ইসলামে নফল সিয়ামের গুরুত্ব

সিটিভি নিউজের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন

বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহিম
ইসলামে নফল সিয়ামের গুরুত্ব
মুহা. সহিদুল ইসলাম
সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
শংকুচাইল ডিগ্রি কলেজ
মোবাইল: ০১৭১১৯৫৩৮১৬

সিটিভি নিউজ।। মুক্তকলাম।       ‘নফল সিয়াম’ বা অতিরিক্ত রোযা পালন ইসলামের একটি মৌলিক অনুসঙ্গ ইবাদত। ফরয ইবাদতের ঘাটতি বা ত্র“টি বিচ্যুতি পুরণ সর্বোপরি আল্লাহ তায়ালার অধিক যিকির (স্মরণের) জন্য মুমেন ব্যক্তির নিয়মিত আমল যেমন-নফল সালাত, নফল সিয়াম, দান-সাদকা, ভালো চিন্তা, কিংবা কুরআন তিলাওয়াত। রাসুল সা. এর নিয়মিত আমলই আমাদের জন্য সুন্নাত বা অনুসরণীয় কাজ। আবু দাউদ শরিফের ১৮নং হাদিসে পাওয়া আম্মাজান হযরত আইশা রাঃ বর্ণনা করেন রাসুল রাঃ সর্বাবস্থায় আল্লাহর যিকিরে নিমজ্জিত থাকতেন “আলা’ কুল্লিা আহইয়ানিহি” আল্লাহু তায়ালা সুরা বাকারার-১৫২ নং আয়াতে বলেছেন “তোমরা আমাকে স্মরণ করো তাহলে আমিও তোমাদের স্মরণ করবো:। সুরা বাকারার ২৩৯ নং আয়াতে বলা হয়েছে-“ তোমরা সেভাবে আল্লাহকে স্মরণ করো যেভাবে স্মরণ (যিকির) আল্লাহ তোমাদের শিক্ষা দিয়েছেন। যদিও তোমরা এর আগে আল্লাহর যিকির (স্মরণ) জানতে না”। মানুষ আল্লাহ তায়ালার বান্দা বা গোলাম (দাস) গোলামের কাজ-কর্ম হলো সর্বাবস্থায় মালিকের গোলামী করা, কোনো ভাবেই মনিবের আনুগত্য বা গোলামীর বাহিরে যাওয়া যাবে না।
পূর্ণ ১ মাস সিয়াম সাধনার পর আল্লাহর বান্দাগণ যেন সর্বদা সিয়ামের আওতায় তথা গোলামীতে আবদ্ধ থাকে সেজন্যে রাসুল (সা.) আমাদের কিছু-সিয়াম শিক্ষা দিয়েছেন- আসুন জেনে নেই শরিয়তের নফল বা অতিরিক্ত সিয়ামসমূহঃ-
১। প্রত্যেক আরবি মাসে রাসুল সাঃ কিছু না কিছু সিয়াম পালন করতেন-যেমন-মুসলিম শরিফের ২৬০৭ হাদিসে পাওয়া যায় হযরত আবদুল্লাহ ইবনে শাকীক (রাঃ) হযরত আইশা রা কে জিজ্ঞেস করলে “রমযান মাস ছাড়া রাসুল সাঃ অন্যান্য মাসে কী সিয়াম পালন করেছেন?” আইশা রাঃ জবাব দিলেন এমন কোন মাস অতিবাহিত হয় নাই যে মাসে কিছু সিয়াম (রোযা) রাসুল সাঃ রাখেন নাই, কিংবা এমন মাস যায় নাই রাসুল (রাঃ) কিছু না কিছুদিন রোযা ভাঙ্গে নাই”। – এই হাদিস দ্বারা প্রতীয়মান হয় রাসুল সাঃ প্রত্যেক মাসে কিছু না কিছু সিয়াম পালন করেছেন।
২। শাওয়াল মাসের ৬ রোযা এক বছরের সিয়ামের সমান মর্যাদা। হযরত আবু আইয়ুব আনসারি (রাঃ) বর্ণনা করেন মুহাম্মাদুর রাসুল সাঃ বলেছেন ‘যে ব্যক্তি রমযানে এক মাস সিয়াম পালন করবে অত:পর শাওয়াল মাসে ৬টি রোযা আদায় করবে তাহলে সে যেন “কাসিয়ামুদ দেহার”- পূর্ণ এক বছর সিয়াম পালন করলো, অর্থাৎ সাওয়াল মাসের ৬টি সিয়াম পূর্ণ এক বছর রোযা পালনের সমান সওয়াব বান্দার আমল নামায় লিখা হবে-মুসলিম-২৬৪৮।
৩। আরাফার দিনের ১টি সিয়াম এক বছরের পূর্বের এবং এক বছরের ভবিষ্যতের গুনাহ মাফের সুযোগঃ- যেমন-হযরত কাতাদা রাঃ বলেন রাসুল সাঃ বলেছেন আরাফার দিনের সিয়াম (৯ যিলহজ্জ) আমি আল্লাহ তায়ালার নিকট আশাবাদী এক বছরের পূর্বের এবং এক বছরের পরের গুনাহ তিনি ক্ষমাহ করে দেবেন। (মুসলিম-২৬৩৬) তাই যারা হজ্বের বাইরে থাকবে তাদের উচিত এই আরাফার দিনের সিয়াম পালন করা।
৪। মুহাররাম বা আশুরার দিনের সিয়াম-
হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন রাসুল সাঃ বলেছেন আল্লাহ তায়ালার নিকট রমযানের পর সবচেয়ে উত্তম সিয়াম মুহাররমের সিয়াম (রোযা), আর ফরয সালাতের পর সর্বোত্তম সালাত (নামায) হচ্ছে রাতের সালাত অর্থাৎ তাহাজ্জুদ সালাত। বুখারী ১২৬১ এবং মুসলিম হাদিস নং-২৬৪৫। মুসলিম শরিফের ২৬৩৬ নং হাদিসে পাওয়া যায় আশুরার সিয়াম পালনে আমি আশা করি আল্লাহ তায়ালা অতীতের এক বছরের অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।
৫। পাক্ষিক বা “আইয়ামে বিযের” রোযা।
ক) প্রত্যেকে চাঁদের ১৩, ১৪, ১৫ তারিখের সিয়াম কে আইয়্যামে বিযের সিয়াম বলে। এর ফযিলত সম্পর্কে আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন আমার বন্ধু রাসুল সাঃ বলেছেন আমার বন্ধু (রাসুল সাঃ) আমাকে তিনটি উপদেশ দিয়েছেন মাসে যেন ৩টি সিয়াম পালন করি ২) প্রতিদিন-২ রাকাত দোহার (চাশত) এর সালাত আদায় করি।
৩) ঘুমানোর পূর্বেই যেন ভিতর এর সালাত পড়ে নেই- বুখারি-১৯৮১
মুসলিম-৭২১
খ) হযরত আবু যরকে রাসুল সাঃ নির্দেশ দিলেন হে আবু যর প্রতি মাসের ১৩, ১৪ এবং ১৫ তারিখ তুমি সিয়াম পালন করবে-হাদিস তিরমিযি-৭৬১
৬। সাপ্তাহিক সিয়াম (সোম ও বৃহ:বার) এর গুরুত্বঃ
ক) বিশিষ্ট সাহাবি আবু কাতাদা আল-আনসারি রাঃ বর্ণনা করেন রাসুল সাঃ কে সোমবার রোযা পালন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তর দিলেন সোমবার আমি জন্ম গ্রহণ করেছি; এই দিন আমাকে নবুয়ত দেয়া হয়েছে এবং এই সোমবারেই আমার নিকট কুরআন ওহী অবতীর্ণ শুরু হয় তাই এইদিন আমি সিয়াম পালন করি। যেহেতু রাসুল সাঃ সোমবার সিয়াম পালন করেছেন সুতরাং এইদিন সিয়াম পালন আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
খ) এছাড়া তিরমিযি শরিফের ৭৪৭ নং হাদিসে পাওয়া যায় রাসুল সাঃ বলেছেন প্রত্যেক সোমবার এবং বৃহ:বার আল্লাহ তায়ালার নিকট বান্দার সাপ্তাহিক আমলগুলো উপস্থাপন করা হয় তাই আমি যে ঐ ২দিন সিয়াম অবস্থায় থাকি-এটাই আমি পছন্দ করি।
৭। হযরত দাউদ (আঃ) এর রোযা একদিন পরপর অর্থাৎ ৬ মাসঃ- হযরত কাতাদা (রাঃ) বর্ণনা করেন রাসুল (সাঃ) নির্দেশ দিয়েছেন “তোমরা একদিন সিয়াম রাখো আর একদিন সিয়াম ভাঙ্গো, কেননা এটা দাউদ আঃ এর সিয়াম এবংএটাই উত্তম সিয়াম- বোখারী-১৯৭৬ মসলিম-২৬১৯।
সুতরাং বুঝা যায় আল্লার স্মরণের জন্য রাসুল (সাঃ) প্রতিমাসেই কিছু না কিছু সিয়াম পালন করেছেন। তাই আমাদের উচিত রাসুল (সাঃ) এর আনুগত্য পালনে প্রতিমাসে কিছু না কিছু সিয়াম পালন করা। আল্লাহ তায়ালা আমাদের তৌফিক দান করুন। আমিন! । (এটি লেখকের নিজস্ব মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।)

সংবাদ প্রকাশঃ  ১২-০-২০২২ইং সিটিভি নিউজ এর  (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like  See More =আরো বিস্তারিত জানতে ছবিতে/লিংকে ক্লিক করুন=  

Print Friendly, PDF & Email