খোঁজ নেননি।
অভিযোগ রয়েছে, বোমা হামলার ঘটনায় ২১ বছর ধরে কেবল রাজনীতিই হয়েছে, বিচারের দাবিতে জোরালো কোনো পদক্ষেপ কেউ গ্রহণ করেনি। বোমা হামলা ঘটনার পর দায়ের করা দু’টি মামলায় আদালতে চার্জশিট দেয়া হয়েলেও বিচারকার্য সম্পন্ন করা এখনও পর্যন্ত সম্ভব হয়ে ওঠেনি। প্রতিবছর এ দিনটি ঘটা করে পালন করা ছাড়া আর কিছুই হয়নি।
তবে সূত্র বলছে, চার্জশিট প্রদানের পর থেকে এখনও পর্যন্ত স্বাক্ষ্য গ্রহণই শেষ করতে পারেনি। যার কারণে এই মামলার রায় প্রদান করা সম্ভব হয়নি ২১ বছরেও। ১৬ জুন বোমা হামলার ঘটনায় নিহত ২০ জনের মধ্যে একজন নারীর পরিচয় আজও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। কে ছিল সে নারী তার হদিস এখনও পর্যন্ত জানাতে পারেনি আইনন্তৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ আওয়ামী লীগ দলীয় কেউ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৬ জুন বোমা হামলায় হতাহতের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলার একটি হত্যা ও অপরটি বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা। দুটি মামলার বাদী নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা।
দুইটি মামলায় জেলা বিএনপির তৎকালিন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে প্রধান করে বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনের মোট ২৭ জনকে আসামি করা হয়। মামলাটি এখন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে বিচারাধীন।
ওই মামলার অন্যতম ভিকটিম নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেন, নৃশংস এ ঘটনার ২১ বছর হয়ে গেল। কিন্তু বিচার পেলাম না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ১৯৭১ সালের ঘাতকদের বিচার করেছে, জাতীয় ৪ নেতার হত্যাকারীদের বিচার করেছেন। আমার বিশ্বাস তিনি ১৬ জুন বোমা হামলার বিচারও করবেন।
তিনি বলেন, ঘাতকরা সেদিনের সেই বোমা হামলা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে করেছিল। আমার জন্যই নিরপরাধ ২০ জনের প্রাণ ঝরে গেছে। এজন্য আমি নিজেই অনুতপ্ত। নিহতদের স্বজনদের কাছে আমি এজন্য করোজোরে ক্ষমা চাই।
শামীম ওসমান আরো বলেন, এ মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে দেখি ঘটনার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আমি যে বক্তব্য দিয়েছিলাম তা পরিবর্তন করে ফেলা হয়েছে। এজন্য আমি আদালতে সাক্ষ্য না দিয়ে এ মামলার অধিকতর তদন্ত দাবি করেছি।
দেশজুড়ে আলোচিত এ সংসদ সদস্য আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জ জঙ্গিদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। মাঝেমধ্যেই নারায়ণগঞ্জে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান মেলে। ঢাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসে তাদের গ্রেপ্তার করে।
হলি আর্টিসানের মাস্টারমাইন্ড তামিম চৌধুরী নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় আত্মগোপনে ছিল। জঙ্গিদের ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তেমন উদ্যোগী দেখা যায় না। সেজন্য তিনি নারায়ণগঞ্জে আরও যোগ্য ও চৌকস কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানান।
সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আবদুর রহিম বলেন, হত্যা মামলায় ৫৬ জন এবং বিস্ফোরক মামলায় ৮২ জন সাক্ষী রয়েছেন। দুটি মামলায় মোট ২৩ জন সাক্ষী দিয়েছেন। তবে ওই ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী এবং ঘটনার ভিকটিম সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান এখনও সাক্ষ্য প্রদান করেননি।
গত বছরের ২৩ মার্চ তার সাক্ষ্য প্রদানের কথা থাকলেও করোনার কারণে তার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্ভব হয়নি। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তিনি আদালতে উপস্থিত হয়ে ১৬ জুনের বোমা হামলার ঘটনার পুনঃতদন্ত দাবি করেন।
অ্যাডভোকেট আবদুর রহিম আরও বলেন, করোনার কারণে গত ২ বছর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ বিঘিœত হয়েছে। এখন আদালতের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে। আমাদের চেষ্টা থাকবে দ্রুত সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করা। আগামী ২৩ জুন এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য রয়েছে বলে জানান তিনি।
মামলার বাদী অ্যাডভোকেট খোকন সাহা বলেন, গত ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৩ সালে আমাকে না জানিয়েই আদালতে মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া হয়। আমরা এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হই এবং ২০০৮ সালের ১৭ আগস্ট উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ২ মে ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়। এরপর ২০১৫ সালে মামলার বিচার কাজ শুরু হয়।
তিনি বলেন, করোনা মহামারির কারণে গত ২ বছর আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। আমরা আশা করি, এখন এ মামলার কার্যক্রমে গতি আসবে।
এদিকে চার্জশিটে অভিযুক্ত ৬ জনের দুইজন দেশের কারাগারে ও দুইজন ভারতের কারাগারে এবং একজন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ও অপর একজন দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত শুরু করে সিআইডি।
এর এক যুগ পর তথা ২০১৪ সালে ২ মে ৯৪৭ পাতার চার্জশিট প্রদান করে সিআইডি। চার্জশিটে বিএনপির ৩১ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং অভিযুক্ত করা হয় ৬ জনকে।
চার্জশিটে অভিযুক্তরা হচ্ছেন-
ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানার ঝিলটুলী গ্রামের নজরুল বারীর ছেলে আনিসুল মোরসালিন এবং তার ভাই মাহবুবুল মোত্তাকিন, ক্রসফায়ারে নিহত যুবদল নেতা মমিনউল্লাহ ডেভিড ও মাহবুবুল্লাহ তপনের ছোট ভাই শাহাদাত উল্লাহ জুয়েল, হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান, উত্তর চাষাড়া এলাকার ওবায়দুল হক এবং বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন কিসমত হাশেমের ছোট ভাই ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু।
তাদের মধ্যে মোরসালিন ও মোত্তাকিন দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ভারতের একটি কারাগারে রয়েছেন। তাদের এদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। তারা ১৬ জুন বোমা হামলার সাথে সম্পৃক্ত থাকার কথাও স্বীকার করেছেন। মুফতি হান্নান ও শাহাদৎউল্লাহ জুয়েল ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলাও মামলায় অভিযুক্ত। তাদের একজন কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অপরজন মুফতি হান্নানের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছে।
অপর দুই অভিযুক্তর মধ্যে ওবায়দুল হক দীর্ঘদিন ধরে বিছানায় শায়িত এবং শওকত হাসেম শকু ১২ নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাকে প্রায় সময় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমানের সাথে দেখা যায়।
এদিকে, ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বোমা হামলার ঘটনায় নিহত চা দোকানি হালিমা বেগমের ছেলে আবুল কালাম বাদি হয়ে শামীম ওসমান, তার ভাই নাসিম ওসমান, সেলিম ওসমান সহ আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও এর সহযোগী সংগঠনের ৫৮ নেতাকর্মীকে আসামি করে একটি মামলা করেন। পরবর্তি সময়ে উচ্চ আদালত এ মামলাটি খারিজ করে দেন।
এমন নাটকিয়তায় এবং ২০০৩ সালে আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট করার মধ্য দিয়ে চাঞ্চল্যকর এই বোমা হামলা মামলাটি চলে যায় হিমাগারে।
২০০৩ সালের উভয় মামলার ফাইনাল রিপোর্টে যা বলা হয়-
মামলায় উল্লেখিত ২৭ জনের কেউই চাষাড়া আওয়ামী লীগ অফিসে ১৬ জুন ২০০১ সালের বোমা হামলায় জড়িত নয়। যদি ভবিষ্যতে অত্র মামলার তথ্য সম্বলিত ক্লু পাওয়া যায় তবে, মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার ব্যবস্থা করতে হবে।’
নিহতের স্বজন ও আহতরা যা বললেন-
১৬ জুনের বোমা হামলায় নিহত হয়েছিলেন শহর ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুল হাসান বাপ্পী। তার ছোট ভাই ও নাসিকের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না বলেন, অতীতে এই মামলাটি নিয়ে অনেক রাজনীতি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ২০১৩ সালে মামলার চার্জশিট দেওয়ার পর বিচারের আশায় বুক বেঁধেছিলাম।
কিন্তু গত ২১ বছরেও বিচারকাজ শেষ না হওয়ায় বিচার পাওয়া নিয়েই হতাশ হয়ে পড়েছি। চার্জশিটভুক্ত ৬ জনই এত বড় ঘটনা ঘটিয়েছেন তা কোনোভাবেই বোধগম্য নয়। তারপরেও যদি বিচারকাজ শেষ হতো তাহলে নিহতদের আত্মা শান্তি পেতো। আমি নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানাচ্ছি।
সেদিনের ঘটনায় দুই পা হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করা আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য চন্দন শীল বলেন, সেদিনের ঘটনায় যেহেতু বেঁচে গেছি তাই বিচারটা দেখে যেতে চাই। আশা করি, বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের বিমুখ করবেন না।    সংবাদ প্রকাশঃ  ১৬-০-২০২২ইং সিটিভি নিউজ এর  (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like  See More =আরো বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন=  

Print Friendly, PDF & Email