গোমতী পাড়ের ফসলী জমির সবুজ হাঁসি তলিয়ে গেছে ঘোলা জলে

সিটিভি নিউজের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন

সিটিভি নিউজ।।        এবিএম আতিকুর রহমান বাশার ঃ েগোমতী নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে দেবীদ্বার এলাকার বেরীবাঁধ সংলগ্ন চরেরসবুজ ফসলী মাঠে কৃষকের হাসি তলিয়ে গেছে পাহাড়ী ঘোলা জলের¯্রােতে। ডুবন্ত বাড়ি ঘরের লোকজন বাড়ি ছেড়ে বেরীবাঁধের উপরসহবিভিন্ন নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।সম্প্রতি উজানে অতিবৃষ্টি এবং পাহাড়ী ঢলে পানির চাঁপে গোমতীনদীর পানি বৃদ্ধির ফলে দেবীদ্বার এলাকার গোমতী নদীর উভয় পাশের
বেরীবাঁধ সংলগ্ন চরের প্রায় শতাধিক কৃষক পরিবারের স্বপ্ন ৮০ হেক্টরজমির আবাদী ফসল তলিয়েগেছে ও বেরীবাঁধের অভ্যন্তরের আবাসিক এলাকার কয়েকশত বাড়ি ঘর, দোকান পাট, মসজিদ মাদ্রাসাসহ
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পানি উঠেছে । ভূক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে কারোকারো ঘর পানির শ্রোতে ভেসে গেছে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে উপজেলার দেবীদ্বার, শিবনগর, বিনাইপাড়,বড়আলমপুর, বারেরারচর, খলিলপুর, লক্ষীপুর, চান্দপুর, রঘুরামপুর, জাফরগঞ্জএলাকা ঘুরে ওই দৃশ্য দেখা যায়।
গতকাল সোমবার রাত ৯টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত গোমতী নদীরবেড়ীবাঁেধর অভ্যন্তরের অধিবাসীদের মাইকিং করে নিরাপদে সড়ে যেতেনির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সার্র্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোআশিক- উন-নবী তালুকদারকে আহবায়ক ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়নকর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে ৭ সদস্যের একটি মনিটরিং টিম
গঠন করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় ৪টিসেচ্ছাসেবক টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আক্রান্ত এলাকায় সরবরাহের  জন্য শুকনা ও প্যাকেটজাত খাবার প্যাকেট তৈরী রাখা হয়েছে। প্রশাসনেরপক্ষথেকে সকল কার্যক্রম পরিচালনায় সর্বসাধারনের জন্য একটি কন্ট্রোল   রোম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা মোঃ আব্দুর রৌফ জানান, শুধু মাত্র গোমতী
নদীর বেড়ীবাঁধের ভেতরে ৬৫ হেক্টর আউস, ১৫ হেক্টর শাকসব্জী, ২ হেক্টর
আখ, ১ হেক্টর তিল, ১ হেক্টর মরিচ ও ২ হেক্টর মিষ্টি আলু অন্যান্য ফসলসহ
প্রায় ৮৬ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে। যা পানিতে নিমজ্জিত
অবস্থায় আছে। পানি দির্ঘস্থায়ি হলে ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে, ২/১
দিনের মধ্যে পানি কমে গেলে ক্ষতির পরিমান কম হবে।
বারেরার চর গ্রামের কৃষক বাবুল মিয়া জানান, আমি ৫০ শতাংশ
জমিতে লাউ চাষ করেছি। পানিয়ে তলিয়ে যাওয়ায় বিরাট ক্ষতির
সম্মূখীন হলাাম। আব্দুল আলিম জানান, ৪০ শতাংশ জমিতে শশা আবাদ
করেছি। ব্যাপক ফলন হলেও পানি সব শেষ করে দিয়ে গেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ গোলাম মাওলা জানান,
গোমতী বেড়ীবাঁধ এর অভ্যন্তরের আবাসিক এলাকার জাফরগঞ্জ ইউপির
গংগানগর- ৪৭টি, রঘুরামপুর- ৩০৫টি এবং পৌর এলাকার বড়আলমপুর
গ্রামের- ১৪২টি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের তালিকা প্রনয়ন করা হয়েছে।
এখনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরী হয়নি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পানিউন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয়
প্রকৌশলী মোঃ সেলিম মিয়া জানান, আজ (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা ৬টা
পর্যন্ত কুমিল্লার অংশে গোমতী নদীর পানি কমলেও দেবীদ্বারের অংশে
পানি বৃদ্ধি অব্যাত আছে। গত রাতে (সোমবার রাতে) ঘন্টায় ৬ সেন্টি
মিটার পানি বৃদ্ধি পেলেও আজ সন্ধ্যায় পানির উচ্চতা ৭.৭ সেঃমিঃ
বেড়েছে। গড়ে প্রতি ঘন্টায় ২-৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ
এলাকা ঝুকিপূর্ণ অবস্থানে নাকি ঝুকিমুক্ত তা নিশ্চিত করে বলতে
পারছিনা।
দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আশিক-উন-নবী তালুকদার
জানান, যে কোন দূর্যোগ মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি।
পাউবোর লোকজনসহ আমরা গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি ও ঝুকিপূর্ণ
স্থানগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে আসছি।

সংবাদ প্রকাশঃ  ২১-০-২০২২ইং সিটিভি নিউজ এর  (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like  See More =আরো বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন=  

Print Friendly, PDF & Email