এটিএম তরিকত উল্লাহর বিরুদ্ধে ভূমি দখলের অভিযোগ!

সিটিভি নিউজের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন

সিটিভি নিউজ।।   কুমিল্লা সংবাদদাতা:   কুমিল্লা মহনগরীর প্রিয়জন টাওয়ারে ১৮ জুলাই বিকাল ৩টায় সাংবাদিক  এ টি এম তরিকত উল্লাহ ও তাহার লোকজনদের বিরুদ্ধে  প্রতারণার অভিযোগ এনে  সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।   কুমিল্লা বাদুরতলা এলাকার কানাই কুমার দাস।এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন.মা নিবাসী রানী দাস ও বোন হীরা দাস। সংবাদ সম্মেলনে  কানাই কুমার দাস বলেন, আমি কানাই কুমার দাশ ও আমার ভাই বিজয় কুমার দাস বিগত ১৯৯২ ও ১৯৯৬ সালে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন অন্তরগত ১০নং ওয়ার্ড বাদুরতলা সাকিনস্থ ১নং কান্দিরপাড় (ভুৃতোদা’র টাইপ স্কুলের গলি) হোল্ডিং নং-৪৫০-০১ এর ৮ শতক ভূমি সাবকবলা দলিল মূলে খরিদ করি। আমরা উক্ত ভূমি ভোগ দখলে নিয়া বাড়ি ঘর নির্মাণ করি। আমার ভাই বিজয় কুমার দাস বর্তমানে খুবই অসুস্থ এবং আমার আরেক ভাই জাপানে বিগত দুই মাস পূর্বে মৃত্যু বরণ করায় তাহার সৎকার কাজ এবং দেশে অসুস্থ বিজয় কুমার দাস সম্পুর্ণ পক্ষাগাতগ্রস্ত ও বাক শক্তিহীন তাহার চিকিৎসার কাজে ব্যস্ত থাকি। এই সুযোগে আমার ভাতিজা চন্দ্রজীত দাস গুপ্তের সাথে কথিত সাংবাদিক ও মুক্ত বাংলা আউট সোর্সিং এবং এটিএম গ্রæপের চেয়ারম্যান মোঃ তরিকত উল্লাহর সাথে পরিচয় হয়। এই সূত্র ধরিয়া সে আমার ও আমার ভাইয়ের জায়গায় বাসা ভাড়া নিয়া থাকে। আমার ভাতিজার নিকট থেকে আমার আমেরিকা প্রবাসী বোনের মোবাইল নাম্বার নিয়া তাহার সাথে যোগাযোগ করে। আমার বোনকে উল্টাপাল্টা বুঝাইয়া তাহার নিকট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। এক পর্যায়ে মোঃ তরিকত উল্লাহ আমাদের অনুপস্থিতিতে আমাদের জায়গার ভূয়া জাল দলিল সৃজন করিয়া মালিকানা দাবী করিয়া আমাদেরকে হয়রানী করে। এই জাল দলিল বাতিলের বিরুদ্ধে আমি বাদী হয়ে কুমিল্লা বিজ্ঞ আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করি যাহা বর্তমানে চলমান আছে। যাহার মোকদ্দমা নং-৬০০/২০১৯। কুমিল্লা ভূমি অফিসে সৃজিত খতিয়ান বাতিলের বিবিধ মামলা নং-২৭৭/২০-২১ চলমান আছে। এছাড়াও মোঃ তরিকত উল্লাহ ও তাহার ভাড়াকৃত লোকজন আমার ও আমার ভাইয়ের নামে খরিদা জায়গা তাহার দখলে নেয়ার চেষ্টা করিতেছে। আমি তাহাকে বুঝানোর চেষ্টা করি ও আমার দালিলিক কাগজ পত্র দেখাই। এরপরও মোঃ তরিকত উল্লাহ তাহার নিয়োজিত কেয়ার টেকার মোঃ আনোয়ার ভাড়াকৃত লোকজন দিয়া আমাদের জায়গায় বিদ্যমান গৃহাদী জোর পূর্বক অন্যায়ভাবে দখল করার চেষ্টা করিতেছে। আমি তাহার অন্যায় কাজে বাঁধা দিতে গেলে সে ও তাহার লোকজন আমাকে প্রাণে হত্যা করিবে বলিয়া হুমকী ধমকী দেয়। আমি বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলর ও গন্যমাণ্য ব্যক্তিদের জানাইয়া সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করি। এ টি এম তরিকত উল্লা আমাদের খরিদা জায়গা জোর পূর্বক অন্যায়ভাবে দখলের চেষ্টায় ভূয়া ও জাল দলিল সৃজন করিয়া উক্ত জায়গা নিজের বলিয়া দাবী করিতেছে। আমাদের জায়গা দখল করিয়া অবৈধ ইমারত নির্মাণের চেষ্টার বিষয়ে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করিলে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ অনুমোদনহীন কোন ইমারত থাকিলে ভেঙ্গে দেওয়ার নোটিশ প্রদান করে। এরপরও মোঃ তরিকত উল্লা ও তাহার লোকজন রাতের অন্ধকারে গোপনে বে আইনীভাবে আমাদের জায়গা দখল করে ইমারত মির্মাণ কাজ করার চেষ্টা করিতেছে। আমি কুমিল্লা বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৫ ধারার মামলা দায়ের করি। যাহার পিআর মামলা নং-৮০৩/২০২২। উক্ত মোকদ্দমা তদন্ত থাকাকালে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার এস আই কর্তৃক আমাদের উভয় পক্ষকে নোটিশ প্রদান করে এবং উক্ত ভূমিতে শান্তি শ্খৃলা রক্ষার্থে স্থিতিবস্থা জারি করে। এরপরও মোঃ তরিকত উল্লাহ নোটিশ অমান্য করিয়া তাহার নিয়োজিত কেয়ার টেকার মোঃ আনোয়ারসহ তাহার নির্মাণ শ্রমিকদের দিয়া গোপনে রাতের অন্ধকারে নির্মাণ কাজ করার চেষ্টা করিতেছে। আমাদের বিল্ডিং-এ অজ্ঞাতনামা দুশচরিত্রা মহিলার মাধ্যমে মাদক সেবন ও অনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি টাকার বিনিময়ে অবৈধ পন্থায় আমাদের বাড়ির গ্যাস লাইন ও বিদ্যুৎ মিটার তাহার নামে ইস্যু করে। আমি ও আমার লোকজন গত ৯ জুলাই সকাল বেলা আমার খরিদা জায়গায় গেলে আমাদের ভবনে থাকা অবৈধ লোকজন আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে ও আমাকে মেরে ফেলার হুমকী ধমকী দেয়। মোঃ তরিকত উল্লা আমার ও আমার ভাইয়ের জায়গা জোর পূর্বক দখল করিয়া আমাদের জায়গায় বেআইনীভাবে অবৈধ নকশা অনুমোদনহীন ইমারত নির্মাণ করিয়া ফ্লাট বানিয়ে অন্যত্র বেচা বিক্রি করার পায়তারা করিতেছে। আমি খোঁজ খবর নিয়া নিশ্চিত হই যে, অভিযুক্ত এ টি এম তরিকত উল্লাহ  নিজেকে এটিএম গ্রæপের চেয়ারম্যান পরিচয় দেয় ও মুক্ত বাংলা আউটসোর্সি নামীয় ভূয়া প্রতিষ্ঠানের নামে পোস্টার লিফলেট ছাপিয়ে প্রচার প্রচারণা করিয়া বিভিন্ন লোকজনদের নিকট থেকে টাকা নিয়া প্রতারণা করিয়াছে এবং কেিতছে, পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে থাকিয়া জামিনে মুক্তি পাইয়াছে সে একজন দখলবাজ ও চাঁদাবাজ প্রকৃতির তাহার নামে একাধিক মামলা আছে। তাহার ক্ষমতার অপব্যবহারে আমরা আজ হয়রানীর স্বীকার। সে কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানাধীন রাজাপুর ইউনিয়নের শংকুচাইল গ্রামের মৃত এ টি এম শামছুল হক ও শওকত আরা বেগমের ছেলে। তিনি আরও বলেন, এ টি এম মোঃ তরিকত উল্লাহ ও তাহার লোকজন কর্তৃক আমাদের জায়গা জবর দখলের চেষ্টা ও আমাদের অন্যান্য সম্পত্তি সু কৌশলে তাহার আয়ত্তে আনার চেষ্টায় লিপ্ত আছে। এ সকল অপরাধ কর্মকান্ডের দরুন তাহার দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবী জানিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেছেন। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন  মা নিবাসী রানী দাস, বোন হিরা রানী গুপ্তা।

অভিযোগের বিষয়ে এটিএম তরিকত উল্লাহ বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন। জায়গাটি হচ্ছে বিজয় দাসের। আমি বিজয় দাস থেকে ক্রয় করেছি। বিজয় দাসের ভাই কানাই দাস জায়গাটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। অসৎ ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে ষড়যন্ত্র মূলক আমাকে নিয়ে এসব করছে।আমি আইনীভাবে মোকাবেলা করবো।

সংবাদ প্রকাশঃ  ১৯-০-২০২২ইং সিটিভি নিউজ এর  (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like  See More =আরো বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন=  

Print Friendly, PDF & Email