আমার বিরুদ্ধে নাঙ্গলকোট উপজেলা চেয়ারম্যান সামছুউদ্দিন কালু অপ-প্রচার চালাচ্ছেন== শাহজাহান মজুমদার

সিটিভি নিউজের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন

সিটিভি নিউজ।।    মজিুবর রহমান মোল্লা    সংবাদদাতা জানান ===============
নাঙ্গলকোট উপজেলা পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান মজুমদার অভিযোগ করে বলেন, নাঙ্গলকোট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সামছুউদ্দিন কালু আমার বিরুদ্ধে অপ-প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি তার পিতাকে নিয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত যুদ্ধাপরাধ মামলা সম্পর্কে বলতে গিয়ে গত ৮ জুলাই তার নাঙ্গলকোটস্থ নিজস্ব কার্যালয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে আমাকে টেনে এনে কিছু মন্তব্য করেন। পত্রিকায় সংবাদ এসেছে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যানের পিতার বিরুদ্ধে কোলাবরেটস স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে মামলা ছিল। স্বাধীনতা পরবর্তী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আমলে এ মামলা হয়। এটি একটি আইনী বিষয়।
নাঙ্গলকোট উপজেলা পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা শাহজাহান মজুমদার গতকাল শনিবার ঢাকাস্থ তার ব্যবসায়িক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি এ বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বেশি কিছু বলতে চাই না। বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে আমার কোন ব্যক্তিগত বিরোধ নেই। মাননীয় অর্থমন্ত্রী নাঙ্গলকোট থেকে প্রথম এম পি নির্বাচিত হওয়ার পর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়। একটি স্বচ্ছ কাউন্সিল ভোটের মাধ্যমে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আমি শাহজাহান মজুমদার ৭২ ভোট, সামছুউদ্দিন কালু ৩৪ ভোট ও রফিকুল হোসেন ২৬ ভোট পান। পরে আমি উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। সে থেকে সামছুউদ্দিন কালু আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে বিভিন্ন সময়ে মিথ্যাচার করছেন। সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তার বক্তব্য তার অংশ মাত্র। আমি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং এই মিথ্যাচারের বিচার নাঙ্গলকোটবাসীর উপর ছেড়ে দিলাম। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের ২নং সেক্টর সাব কমান্ডার আ জ ম মহসিন ভূঁইয়া, সাংবাদিক সায়েম মাহবুবসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
শাহাজাহন মজুমদার বলেন, ১৯৭৯ সালে সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের একজন কর্মী হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়াকে জয়লাভের জন্য কাজ করি। ১৯৮৬ সালে আবার জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া নমিনেশান পাওয়ার পর আমাদের মৌকরা ইউনিয়নে তিনি এম পি নির্বাচনে ৯হাজার ৫শ ভোট পান। ১৯৭৯ সালে এবং ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমার ভূমিকার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া এবং থানা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবে আমাকে কো-অপশনে থানা আওয়ামীলীগের সদস্য করা হয়। ১৯৮৭ সালে আওয়ামীলীগ বিরোধী দলে ছিল। জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ১৯৮৭ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ওই বছরের ২৬ অক্টোবর জাতীয় পর্যায়ে উপজেলা ঘেরাও কর্মসূচী ছিল। ওই দিন জাতীয় পার্টির হামলায় যুবলীগ নেতা আবদুল হামিদ শহীদ হন এবং শত-শত নেতা-কর্মী আহত হন। ওই সময়ে সামছুউদ্দিন কালু উপজেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯৮৮ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শহীদ আব্দুল হামিদের কবর জেয়ারত করেন। এবং ২৬ অক্টোবরকে নাঙ্গলকোট দিবস ঘোষণা করেন। ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার পক্ষে কাজ করি। ওই সময়ে বিএনপির সন্ত্রাসীরা আমার বাড়িতে হামলা করে। ১৯৯১ সালে আমার বাড়িতে হামলার পর আমি শপথ করি, পরবর্তী নির্বাচন সমূহে আওয়ামীলীগ প্রার্থীকে জয়লাভের জন্য আমার জীবনে অর্জিত অর্থ এবং শ্রম-ঘাম ব্যয় করবো। ১৯৯৬ সালে জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া নির্বাচিত হওয়ার পর ক্ষমতার মধু আহরণের জন্য চারদিকে স্বার্থন্বেষী লোকের ভিড় করতে থাকেন। এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১৯৯৭ সালের ২৭ মার্চ জাতীয় পার্টি থেকে সামছুউদ্দিন কালু আওয়ামীলীগে যোগদান করেন। উক্ত যোগদান অনুষ্ঠানে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কেউ উপস্থিত ছিল ন। এথেকে শুরু হয় নাঙ্গলকোটে গ্রুপিং। নবাগতরা মজু গ্রুপ নামে কার্যক্রম শুরু করেন। ম থে মদ এবং জ থে জুয়া। এরা এদুটি জিনিষকে ভিত্তি করে নিজেদের করায়ত্ত করতে থাকে কর্মীদের। ব্যক্তি বন্দনা এবং ব্যক্তি রাজনীতি বিস্তার লাভ করতে থাকে। এক পর্যায়ে জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়াকে মজু গ্রুপ জিম্মি করে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিতে থাকেন। তারা জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার পিছনে যড়যন্ত্র করতে থাকেন। জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার পরিবারের লোকজন মজু গ্রুপের উপর ক্ষুদ্ধ হলে মজু গ্রুপ মধ্যপ অবস্থায় জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার বাসায় আক্রমণ করেন। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে এ মজু গ্রুপের লোকজন ভোট কেন্দ্রে ছিল না। তাদের কারণে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া ফেল করেন। এখন নিজেদের দোষ ঢাকতে ‘‘উদর পিন্ডি ভোদড় ঘাড়ে’’ চাপানোর চেষ্টা চলছে। যে নেতার কারণে রাজনীতি শিখেছি সে নেতা জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার মৃত্যুর পর আমরা স্মরণ সভা করতে পারিনি। ২০০৫ সালে ময়ুরা হাইস্কুল মাঠে আমি স্মরণ সভার আয়োজন করি। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমি উপস্থিত ছিলাম।
শাহজাহান মজুমদার আরো বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান সামছুউদ্দিন কালু, ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার পরাজয়ের পিছনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য আমিসহ কিছু আওয়ামীলীগ নেতার ঢাকায় কোরআন শরীফ শপথের যে অভিযোগ করেছেন। তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার বিপক্ষে কাজ করার প্রশ্নই উঠে না। দীর্ঘ ২০বছর পর আমার বিরুদ্ধে অহেতুক মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট, মনগড়া কথা বানিয়ে বলা হচ্ছে। সামছুউদ্দিন কালু যদি এবিষয়টি প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে আমি আওয়ামীলীগের রাজনীতি ছেড়ে দেব। সামছুউদ্দিন কালুর বাবার বিষয়ে সাংবাদিক আমাকে প্রশ্ন করলে, আমি একটি বইয়ে যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামী হিসেবে তার বাবার নাম থাকার কথা বলেছি। এটা আমার নিজের কথা নয়। এছাড়া আমরা ওই সময়ে চৌদ্দগ্রামের অধীনে ছিলাম। উনারা লাকসামের অধীনে ছিলেন। ওনার বাবার বিষয়ে আমি কিছুই যানি না। ১৯৭১ সালের যারা রাজাকার ছিলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যাদের বিরুদ্ধে সু-স্পষ্ঠ অভিযোগ পান নাই তাদেরকে সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা দেন। কিন্ত যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে শুধুমাত্র তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
শাহজাহান মজুমদার বলেন, আমি উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালীন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পিয়ন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ, কাজী নিয়োগ স্বচ্ছতার সাথে কাজ করেছি। কেউ আমার বিরুদ্ধে এক টাকাও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করতে পারেনি। টিআর, কাবিখা, এডিবিসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ শতভাগ আদায় করেছি। আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জামায়াতের ১৬ জন চেয়ারম্যান আমার সাথে কাজ করেছে। আমি বিএনপি, জামায়াতের কোন ক্ষতি করি নাই। আমার বেতন-ভাতার ২০হাজার ৫০০শ টাকা নাঙ্গলকোট ফাউন্ডেশনে দান করেছি। আমার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ সময় আমি রাজনীতি করতে গিয়ে নষ্ট করেছি। আমার রাজনৈতিক জীবনের স্বার্থকতা হচ্ছে, শেখ হাছিনার প্রধানমন্ত্রী হওয়া। বর্তমানে পূর্বেকার সেই মজু গ্রুপ নাঙ্গলকোট প্রশাসনে প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করছে এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছে। তারা নিজেরা আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হচ্ছে। অবৈধভাবে কোটি-কোটি টাকা আয় করে সম্পদের পাহাড় গড়ছে। আমি চাই এসবের অবসান ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের কল্যাণমূলক কাজে আওয়ামীলীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত হয়ে রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধী মুক্ত দেশ গড়বে।
সামছুউদ্দিন কালুর নাঙ্গলকোট থেকে বিতাড়িত হওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শাহাজাহান মজুমদার বলেন, একটি তুলাতুলি হাইস্কুল এবং আমার বাবার নামে হিরমত আলী মজুমদার প্রাইমারি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছি এবং বামপাড়া মাদ্রাসার দাতা সদস্য হিসেবে আছি। এছাড়া আমার প্রয়াত মেধাবী সন্ত্রান শাকিলের নামে শাকিল ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করে এলাকার দুঃখী মানুষের সহযোগিতা করে যাচ্ছি। গরীব-অসহায় শিক্ষার্থীদের বৃত্তির ব্যবস্থা করছি। বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম করে যাচ্ছি। নাঙ্গলকোট থেকে বিতাড়িত হওয়ার প্রশ্নই উঠে না। নাঙ্গলকোটের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার বিষয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি মাননীয় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সিদ্ধান্তে বাহিরে নয়। অর্থমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত দেবেন। আমি সে সিদ্ধান্ত মেনে নেব।

সংবাদ প্রকাশঃ  ১৭-০-২০২২ইং সিটিভি নিউজ এর  (সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে দয়া করে ফেসবুকে লাইক বা শেয়ার করুন) (If you think the news is important, please share it on Facebook or the like  See More =আরো বিস্তারিত জানতে ছবিতে/লিংকে ক্লিক করুন=  

Print Friendly, PDF & Email